ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

প্রযুক্তি দিগন্ত

ফেসবুকে অবহেলিত নারী প্রকৌশলীরা

০৬ মে ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শেরিল স্যান্ডবার্গ

ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শেরিল স্যান্ডবার্গ

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পুরুষের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণ কম। গুগলে কারিগরি কাজে মাত্র ৭০ শতাংশ, ফেসবুকে ১৭ শতাংশ এবং টুইটারে রয়েছেন মাত্র ১০ শতাংশ নারী। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশল বিভাগের পুরুষ কর্মীরা নারীদের তুলনায় বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। লিখেছেন সুমনা শারমিন
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে ফেসবুকে কর্মরত এক নারী প্রকৌশলী তার পুরুষ সহকর্মীর তুলনায় অনেক বেশিবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। সুনির্দিষ্টভাবে বললে তার উপস্থাপন করা কোড পুরুষ প্রকৌশলীর চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশিবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পরে নারী কর্মীটি ফেসবুকে তার কর্মজীবনের ইতি টানেন।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন প্রকৌশলীর কোড প্রত্যাখ্যান করার হার নির্ভর করে তার র‌্যাংকের ওপর; সেখানে লিঙ্গবৈষম্যের কোনো ব্যাপার নেই। সাবেক এক কর্মীর দেয়া যে তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তা অসম্পূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে যদি সত্যিকার অর্থেই কোনো অসামঞ্জস্যতা দেখা যায় তা নারী-পুরুষ বিচারে নয়, কর্মেেত্র জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে হতে পারে। তবে ফেসবুকের কিছু কর্মীর দাবি, কোম্পানির সম্পন্ন করা প্রতিবেদনের মাধ্যমে এটিই বোঝা যাচ্ছে, পুরুষ সহকর্মীর তুলনায় নারী প্রকৌশলীরা পদোন্নতির েেত্র পিছিয়ে।
ফেসবুকের কারিগরি বিভাগে মাত্র ১৭ শতাংশ নারীকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া নারী প্রকৌশলীদের উপস্থাপন করা কোড বেশিবার প্রত্যাখ্যান হওয়ার কারণে র‌্যাংকের দিক থেকে উপরে ওঠার গতিও শ্লথ হয়ে পড়ে। ফলে একরকম ধারণা হয়ে যায়, নারীকর্মীদের দতা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় কম। এতে করে পুরুষ প্রকৌশলীদেরই পদোন্নতির পথ মসৃণ হয়ে ওঠে।
কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শেরিল স্যান্ডবার্গ। তার প্রতিষ্ঠানে নারী প্রকৌশলীরা লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হচ্ছে এমন দাবিকে তিনি এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি ফেসবুকের প্রথম
প্রান্তিকের ফলাফল নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে কোম্পানির অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে দেন স্যান্ডবার্গ। তিনি জানান, প্রতি ছয় মাস অন্তর আমরা কেম্পানির কার্যক্রম নিয়ে একটি সর্বাঙ্গীণ পর্যালোচনা করে থাকি। কোন কোন কর্মীকে পদোন্নতি দেয়া হবে ও তার কারণ কী এ বিষয়টিই সেখানে দেখা হয়। ফেসবুকের বিরুদ্ধে লিঙ্গবৈষম্যের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ঠিক নয়। নারী ও পুরুষ কর্মীদের আমরা সমান হারে পদোন্নতি দিয়ে থাকি।
সম্প্রতি ফেসবুকের নারী প্রকৌশলীদের লিখিত কম্পিউটার কোড পুরুষ সহকর্মীর তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেশিবার প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে এসব অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন স্যান্ডবার্গ। ফেসবুক ওয়ালস্ট্রিটের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করে দেখেছে। সেখানে দেখা গেছে, কোডগুলো প্রত্যাখ্যান করার পেছনের কারণ কোম্পানিতে কর্মীর অবস্থান; সেখানে লিঙ্গবৈষম্যের মতো কোনো ব্যাপার নেই। এ ছাড়া কোম্পানির প্রকৌশল বিভাগে জ্যেষ্ঠ পদগুলোয় পুরুষের হার বেশি, তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রস্তাবিত কোড গ্রহণের হারও বেড়ে যাবে।
স্যান্ডবার্গ এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, এ বিষয়টিকে আমি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখে থাকি। নিজের লেখা বইতেও তিনি নারীদের নিজের পেশাজীবন এগিয়ে নিতে আরো গতিশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্য দিকে ফেসবুকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি বিভাগের কর্মীদের ১৭ শতাংশই নারী।
সিলিকন ভ্যালিতে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ পুরনো। এটি এমন একটি ত্রে যেখানে এ ধরনের বৈষম্য খুবই স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। ২০১৫ সালে এরিকা বাকের নামে গুগলের এক প্রকৌশলী কোম্পানির কর্মীদের বেতনের তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, কোম্পানির নারী ও পুরুষ কর্মীদের বেতনের মধ্যে বিস্তর ফারাক। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত নারীরা পুরুষের চেয়ে ৯ শতাংশ কম আয় করেন। এ খাতে কর্মরত নারী-পুরুষের বার্ষিক বেতনের পার্থক্য থাকে প্রায় পাঁচ হাজার পাউন্ড। গবেষণাকারী সংস্থা হায়ারডের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। প্রযুক্তি খাতে নিয়োজিত নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যের েেত্র সারা বিশ্বেই এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রে এ বেতন-বৈষম্যের হার ৮ শতাংশ। আর কানাডায় এ হার ৭ শতাংশ। প্রযুক্তি খাতে নারীর প্রতি বেতন-বৈষম্যের হার সবচেয়ে কম অস্ট্রেলিয়ায়। দেশটিতে এ হার ৫ শতাংশ বলে জানিয়েছে হায়ারড। প্রযুক্তি খাতে কর্মরত নারীরা শুধু বেতন-বৈষম্যেরই শিকার নন। পদোন্নতি থেকে শুরু করে কাজের প্রতিটি েেত্রই একজন নারীকে তার সহকর্মী পুরুষের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫