মা তোমাকে ভালোবাসি

নাহিদ হাসান

পৃথিবীর কাছে মা তুমি শুধু একজন মানুষ, কিন্তু আমার কাছে তুমিই আমার সমগ্র পৃথিবী। আমার কাছে তোমার মতো মা আর নেই। আমার এই সুন্দর জীবন সে শুধু তোমারই অবদান- এভাবে মাকে কখনো নিজের মনের অনুভূতি বলা হয় না। কিন্তু মা দিবসে এ কথাগুলো সহজেই বলে যায় মাকে। মাকে আরো ভালো করে বোঝা যায়, মায়ের কাছাকাছি যাওয়া যায়। পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন যে জন তিনি হচ্ছেন মা। হৃদয়ের খুব কাছের একটি শব্দ মা। সন্তানের পুরো জীবনই আবর্তিত হয় মাকে ঘিরে। একজন মা তার সন্তানকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে লালন-পালন, শিক্ষা দেয়া, তার মধ্যে চারিত্রিক গুণাবলি গড়ে তোলা, জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রতিটি সমস্যায় তার পাশে থাকা পর্যন্ত সবসময় সন্তানের সাথেই থাকেন। কত কষ্ট করে সন্তানকে বড় করে তোলেন। সন্তান কাছে থাক বা দূরে থাক মায়ের মনে সবসময় তারা বাস করে। ত্যাগ সহনশীলতা ও ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক মা। একই সাথে কোমলতা ও কঠোরতা মিশে থাকে মায়ের স্নেহে।
একজন মা তার নিজের সব আনন্দ, সুখ, সম্পদ সন্তানের জন্য বিসর্জন দিতে পারেন অবলীলায়। শত হাতে তিনি হাজারো দায়িত্ব সামাল দেন প্রতিদিন শুধু সন্তানদের সুখ, সুবিধা বজায় রাখার জন্য। এমনকি সন্তানরা যখন বড় হয়ে যায় তখনও তাদের আবদার করার একমাত্র মানুষ হচ্ছেন মা। মায়ের কাছেই সন্তান খুঁজে পায় তার নির্ভরতা, নিরাপত্তা ও সান্ত্বনা।
সারা জীবন সেবা করেও সন্তান মায়ের অবদান শোধ করতে পারবে না। যদিও মা কখনো সন্তানের কাছ থেকে প্রতিদানের আশা করেন না, তবুও মায়েদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব অনেক। মায়ের এই অবদানকে তুলে ধরতেই প্রতি বছর পালিত হয় বিশ্ব মা দিবস। আমাদের দেশেও প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিনটি উদযাপিত হয়।বিশেষ এই দিনে মায়ের জন্য সন্তানরা ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেন বিভিন্ন উপায়ে। মাকে তার পছন্দের কোনো কিছু দিতে পারেন উপহার হিসেবে। তাকে নিয়ে বেড়াতে যেতে পারেন। একসাথে লাঞ্চ বা ডিনার করতে পারেন অথবা তার পছন্দের কোনো খাবার রান্না করতে পারেন। ভাইবোনরা সবাই একসাথে মায়ের সাথে কাটাতে পারেন বিশেষ এই দিনটি। অর্থাৎ মাকে যে তার সন্তানরা ভালোবাসে, তার প্রতি তারা যত্নশীল এটা বোঝাতে পারাটাই সবচেয়ে বড় কথা। আর এই বোঝাতে পারাতেই মায়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কারণ মায়ের একমাত্র চাওয়া তার সন্তানরা খুব ভালো থাকুক। দিনটিকে প্রতীক ধরে প্রতিটি সন্তানের জন্য প্রতিটি দিন হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানানোর দিন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.