ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

বিরক্তিকর কল ও মেসেজ

কাজী সুলতানুল আরেফিন

০৭ মে ২০১৭,রবিবার, ১৮:০০


প্রিন্ট

মোবাইল ফোন এখন মানুষের রাত-দিনের সঙ্গী। মোবাইল ফোন ছাড়া যোগাযোগ যেন কল্পনাতীত। এই মোবাইল আমাদের সুবিধা বেশি দিলেও মোবাইল কোম্পানিগুলোর কিছু বিষয় অনেকের কাছেই বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু কোম্পানি আমাদের দেশে প্রথম অবস্থায় মানুষের কাছ থেকে চড়া মূল্য বা বিল বাবদ খুব বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখনো অনেক দেশের তুলনায় আমাদের দেশে এই খাতে বেশি মূল্য বা বিল দিতে হয়। এ যেন একটি রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য খাতের মতো সব কিছুতেই শুধু বাংলাদেশীদের মাশুল বা চড়া মূল্য দিতে হয়।
সারা দিন খাটুনি খেটে আহার শেষে একটু বিশ্রামে গেলাম। প্রায় তন্দ্রাচ্ছন্ন। আচমকা মোবাইলের রিংটোন বেজে ওঠায় লাফিয়ে উঠে মোবাইল হাতে নিলাম। কল রিসিভ করতে যাবো ঠিক তখনই ডিসপ্লেতে দেখলাম কল প্রদানকারী মোবাইল কোম্পানির নম্বর। মাথা খারাপ হওয়ার উপক্রম হলো। কল রিসিভ না করেই লাইন কেটে দিলাম। পরদিন সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে অফিসে যাচ্ছিলাম।
পথে আবারো মোবাইল ফোন বেজে উঠল। অফিসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কল মনে করে মোটরসাইকেল থামিয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করলাম। একি আবারো সেই একই নম্বর! খুব বিরক্তিকর মনে হলো। একজন বলল, ফোন কোম্পানিগুলোর কল রিসিভ না করলে বারবার কল আসবে। এই ঝামেলা থেকে বাঁচতে পরে যখন কল এলো তাও আবার গভীর রাতে রিসিভ করলাম। অমুক অফার তমুক অফার! অমুক সেলিব্রেটির সাথে দেখা করতে চান? না তার সাথে থাকতে চান? অনেকটা এ ধরনের অফার। অনেক সময় কী বলেছে আগাগোড়া কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। তবে এটা বুঝেছি, আমি কিছুই অ্যাক্টিভ না করলেও কোনো কিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাক্টিভ হয়ে গেছে। কারণ তারা আমাকে থ্যাংকস জানিয়ে এসএমএস দিয়েছে। মোবাইল ফোন কোম্পানি তো আর এমনি এমনি থ্যাংকস দেয় না, সেটার বিল বাবদ কিছু টাকা চার্জ কেটে নিলো। এভাবে আরো কিছু জরিমানা দিয়ে পরে চালু প্যাকেজ অফ করলাম।
মেসেজ ইনবক্স ভরে গেছে অফারের পর অফারে। দিনে কয়টা মেসেজ দেয়া হয় মোবাইল কোম্পানি থেকে তার হিসাব কেউ দিতে পারবে কি না সন্দেহ আছে! এই যন্ত্রণায় এখন অনেকের গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ এলে তাও আর দেখা হয় না। অফার দেয়া দোষের কিছু নয়। তবে এ ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন থাকা উচিত।
কোনো সময় বিচার না করে গ্রাহকের ফোনে অযথা বারবার কল দিয়ে বিরক্ত করার কী মানে হয় বুঝি না। অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ ব্যাপারটায় যারপরনাই সবাই বিরক্ত। গ্রাহক চাইলে না হয় একটা কথা ছিল। আর এভাবে লোভ দেখিয়ে ফাঁদ তৈরি করে বিভিন্ন প্যাকেজ চালু করে টাকা হাতিয়ে নেয়া কিসের মধ্যে পড়ে? এটা কি প্রতারণার মধ্যে পড়ে না? আরো একটা বিষয় হচ্ছে- যেখানে দুর্বল সারা দিন শুধু লোডিং নিতে থাকে, সেখানে গতি নিয়ে এত চাপাবাজি করা হয় কেন? টিভিতে একটা কোম্পানির অ্যাড দেখলাম, ‘লাইন কেটে গেলেও নাকি জোড়া লেগে যায়।’ দেখে হাসি পেল। কোনো কোম্পানির সিম ব্যবহার করা মানে এটা নয় যে, তাদের এমন বিরক্তিকর সব কার্যকলাপ মেনে নিতে হবে। সিম বদলালেও শান্তি নেই প্রায় সবগুলো মোবাইল কোম্পানির কাজকারবার একই রকম। এসব বিষয়ে তদারকি আর নজরদারি করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫