ঢাকা, মঙ্গলবার,২৭ জুন ২০১৭

প্রশাসন

ব্যাংক কোম্পানি আইনে পারিবারিক পরিচালকদের সুযোগ বাড়ছে

বিশেষ সংবাদদাতা

০৮ মে ২০১৭,সোমবার, ১৯:২১


প্রিন্ট

ব্যাংক কোম্পানি আইনে পরিচালিত বাণিজ্যিক ব্যাংকে একই পরিবারের চারজনকে পরিচালক নিয়োগের পাশাপাশি পরিচালকদের টানা তিন মেয়াদে নয় বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগের বিধান যুক্ত করে আইনটি সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন ২০১৭-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

শফিউল আলম বলেন, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালকরা তিন বছর করে দুই মেয়াদে টানা ছয় বছর পরিচালক থাকতে পারেন। দুই মেয়াদ শেষে তিন বছর বিরতি দিয়ে আবারো তিন বছরের জন্য পরিচালক হতে পারেন। আইন সংশোধন হলে তিন বছর করে একটানা তিন মেয়াদে টানা নয় বছর তারা পরিচালক থাকতে পারবেন। নয় বছর মেয়াদ শেষে তিন বছর বিরতি দিয়ে পুনর্নিয়োগের সুযোগ পাবেন। তিন বছর বিরতি দিয়ে আমৃত্যু পরিচালক থাকতে আইনে কোনো বাধা নেই।

সংসদে এ আইনটি পাস হলে একটি ব্যাংকে এক পরিবারের চারজন একইসাথে পরিচালক থাকার সুযোগ পাবেন।

ব্যাংক পরিচালকদের সুযোগ বাড়িয়ে আইন সংশোধন করতে ব্যাংকারদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, কোনো ব্যাংকে একই সময়ে একই পরিবারের দুজনের বেশি সদস্য পরিচালক পদে থাকতে পারতেন না। ওই ধারা সংশোধন করে একই পরিবার থেকে চারজন পরিচালক করার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই পরিবার অর্থায়ন করে, ইনভেস্টমেন্টও তারাই করে। পারিবারিকভাবে ইনভেস্ট করেন এজন্য তাদের এফিলিয়েশন বা মায়া থাকে। ব্যাংক মালিকদের দাবি ছিল, যারা প্রতিষ্ঠাকালে পরিচালক হিসেবে ইনভেস্ট করেন তাদের পরে কিছু বলার থাকে না। অন্য লোকজন এসে মাঝখানে কিছু নিয়ে চলে যায়। যারা ফাউন্ডিং ডাইরেক্টরস, তাদের যেন একটা রোল থাকে।

তিনি বলেন, একই পরিবার থেকে কোনো ব্যাংকে চারজন পরিচালক থাকলে ‘ভালো-মন্দ দুটিই হতে পারে। ভালো মানুষরা হ্যান্ডেল করলে ভালো হবে। তাতে অনিয়ম বাড়বে কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেখা যাক, ভবিষ্যতই বলে দেবে।

শফিউল আলম বলেন, এতদিন বিশেষায়িত ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোকে পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনয়নের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হতো।

সংশোধিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচন বা মনোনয়নের পর তাকে নিয়োগ দেয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। পরিচালক পদে সরকার কাউকে মনোনয়ন দিলে তার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কাউকে নির্বাচিত বা মনোনীত করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তা অনুমোদন না দিলে তার নিয়োগ হবে না।

এ আইন সংশোধনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত কী ছিল জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, ১৯৯১ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন পাস হওয়ার পর থেকে বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালকদের মেয়াদ সম্পর্কিত ধারাটি পাঁচবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ধারাটি সংশোধন করা হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনে তিনটি ধারার পরিবর্তনে বাংলাদেশ ব্যাংকও সম্মতি দিয়েছে। সবাই সম্মতি দিয়েছে, ভালো হবে বলেই ভেবেছে সবাই, সেজন্যই সম্মতি দিয়েছে। স্টেকহোল্ডার যারা আছেন সবাই এর সাথে একমত হয়েছেন।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫