ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

কওমি ছাত্ররা তবে কোন গ্রহের?

মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম

০৫ মে ২০১৭,শুক্রবার, ২০:৫৫ | আপডেট: ০৫ মে ২০১৭,শুক্রবার, ২০:৫৯


প্রিন্ট
ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

কওমি শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতি, এটা বাংলাদেশর প্র্রায় ১৪ লাখ কওমি ছাত্রের নাগরিক অধিকার। কারো অনুগ্রহ, দয়া, করুণা এসবের কিছুই নয়। আমাদের জানা দরকার, যে জাতি শিক্ষার মূল্য দিতে জানে না, সে জাতি কখনো সুন্দর আগামী গড়তে পারে না। স্বীকৃতি নামের এ অধিকার আমরা চেয়ে আসছি বহু আগ থেকে। ইতিহাস টানছি না। যে সরকারই ক্ষমতায় বসেছে, এ দেশের লাখ লাখ আলেম নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবি করে আসছেন। কেউ পাত্তাই দেয়নি, আবার কেউ কিছুটা টোপ দিয়ে আবার গা ঘুরিয়ে নিয়েছে। অবশ্যই এসব ক্ষেত্রে ছিল তাদের মধ্যকার তৃতীয় গোষ্ঠীগুলোর মারপ্যাঁচ। আমরা যদি বিএনপির আমলের দিকে তাকাই, তাহলে দেখব তারা ওলামায়ে কেরামের আন্দোলন আর দাবির মুখে কওমি স্বীকৃতির ঘোষণা পর্যন্ত দিলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। টোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অবশেষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতি দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমত ধন্যবাদ দিতে চাই সেদিনের গণভবনের অসাধারণ তাত্ত্বিক বক্তৃতার জন্য। তিনি তার ১০ মিনিটের কথায় চমৎকারভাবে বাংলাদেশের শিক্ষার সূচনা তুলে ধরেছেন এবং তিনি তা এভাবে ব্যক্ত করেন, আমাদের শিক্ষার সূচনাতেই আছে কওমি মাদরাসা। এখান থেকেই তো আমাদের শিক্ষার সূচনা। বাংলাদেশে ১৪ হাজার কওমি মাদরাসা আছে। ১৪ লাখ ছাত্র রয়েছে। দ্বীনি এলেম হলো মৌলিক শিক্ষা। এ শিক্ষা না থাকলে শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না। তিনি তার বক্তৃতায় আরো বলেন, সনদের স্বীকৃতি না থাকায় কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থীরা তেমন কিছুই করতে পারছেন না। সনদের স্বীকৃতি পেলে তারা আলোর দিশা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বীকৃতির ঘোষণা আসার পর থেকে সুবিধাভোগী কিছু মতলববাজ বাম বুদ্ধিজীবী, আর এক শ্রেণীর মোল্লা মিডিয়ায় একের পর এক গলাবাজি করে চলছেন। এমনকি তাদের পালিত চেলাচামুণ্ডাদের ব্যানার দিয়ে রাজপথে নামিয়েছেন। জনবিচ্ছিন্ন তাদের দেড়গণ্ডা মানুষের সমাবেশ! দেখে অবাক হইনি। সরকার কওমি আলেমদের সাথে বৈঠককে তারা ধর্মান্ধদের সাথে আপস বলে চেঁচামেচি করার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেনÑ ‘আলেমদের কথা মেনে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে পরাজিত করেছেন।’ আমরা নীরব-নিভৃতে ওইসব মহলের কাছে জানতে চাই, আচ্ছা এ দেশের ১৬ লাখ কওমি ছাত্র কি এ দেশের নাগরিক নয়? এদের অধিকার বলতে কি কিছুু নেই এ দেশে? তবে কেন আজ তাদের প্রাপ্য অধিকারের পেছনে আপনারা চেঁচামেচি করছেন? বাংলার ইতিহাস তো আমরাও জানি। আপনারা ভুলে যাবেন না, কওমি শিক্ষা এ দেশের একমাত্র শিক্ষা কারিকুলাম, যেটার ওপর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, শিক্ষক পেটানো এসবের কোনো দাগ নেই। তাই সাবধান (!) আপনাদের উদ্ভট এ গলাবাজি বন্ধ করুন। যোগ্যদের মূল্যায়ন দিন। গড়ে তুলুন এক ভ্রাতৃত্ববোধের বাংলাদেশ। শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
nazmulmonjurbd@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫