ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

এ কালের রাজনীতি এবং বনু আমালিক তথ্য

গোলাম মাওলা রনি

০৪ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:২৬


গোলাম মাওলা রনি

গোলাম মাওলা রনি

প্রিন্ট

 

এ কালের রাজনীতি তথা ২০১৭ সালের বাংলাদেশের রাজনীতির হালহকিকত সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আমার কেন জানি বারবার পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বনু আমালিক এবং অভিশপ্ত বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের কথা মনে পড়ে গেল। সে তো বহুকাল আগের কাহিনী। খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় সাড়ে ১২০০ বছর আগের অর্থাৎ আজ থেকে তিন হাজার ২৫০ বছরের পুরনো ঘটনা। কিন্তু কাহিনী, প্রেক্ষাপট এবং পরিণতি যেন একটুও পুরনো হয়নি। সমসাময়িক দুনিয়ায় যেমন মোদি, ট্রাম্প, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রয়েছে, তেমনি তখনকার দুনিয়ায় ছিলেন প্রবল প্রতাবশালী ফেরাউন, কারুন, বনি ইসরাইল এবং বনু আমালিক। পার্থক্য শুধু একটাই- আর তা হলো সেকালের মতো একালে হজরত মূসা আ:-এর মতো উদ্ধারকারী কোনো নবী বা রাসূল নেই।
ঐতিহাসিক বনু আমালিক এবং অভিশপ্ত বনি ইসরাইলের কাহিনী বলার আগে বর্তমান জামানার রাজনীতির রূঢ় বাস্তবতা সম্পর্কে কিছু বলে নিই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইদানীং যারা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন, তারা তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গনিমতের মাল এবং সাধারণ জনগণকে আল্লাহর মাল বিবেচনা করে নিজেদের মেজাজ ও মর্জিমাফিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব করতে গিয়ে তাদের কোনো লাজলজ্জা, ভয়ভীতি, দ্বিধা-সঙ্কোচ যেমন নেই তেমনি জমিন ও আসমানের কোনো আইনকানুন যে পাত্তা দেয়ার দরকার আছে তা তাদের অভিব্যক্তি দেখলে একদম মনেই হয় না। বিষয়টি আরো একটু স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার জন্য গনিমতের মাল এবং আল্লাহর মাল সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা দরকার।
এ কথা আমরা সবাই জানি, যুদ্ধে বিজয়ী পক্ষ পরাজিত প্রতিপক্ষের শরীর ও সম্পত্তির ওপর যে নির্বিচার অধিকার অর্জন করে তাকেই গনিমতের মাল বলা হয়। যুদ্ধের এমনই নির্মম নিয়ম যে, বিজয়ী রাজার দেহরক্ষী কিংবা ঘোড়া রক্ষকও পেয়ে যেতে পারেন পরাজিত রাজাকে নিজের ক্রীতদাস হিসেবে। বিজয়ী রাজা পরাজিত রাজার স্ত্রী, কন্যাসহ হেরেমের সব সুন্দরী দাসী-বাঁদীর মালিক বনে যান রাতারাতি। তিনি ইচ্ছেমতো যাকে যখন এবং যেভাবে ইচ্ছে ভোগ করেন, ব্যবহার করেন কিংবা প্রিয়জনের মধ্যে বিতরণ করেন। অন্য দিকে পরাজিত রাজার ধনসম্পত্তিতেও বিজয়ী রাজার একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। গনিমতের মাল ব্যবহারের কোনো আইন-কানুন বা নীতিমালা নেই। এগুলো ব্যবহার করতে কোনো নীতি-নৈতিকতার বালাই কোনো জামানাতেই তেমন একটা ছিল না।
এবার আল্লাহর মাল সম্পর্কে কিছু বলা যাক। কোনো একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মাখলুকাত সম্পর্কে যখন ক্ষমতাবান ও দায়িত্ববানেরা আল্লাহ নির্দেশিত নিয়মকানুন, দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে সেই মাখলুকাতটিকে প্রকৃতির দয়ার ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজেরা উদাসীন থাকেন তখন উপেক্ষিত মাখলুকাতটিকে আল্লাহর মাল বলা হয়ে থাকে। সমাজ, সংসার কিংবা রাষ্ট্রের কাছে উপেক্ষিত জনগোষ্ঠী কিংবা প্রকৃতির কোনো বোবা প্রাণী অথবা বন-বনানী, পাহাড়-পর্বত, নদী-সমুদ্র বা জলাভূমি আল্লাহর মালের শ্রেণীভুক্ত হতে পারে। আল্লাহর মালের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- ক্ষমতাবান ও দায়িত্ববানরা সব সময় আল্লাহর মালদের নির্যাসটুকু গ্রহণ করেন অবলীলায় এবং নিজেদের প্রয়োজনে এসব মালসামান ব্যবহার করেন যথেচ্ছভাবে; কিন্তু ওগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিজেরা কোনো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন না করে অবলীলায় বলতে থাকেন- আল্লাহর মাল আল্লাহই রক্ষা করবেন। আমাদের দায়িত্ব হলো- নিজেদের প্রয়োজন ও মর্জিমাফিক মালগুলোকে ভোগদখল করা এবং মাঝে মধ্যে প্রিয়জনদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা। অন্য দিকে আমাদের কর্তব্য হলো- মালগুলোর ব্যবহার শেষ হয়ে গেলে বা প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ওগুলোকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে ফেলা।
গনিমতের মাল এবং আল্লাহর মাল বলে চিহ্নিত সম্প্রদায়ের অদ্ভুত কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোনো পক্ষ বা সম্প্রদায় তাদেরকে যতটা না গনিমতের মাল বা আল্লাহর মাল বলে মনে করেন তার চেয়েও বহুগুণ তীব্রতা এবং আন্তরিকতা নিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে গনিমতের মাল বা আল্লাহর মাল বলে মনে করে নির্দ্বিধায় এবং অবলীলায় নিজেদেরকে সঁপে দেন ক্ষমতাসীনদের চরণতলে নতুবা বিলিয়েছেন রাজ অন্তঃপুরের শাহী বালাখানায়। প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হওয়ার পর পরাজিত রাজ অন্তঃপুরে মাঝে মধ্যে বিষপানে অথবা অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে রাজ রমণীকুলের আত্মহত্যার খবর শোনা যায় বটে তবে তা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। সারা দুনিয়ার মধ্যে শুধু রাজস্থানের রাজপুত মহিলারাই এমনতরো কর্ম করতে পেরেছিল।
এবার প্রসঙ্গে ফেরা যাক- বাংলাদেশের রাজনীতি ইদানীং বড়ই আল্লাহ-নির্ভর হয়ে পড়েছে। সরকারবিরোধীরা কায়মনোবাক্যে চান- সরকারের পতন হোক। কিন্তু পতন তো দূরের কথা- সরকারকে একটু বেকায়দায় ফেলার জন্য কাজকর্ম ও সামান্য চিন্তাভাবনাটুকুও তারা করতে নারাজ। তাদের একটাই বক্তব্য- আল্লাহই বিচার করবে। আপনি যদি প্রশ্ন করেন কেন এবং কিভাবে আল্লাহ বিচার করবে তাহলে লক্ষ করবেন যে, তারা প্রথমেই তৃপ্তিসহকারে একগাল হেসে নেবেন। তারপর বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলবেন- আরে ভাই যে জুলুম, অত্যাচার, গুম, খুন, মামলা-হামলা, লুটপাট, দুর্নীতি, অনাচার, অবিচার এবং দখলের তাণ্ডব চলছে তাতে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত গোস্বায় থরথর করে কাঁপছে! এই যে ভূমিকম্প, হঠাৎ গরম, তারপর সারা দেশে নজিরবিহীন বজ্রপাতসহ কালবৈশাখীর তাণ্ডব- কী বুঝলেন! সবই আল্লাহর খেলা। একটু সবর করেন- আল্লাহর মাইর! দুনিয়ার বাইর- কী যে হবে কল্পনাও করতে পারবেন না।
আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন আল্লাহ কিভাবে করবেন! তবে তারা ফটাফট মুখস্থ বলে দেবেন, আল্লাহ হলেন মহাবিজ্ঞ এবং মহাকৌশলী। তিনি কিভাবে করবেন তা তিনিই ভালো জানেন- আমরা জানি না। তাদের এ ধরনের কথা শুনে আপনি হয়তো বলবেন- আল্লাহ তো জমিন পরিচালনা করেন তার বান্দাদের দিয়ে। তিনি আসমান থেকে ফেরেশতা নাজিল করে বাংলাদেশের এমপি, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী বানাবেন না। মানুষের মধ্য থেকেই ওসব পদের যোগ্য লোক খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় রয়েছেন তাদের চেয়ে সব বিষয়ে যদি বিরোধীপক্ষ আল্লাহ, রাসূল সা: এবং দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে ভালো বলে বিবেচিত না হন তবে কেন খোদায়ী সাহায্য আসবে! জমিনে বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি না হলে আল্লাহ সাধারণত কোনো পরিবর্তন অনুমোদন করেন না। তবে জমিনের বেশির ভাগ মানুষ দুরাচারে পরিণত হয়ে গেলে কখনো কখনো বিকল্প ছাড়াই আকস্মিক পরিবর্তন সাধিত হয়ে যায়। আর এটা হয় দুরাচার জনগোষ্ঠীকে শাস্তি দেয়ার জন্য।
আপনার তথ্য শোনার পর বিরোধী দলের লোকজনের কেউ কেউ হয়তো বলবেÑ ক্ষমতা চাই, আন্দোলনও করতে চাই! কিন্তু জেল-জুলুম, মামলা, হামলা, হত্যা বা গুমের ঝুঁকি নিয়ে ওসব কাজ করতে পারব না। আপনি যদি ব্রিটিশ, ভারত, পাকিস্তান জামানা কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশের ৭৪-৭৫ অথবা ৮৬-৯০ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তখন তারা সহাস্যে বলবেন- আরে ভাই তখন তো যুবক ছিলাম। টাকাপয়সা, বাড়ি গাড়ি, বউ বাচ্চা কিচ্ছু ছিল না। তা ছাড়া ওইসব জামানার মানুষের বুদ্ধিশুদ্ধি সরল সোজা এবং একরোখা ছিল। বর্তমান জামানায় হিন্দি সিরিয়াল দেখে মাথায় হাজারো ধান্দা এবং ফাঁকি দিয়ে মজা লোটার ফন্দিফিকির ঢুকে গেছে। আর ভেজাল দ্রব্য খেয়ে শরীর স্বাস্থ্য ও মন রোগাক্রান্ত এবং ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।
তারা আরো বলবেন- পুলিশের লাঠি ও বাঁশির দাপট কি আগের জামানায় এমনটি ছিল। চীন দেশ থেকে ইয়া বড় বড় সব গদাই মার্কা লাঠি আমদানি করা হয়েছে। এসব দেখলে শরীরের বিশেষ বিশেষ স্থানে শিরশির করতে থাকে। আর বাঁশির শব্দ শুনলে তো মনে হয় ইসরাফিল সিঙ্গায় ফুঁক দিয়েছেন। বক্তাদের মধ্যে রসিকজাতীয় একজন বলবেনÑ আরে ভাই! আগের জামানায় কি র‌্যাব ছিল। কালো পোশাক, কালো পাগড়ি, কালো চশমা, কালো অস্ত্র, কালো কুত্তা নিয়ে কালো গাড়িতে চড়ে ওরা যখন বিরোধী দলের অফিসের সামনে এসে দাঁড়ায় তখন হার্টবিট এবং শরীরের প্রেশার কেমন ওঠানামা করে তা কেবল ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন।
আলোচকদের মধ্যে একজন তার একটি স্বপ্নের কথা বলে আপনাকে হয়তো রীতিমতো চমকে দেবেন। একরাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, হঠাৎ করে র‌্যাবের একটি কালো কুকুর তাকে দেখে অকারণে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারপর কুকুরটি তার রক্ষকের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে একটি লাফ মেরে লোকটির পশ্চাৎ দেশে এক কামড় বসিয়ে দিয়ে চলে যায়। আহত লোকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার আপনজন কেউ তাকে দেখতে এলো না। তার সফল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, শত্রু এবং সমালোচকেরা দল বেঁধে তাকে দেখতে আসতে লাগলো। সবাই একগাল হেসে আহত লোকটিকে জিজ্ঞেসা করল- ভাই কুত্তায় কোথায় কামড় মেরেছে- একটু দেখিতো! তারপর তারা আহত লোকটির প্রতি কোনো সমবেদনা না জানিয়ে উল্টো কুকুরটির খোঁজখবর জিজ্ঞেস করতে শুরু করল- তারা বললো- কুত্তাটির অবস্থা কী! ওটি ভালো আছে তো- ওটির কোনো অসুখ হয়নি তো?
অদ্ভুত স্বপ্নের কবলে পড়ে লোকটি ঘুমের ঘোরে অঝোরে কেঁদে কেটে বুক ভাসালেন। ঘুম থেকে জাগার পর তিনি ভয়ে ও আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতে লাগলেন। ইচ্ছে হলো পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রীকে জাগিয়ে তুলে দুঃখের কথা খুলে বলবেন। কিন্তু আগ রাতের খটর মটরের কথা মনে হতেই তিনি আর এগোলেন না। এই ঘটনার পর লোকটির জীবনে অদ্ভুত এক পরিবর্তন চলে এলো। তিনি রাতের বেলা ঘর থেকে বের হন না। আর দিনের বেলায় রাস্তায় বা টেলিভিশনে কোনো র‌্যাবের গাড়ি দেখলে চোখ দু’টি বন্ধ করে উচ্চৈঃস্বরে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়তে শুরু করেন।
সরকারবিরোধীদের ভয়ভীতি, দ্বিধাদ্বন্দ্ব, আশা-আকাক্সক্ষা এবং স্বপ্নের ফিরিস্তি শোনার পর আমার অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া মেধাবী ও স্বাস্থ্যবান পুত্র রিশাদের কথা মনে পড়ে গেল। সে প্রায়ই আমার সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে আসে এবং রোজ একবার করে আমার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের উচ্চতা পরিমাপ করে। সে প্রায়ই আধুনিক প্রযুক্তি, খেলাধুলা এবং বিশ্ব সিনেমা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে এবং আমার সামনে তা জাহির করে নিজের পাণ্ডিত্য প্রমাণের চেষ্টা করে। কিন্তু রাত হলেই তার চেহারা পাল্টে যায়। পাঁচ বছরের শিশুর মতো সে তার মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে মায়ের সাথে ঘুমিয়ে পড়ে। আমি তাকে ভিন্ন রুমে একাকী ঘুমানোর কথা বললে সে একেক দিন আজব সব বাহানা হাজির করে। একদিন বলেÑ আজ রুমের পর্দাটা একটু বেশি নড়ছে। অন্য দিন বলে চাঁদটা একটু বেশি হলুদ হলুদ মনে হচ্ছে। পরের দিন বলেÑ আজ রাতে অবশ্যই ঘুমাতাম। কিন্তু সব দোষ তার বড় বোন নন্দিতার। কারণ সন্ধ্যার সময় নাকি নন্দিতা মস্তবড় ভয়ঙ্কর একটি মামদো ভূতের কথা বলে তাকে ভয় দেখিয়ে দিয়েছে।
আমি একদিন জোর করে রিশাদকে ভিন্ন রুমে ঘুমাতে পাঠালাম। রাত ১২টার দিকে কৌতূহলবশত ছেলের রুমে গিয়ে দেখি সে ঘুমের ঘোরে বিড়বিড় করে বলছে- ‘বাবা! তেলাপোকা! মশারির মধ্যে তেলাপোকা! আমি রুমের লাইট জ্বালিয়ে ছেলেকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বললাম- কই তেলাপোকা! কোথায় তেলাপোকা! সে চোখ ডলতে ডলতে আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল- ওই যে দেখো! আমি লক্ষ করলাম সত্যিই ছোট একটি তেলাপেকা মশারির মধ্যে হাঁটাচলা করছে। আমি সেটিকে মেরে ফেলার পর ছেলেটি তার বাবার বীরত্ব দেখে যারপরনাই আশ্চর্য হলো এবং আল্লাহকে ধন্যবাদ দিলো স্বপ্নের মাধ্যমে মস্তবড় একটি বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য।
এবার শিরোনামে বর্ণিত বনু আমালিকের কাহিনী বলে আজকের নিবন্ধের ইতি টানি। হজরত মূসা আ:-এর নেতৃত্বে মহান আল্লাহর দয়ায় বনি ইসরাইল জাতি অত্যাচারী শাসক ফেরাউন এবং মিসরের ভূমিপুত্র কিবতিদের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়ে মিসর থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ পেলো। এত বড় নিয়ামত পাওয়ার পরও তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ না করে উল্টো একটার পর একটা অভিযোগ তুলে হজরত মূসা আ:কে অতিষ্ঠ করে তুলল। তারা বলল- হে মূসা! আমরা তো মিসরে বেশ ভালোই ছিলাম। আমাদের বাড়িঘর, জমিজিরেত, পশুপাখি এবং ফলফলাদির বাগান ছিল। তুমি এবং তোমার আল্লাহর কথামতো আমরা সব কিছু ছেড়ে এসেছি। কাজেই আমরা এখন কোনো কাজ করতে পারব না। তুমি আল্লাহকে বলে আমাদের জন্য আসমান থেকে খানাপিনার ব্যবস্থা করো। মূসা আ: আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালে আল্লাহ শর্তসাপেক্ষে আসমান থেকে মান্না ও সালোয়া নামক বেহেশতি মেওয়া দ্বারা ১০ লাখ বনি ইসরাইল সম্প্রদায়কে খাওয়াতে শুরু করলেন।
উপরিউল্লিখিত ঘটনার বেশ কিছু দিন পর বনি ইসরাইলরা হজরত মূসা আ:-এর কাছে আবার অভিযোগ জানিয়ে বলল- এভাবে শুয়ে বসে থাকতে ভালো লাগে না এবং রোজ রোজ এক ধরনের খাবার খেতে খেতে বিরক্তি ধরে গেছে। আমাদের এখন গাজর, মুলা, পেঁয়াজ প্রভৃতি খেতে ইচ্ছে করছে। আল্লার কাছে হজরত মূসা আ: বনি ইসরাইলদের আকুতি পৌঁছে দিলেন। আল্লাহ নির্দেশ দিলেন বনি ইসরাইলরা যেন নিকটবর্তী উর্বর এলাকায় গিয়ে সেখানকার অত্যাচারী অধিবাসী বনু আমালিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে আল্লাহ বনি ইসরাইলিদেরকে মদদ দিয়ে বিজয়ী করবেন। ফলে তারা বিজিত ভূমিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবে এবং ইচ্ছেমতো ফলফলাদি এবং শস্যদানা উৎপন্ন করে মনের মতো খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করতে পারবে।
হজরত মূসার আ:-এর মুখে আল্লাহর নির্দেশ শুনে অভিশপ্ত বনি ইসরাইলিরা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। তারা বলল- এটা কী ধরনের কথা! গত কয়েক বছর শুয়ে বসে থেকে আমরা মোটা, দুর্বল এবং খাটো হয়ে গেছি। অন্য দিকে বনু আমালিকরা মস্তবড় শক্তিশালী দেহের অধিকারী দুর্ধর্ষ যোদ্ধা জাতি। তারা যদি আমাদেরকে পায় তবে আমাদের হলকম চেপে ধরে একটা আছাড় মেরে ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে। সুতরাং হে মূসা! তুমি এবং তোমার আল্লাহ আমাদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করে আমাদেরকে বনু আমালিকদের ভূমির মালিক বানিয়ে দাও।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫