ঢাকা, রবিবার,২৮ মে ২০১৭

ইসলামী দিগন্ত

শাবান রমজানের প্রস্তুতির মাস

হাবীবুল্লাহ সিরাজ

০৫ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

শাবান মাস অতি গুরুত্বপূর্ণ মাস। আরবি মাসের অষ্টম মাস। শাবান আরবি শব্দ-এর অর্থ শাখা-প্রশাখা। এ মাসে আল্লাহ মুমিন বান্দাদের বিভিন্ন ধরনের রহমত-বরকত দান করে থাকেন। এ কারণেই এ মাসকে শাবান মাস বলা হয়। এ ছাড়াও শাবান মাস রমজান মাসের পূর্ববর্তী মাস। রমজানের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে কার রমজান মাস কেমন কাটবে। প্রস্তুতি ভালো না হলে বেশি ভালো যাবে না রমজান। সুতরাং রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি এ মাসেই নিতে হবে।
শাবান মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত রাসূল সা: ইরশাদ করেনÑ ‘রমজান ও রজব মাসের মধ্যবর্তী এই শাবান মাস। এ শাবান সম্পর্কে মানুষ গাফেল ও উদাসীন থাকে, অথচ এ মাসে বান্দার আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আমি চাই আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ করা হোক যে, আমি রোজাদার’ (সুনানে নাসায়ি)।
অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এ মাসে সারা বছর মৃত্যুবরণকারী মানুষের নাম লিপিবদ্ধ করেন (রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, আমি চাই আমার নাম এমন অবস্থায় লিপিবদ্ধ করা হোক যে, আমি রোজাদার)।’
উল্লিখিত দুই হাদিস দ্বারা যে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে, শাবান মাসে রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ সা: এ মাসে অন্য নফল আমলের তুলনায় রোজা (নফল) বেশি রাখতেন। এ ছাড়াও রোজা রাখা এ কারণে কর্তব্য যে, সামনে মহিমান্বিত মাস রমজান। রমজান মাসের প্রস্তুতিস্বরূপ এ মাসে রমজান মাসের আমল করা। যেন রমজান শুরু হলে হঠাৎ করে রোজার কারণে শরীরিক কোনো অসুবিধার মধ্যে পড়তে না হয়। যদি আগে রোজার হালকা অভ্যাস থাকে তাহলে রমজান মাসে অসুবিধায় পড়তে হবে না। আর যদি অভ্যাস না থাকে তাহলে হয়তো রমজান মাসে অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। অন্য এক হাদিসে আছে রাসূলুল্লাহ সা: এ মাসের অল্প কয়দিন ছাড়া সব দিন রোজা রাখতেন। আরেক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সা: রমজানের পরে এ মাসেই অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন।
এখানে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলোÑ যারা নবীজীর আমলের মতো এ মাসে রোজা রাখেন ১৫ শাবানের পর থেকে আর রোজা না রাখা। বিশেষ করে শেষের দুই-তিন দিন। এর দু’টি কারণ, একটি হলো যে, যদি শাবান মাসেই রোজা রেখে ঘটনাচক্রে অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে রমজান মাসের রোজা রাখতে তার খুব কষ্ট হবে বা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা কখনো কাম্য নয়।
দ্বিতীয়ত, শেষের দিনগুলো সন্দেহপূর্ণ। রমজান না শাবান। তবে তাদের জন্য অনুমতি আছে, যারা নিয়মিত সপ্তাহের দুই-তিন দিন রোজা রাখেন। আর সেই দিনগুলো মাসের শেষে পড়ছে। বুখারির রেওয়ায়েতে আছে, হজরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যেন রমজানের এক দিন আগে, দু’দিন আগে রোজা না রাখে। ওই ব্যক্তি ছাড়া যে প্রতি মাসেই ওই দিন রোজা রাখে; (বুখারি)।
এ মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লাইলাতুল নিসফি মিন শাবান। বিশেষ একটি রাতের নাম। সর্বসাধারণের কাছে যা শবেবরাত নামে পরিচিত। এ রাতের ফজিলত অন্তত একটি সহি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
লোকসমাজে দেখা যায়, এ রাতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করে। মসজিদে হালুয়া-রুটি পাঠায়। এ সবের কোনো ভিত্তি কুরআন-হাদিসের কোথাও নেই। সুতরাং এসব অবশ্য বর্জনীয়।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫