ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৯ জুন ২০১৭

প্যারেন্টিং

নিরাপদ মাতৃত্ব : গর্ভবতী পরিচর্যা

ডা: আবু আহনাক

০৯ মে ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৭:৪৬ | আপডেট: ০৯ মে ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:০৩


প্রিন্ট

গর্ভাবস্থায় ভারী কাজ না করাই ভালো। অতিরিক্ত পরিশ্রম করার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। দৈনিক দুপুরে দুই ঘণ্টা, রাতে আট ঘণ্টা বিশ্রাম বা নিদ্রা প্রয়োজন। সর্বদা বাঁ দিকে কাত হয়ে শোয়া উচিত, কারণ গর্ভাবস্থায় বিকশিত জরায়ু মায়ের পেটের ভেতরের বড় বড় রক্তনালীর ওপর চাপ দিয়ে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। ফলে শিশুর দেহে রক্ত সঞ্চালনে বাধার সৃষ্টি হতে পারে। যার কারণে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ কম হতে পারে এবং শিশুর বিপদ বেশি হতে পারে।

গর্ভধারণের লক্ষণ
১। মাসিক বন্ধ হওয়া
২। বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
৩। ক্লান্তিভাব
৪। ক্ষুধামন্দা
৫। বারেবারে প্রস্রাব হওয়া
৬। স্তনে ব্যথা অনুভূত হওয়া অথবা স্তনের স্ফিতি
৭। অতি মাত্রায় সাদা স্রাব
৮। বেশি মাত্রায় গন্ধ অনুভূত হওয়া

গর্ভধারণের পরীক্ষা
মাসিক বন্ধ হওয়ার সাত দিন পরেই গর্ভবতী মায়ের প্রস্রাবে গর্ভের কারণে সৃষ্টি হওয়া হরমোন এসে যায়। মাত্র দুই ফোটা প্রস্রাব পরীক্ষা করলেই গর্ভ সৃষ্টি হয়েছে কি না তা ধরা পড়ে। বাড়িতে নিজেই প্রেগন্যান্সি কিট দিয়ে এ পরীক্ষা করা সম্ভব। এমন কি মাসিক বন্ধ হওয়ার কয়েক দিন আগেই রক্তের ‘এলিসা’ পরীক্ষা করে নির্ণয় করা সম্ভব গর্ভসঞ্চার হয়েছে কি না।

সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ
শেষ মাসিকের প্রথম দিনের সাথে নয় মাস এবং সাত দিন যোগ করলে সম্ভাব্য প্রসবের দিন ধার্য করা যায়। এজন্য শেষ মাসিকের তারিখ মনে রাখা খুব জরুরি। তবে মাসিকের দিন মনে না থাকলে- আলট্রাসনোগ্রাফি করে প্রসবের সম্ভাব্য প্রসবের দিন ধার্য করা যায়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
গর্ভধারণ হয়েছে সন্দেহ হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মাসিক বন্ধ হওয়ার ২৫-২০ দিন পরে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

যেসব পরীক্ষা প্রয়োজন
(ক) রক্ত পরীক্ষা। রক্তের গ্রুপ, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ভিডিআরএল পরীক্ষা করা।
(খ) প্রস্রাব পরীক্ষা : প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা, প্রোটিন ইত্যাদি আছে কি না, তা ভালো করে দেখা হয়।
(গ) আল্ট্রাসনোগ্রাফি : সাধারণত ১৬ সপ্তাহের মধ্যে একবার এ পরীক্ষা করে দেখা হয়। এতে বাচ্চার পরিমাপ, হার্টের গতি, শিশুর কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি আছে কি না তা জানা যায়।
(গ) অ্যামনিওসিন্টেসিস : মায়ের বয়স যদি ৩৫ বছর বা তার বেশি হয়, কিংবা শিশুর জন্মগত কোনো ত্রুটি সন্দেহ করা হয়, তখন এ পরীক্ষা করা হয়।

গর্ভাবস্থায় শরীরের যত্ন :
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত গোসল করা ও শরীর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। কখনো কখনো স্তনের বোটা থেকে রসাল পদার্থ বেরিয়ে সেখানেই জমাট বেঁধে যায়। তাই রোজ গোসলের সময় স্তন পরিষ্কার করতে হবে। কারো কারো স্তনবৃন্ত স্তনের ভেতরে ঢুকে থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন স্তনবৃন্ত টেনে বাইরের দিকে ওঠাতে হবে অলিভ অয়েল লাগিয়ে। এটা না করলে প্রসবের পর শিশুকে দুধ খাওয়ানো সম্ভব হবে না। এতে স্তনে দুধ জমে গিয়ে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ সময়ে স্তনের আকৃতি অনুযায়ী সঠিক পরিমাপের বক্ষ আবরণী ব্যবহার করা উচিত। তাছাড়া এ সময়ে ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত। দাঁত ও মাঢ়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে। গর্ভাবস্থায় ভারী কাজ না করাই ভালো। অতিরিক্ত পরিশ্রম করার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। দৈনিক দুপুরে দুই ঘণ্টা, রাতে আট ঘণ্টা বিশ্রাম বা নিদ্রা প্রয়োজন। সর্বদা বাঁ দিকে কাত হয়ে শোয়া উচিত, কারণ গর্ভাবস্থায় বিকশিত জরায়ু মায়ের পেটের ভেতরের বড় বড় রক্তনালীর ওপর চাপ দিয়ে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। ফলে শিশুর দেহে রক্ত সঞ্চালনে বাধার সৃষ্টি হতে পারে। যার কারণে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ কম হতে পারে এবং শিশুর বিপদ বেশি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় সব সময় হালকা ব্যায়াম করা উচিত। গর্ভের প্রথম তিন মাস ও শেষ দেড় মাস যৌন সহবাস করা উচিত নয়। এতে গর্ভপাত ও সময়ের আগে প্রসব এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫