ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

উভচর মাছ লাঙফিশ

মো: আবদুস সালিম

০৬ মে ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তোমরা হয়তো মনে করো মাছ মানেই জলজ কোনো প্রাণী। শুনলে অবাক হবে, ডাঙ্গায় থাকে এমন অবাক করা মাছও আছে পৃথিবীতে। এদের বলা হয় লাঙফিশ। ডাঙ্গায় বেঁচে থাকে বলেই মানুষের কাছে এরা বিশেষভাবে পরিচিত। আরো অবাক হবে এ কথা জেনে যে, লাঙফিশ বাঁচতে পারে পানি ছাড়া বছরের পর বছর। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, তবে এদের মাছ বলা হয় কেন?
আসলে লাঙফিশ দেখতে শিং, মাগুর ইত্যাদি মাছের মতোই। অনেকটা সাপের মতোও। এর স্বাদও প্রায় সাধারণ মাছের মতো। সাধারণ অন্যান্য মাছের মতো নয় এদের শ্বাসতন্ত্রের গঠন। এরা অক্সিজেন গ্রহণ করে সরাসরি বাতাস থেকে। অথচ অন্যান্য মাছ বাতাস নেয় পানির মধ্য থেকেই। লাঙফিশ শ্বাস গ্রহণ করে ডাঙ্গায় বাস করা প্রাণীদের শ্বাস নেয়ার মতো। দেখলে সহজে মনে হবে এরা ডাঙ্গারই মাছ। তবে এরা একেবারেই যে পানিতে থাকে না তা নয়। অর্থাৎ মাঝে মধ্যে এরা পানিতে যায়। আর শ্বাস নিতে হলে বারবার ভেসে উঠতে হয়।
খালবিল, জলাভূমির অগভীর স্থানেই এরা বেশি থাকে। অনেক সময় দেখা মেলে বড় বড় হ্রদে। বর্ষাকালে পানি যখন চার দিক থৈ থৈ, তখন ওরা অন্যান্য মাছের মতো স্বাভাবিক আচরণ করে। শুকনো মওসুমে পানি শুকিয়ে গেলে লাঙফিশ ইচ্ছা করেই কাদার ভেতর চলে যায়। এভাবে ওরা চলে যায় নিরাপদ গভীরে। তখন তাদের চামড়া থেকে বের হয়ে আসে এক প্রকার আঠালো পদার্থ। তারপর এক ধরনের শক্ত আবরণ তৈরি হয় শরীরের চার পাশে। অর্থাৎ ওই সময়ে এরা থাকে শীতনিদ্রায়। তখন এরা ব্যাপক কমিয়ে ফেলে বিপাকপ্রক্রিয়া। ফের বর্ষাকাল ফিরে এলে লাঙফিশ স্বেচ্ছায় কাদামাটির নরম অংশ থেকে বেরিয়ে আসে। তখন এদের স্বভাব পাল্টায়।
লাঙফিশের আরেক নাম সালামানদারফিশ। এই মাছ বেশি দেখা যায় আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়।
প্রাচীনকালে এরা স্বাদুপানির মাছ ছিল। প্রকৃতি পরিবর্তনের কারণে এদের আকার, স্বভাব ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটছে। পাঙ্গায়া, গণডোয়ানা ও লরাসিয়া মাছকে এখন এ শ্রেণীর মাছ বলে মনে করা হচ্ছে। এদের ফুসফুসে নানা ধরনের দাগ থাকে। বেশি থাকে প্রটপটেবাস ডল্লোই নামক লাঙফিশে। ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের জন্য এর প্রবেশমুখে রয়েছে প্রচুর বাতাস থলে। এ থলেতে এরা সংগ্রহ করা বাতাস মজুদ রাখে। এসবের মাধ্যমে এরা অক্সিজেন গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। আবার কিছু কিছু লাঙফিশের দু’টি ফুসফুস থাকে। তবে অস্ট্রেলিয়ার এ মাছে তা থাকে একটি। এরা বেশির ভাগ খায় মাছ, পোকামাকড়, উভচর প্রাণী, লতাগুল্ম ইত্যাদি। এরা দীর্ঘজীবী। এদের ফসিল গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা তা নিশ্চিত হয়েছেন। এমন এক প্রজাতির মাছের নাম কুইন্সল্যান্ড লাঙফিশ, যা দেখা যায় শিকাগোর শেড অ্যাকুরিয়ামে। ১৯৩৩ সাল থেকে শুরু করে এখনো তা দেখা যাচ্ছে এই অ্যাকুরিয়ামে। সুযোগ করে তোমরাও তা দেখে আসতে পারো। অর্থাৎ লাঙফিশেরা জলচর শুধু নয়, স্থলচরও।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫