ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

ভয় এখন মহামারী

মিনা ফারাহ

০৪ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:১৮


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

ভয় যাকে নিয়ন্ত্রণ করে জীবনে সে কিছুই করতে পারে না। প্রশ্ন, কত বড় কোটিপতির স্ত্রী নয়, বরং কতটা স্বাধীনভাবে সংসার করতে পারে। এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে অদ্ভুত এক ভয়। মৃত্যু নয়, বেঁচে থাকার ভয়। জীবন হচ্ছে গাড়ির নতুন চাকার মতো, ক্ষয় হতে হতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শেষ হয়ে যায়। বাঁচার জন্য শর্তের প্রয়োজন নেই কিন্তু এখন তা মিথ্যা। বরং ভয়, ঘরে জ্যান্ত ফিরবে কি না, গুম-খুনের খাতায় নাম উঠবে কি না। মুক্তিপণ, ক্রসফায়ার, গণপিটুনি, জেল-রিমান্ড, মিথ্যা মামলা, গুম... এগুলোই এখন চালকের আসনে। ভিন্নমত হলেই অস্বাভাবিক মৃত্যুভয় তাড়িয়ে বেড়ায়। বৈদ্ধিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে সাদা-কালো, পীতবর্ণ পোশাকের ভয়। এ সবই শুধু ভিন্নমতের জন্য। আর অন্যদের জন্য আলাদিনের চেরাগ।
ভয় এখন একটি জাতীয় শুয়োপোকা। ভয়ে পাবলিক এখন কথা বলতেও ভুলে গেছে। ভুলে গেছে প্রতিবাদের ভাষা। ক্রসফায়ারের লাশ চাইতেও ভয়। কথিত জঙ্গিবাদের নামে শিশুও খুন হয় কিন্তু সন্তানের লাশ দাফনে ভয়। যদি, জঙ্গির বাবা-মা বলে ফাঁসিয়ে দেয়! ভয়ের রাজত্বে আমরা দু’টি বিভক্ত জনগোষ্ঠী।
এখন আর মৃত্যুর শর্তে বাঁচা নয়। বিশ্বজিৎ, ত্বকীর, হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম... বদলে যাওয়া বাংলাদেশের বিলবোর্ড। শাপলা ম্যাসাকার কিংবা কাউকে চাঁদে দেখা নিয়ে গণহত্যা... ভয়ে পাবলিকের মুখে শেলাই। বাঁচতে হলে ভোল পাল্টানোই পথ। যেমন শাপলা চত্বরের ‘অভিশপ্ত’ ৫ মে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যত অঘটন কিন্তু বদলে গেল হেফাজতের মোড়ক। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ হয়েছে মিডিয়া, জেল-রিমান্ড, বন্ধ করে দিল প্রেস। ওভারনাইট শত শত মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করল। নির্যাতিত গণমাধ্যম, ক্যামেরা, প্রেস, কালি-কলম, গালিগালাজের নতুন অধ্যায়ের শুরু। কিন্তু সেই হুজুরই কিনা সামান্য সুবিধার শর্তে ভয়ের সঙ্গে আপস! এ যেন সাক্ষাৎ যমের ভয়ে ঘরে খিল দেয়া। এজন্য অনেকেই তেঁতুল আর মিষ্টির মধ্যে সংযোগ খুঁজলেও আমি তা করি না। কারণ ভয় ছাড়া এই অধঃপতন কারো হতে পারে না। শেখ হাসিনার মন্ত্রীদের ভাষ্য, গণহত্যা নয়, বরং গায়ে রঙ মাখিয়ে শাপলা চত্বরে শুয়ে ছিল হেফাজতের কর্মীরা (বক্তব্য মিডিয়ার আর্কাইভে)। এটা শ্রেফ, ৫ মের ভিকটিমদের সঙ্গে প্রতারণা। আমি এই ভয়ের কথাই বলছি।
জন্ম হলেই মৃত্যু অবধারিত। তবে মৃত্যুভয় কখনোই দমন করে না প্রত্যহ জীবন। হলে, জন্মপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকত। কারণ প্রতিটি পিতা-মাতাই জানে, যে সন্তানের জন্ম দেবে, তারও মৃত্যু হবেই। জন্ম এবং মৃত্যুর হার শুরু থেকেই একই রকম। জীবদ্দশায় মৃত্যুভয় হন্যে করলে, সেই বাঁচা মৃত্যুর চেয়ে পীড়াদায়ক। মৃত্যু আসে একবার, অপমৃত্যুর ভয় লক্ষ-কোটিবার। তবু বেঁচে থাকে, কারণ সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্নেহমায়া-মমতার শেকলে বন্দী আমরা। সমস্যা হলেও মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করে কেউই সারা দিন লুকিয়ে থাকে না। তবে বিপদ তখন, যখন মৃত্যুভয় কারো বৈদ্ধিক সত্তাকে হাইজ্যাক করে। ইলিয়াস আলীর মতো হব না তো! ঘড়ির কাঁটা পার হলেই অজানা ভয়ে মরতে থাকে ভিন্নমতের স্বজনেরা। ভয় এখন মহামারী।
ভিন্নমতের হলেই প্রতিটি নিঃশ্বাসেই মৃত্যুভয়। আর আওয়ামী লীগের হাতে আলাদিনের লক্ষ-কোটি চেরাগ। কেউ কেউ আগাম বলে যায়, না ফিরলে সংসার টিকিয়ে রেখো। সন্তানদের লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়। তোষকের ভেতরে কিংবা মাটির তলে লুকিয়ে রাখে কিছু টাকা, দলিল ইত্যাদি। তবে একজন লাশ হলেই বা কী? পরিবার আছে না? টার্গেট তারাও। কুখ্যাত তিন গুমের ঘটনা সেই দৃষ্টান্ত। কথিত যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদেরকে সিরিয়াল গুমের দায় ও.বা কাদেরদের ঘাড়ে। অস্বীকার করলে চলবে না। চাপে পড়ে একজনকে ফিরিয়ে দিলেও অন্যরা এখনো বিচার চাইছে নেট দুনিয়ার কাছে। সত্যিই যেন কোথাও কেউ নেই, কিছু নেই।
জ্বর, কাশি, যক্ষ্মা, ক্যান্সার... মৃত্যু আসে নানা অজুহাতে। মহামতি আলেক্সান্ডারের মতো বীরেরও মৃত্যু হয়েছে সাধারণ জ্বরে। মৃত্যুকে ঠেকানোর ক্ষমতা কারো থাকলে অসময়ে স্টিভ জবস আর বৃদ্ধ আইনস্টাইন কি মরতেন? তবে মৃত্যুর শর্তে জন্ম হলেও, মৃত্যুভয়ের শর্তে বেঁচে থাকা নয়। জীবন সুন্দর, মৃত্যুও সুন্দর, বলেছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। অবশ্যই সেটা রিমান্ডে বা কাশিমপুর কারাগারে মৃত্যুর কথা মনে রেখে লেখেননি কবি।
তবে মৃত্যুর সৌন্দর্য নিয়ে রবীন্দ্রনাথের উপলব্ধিগুলো ফ্যাসিবাদীদের আমলে শতভাগ বিবর্ণ। অসংখ্য নিকৃষ্ট উদাহরণ ত্বকীর, বিশ্বজিৎ, সাগর-রুনি... তালিকার শীর্ষে। দুর্ধর্ষ মৃত্যুর ঘটনা একবার কিন্তু মৃত্যুভয় সারা জীবনের। খুনিরা পরোয়া করে না, কিভাবে কাটবে কিশোর মেঘের জীবন। বিশ্বজিৎকে কোপানো জগন্নাথ হলের খুনি ছাত্রদের একমাত্র সাফল্য তারা আওয়ামী লীগের সন্তান।
রাজনীতি নয়, ভিন্নমতের মানুষদের এখন নিয়ন্ত্রণ করছে গুম আর মৃত্যুপুরী। ফ্যাসিবাদীদের দাবি, দেশ মানেইÑ একব্যক্তি, একমত, একপথ। যুক্তি লাগে না, লাগে না সংবিধান। যেমনটি ঘটল সাগর-রুনি আর ত্বকীর মতো অসংখ্য পরিবারের বেলায়। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের মা জীবন্ত সাক্ষী। সন্তান জেলে থাকা অবস্থায় প্রতিদিনই তাকে মরতে হয়েছে। তসবিহ হাতে জেল গেটে দাঁড়িয়ে থেকেও সন্তানের মুখ দেখার অনুমতি দেয়নি ওরা। মামলার হিমালয়কে পরাজিত করে অবশেষে জামিন। কিন্তু ভয় তাকে কখনোই ছাড়েনি। যেখানেই তার সন্তান, সেখানেই উপস্থিত পুলিশ। যেন খেয়েদেয়ে আর কোনো কাজ নেই। এভাবেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ ভিকটিমের সৃজনশীলতা।
মৃত্যুকে যারা অস্বীকার করে, তাদেরও মৃত্যু অবধারিত। ক্ষমতা, প্রফিট, ফ্যাসিজম, ক্যাপিটালিজম... মৃত্যু চেনে না কিছুই। কাফনেরও পকেট নেই। পৃথিবীতে আজ অবধি প্রায় ২১০ বিলিয়ন মানুষ এসেছে এবং চলেও গেছে। বড়জোর কয়েক মিলিয়ন কবরের সন্ধান পাওয়া যায় কিন্তু বাকিরা কোথায়? যুগে যুগে এরই নাম জীবন।
হুম্মাম কাদের, শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান মান্না, সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, কিংবা বেলার পরিচালকের স্বামীর ঘটনায়, প্রতিবারই ক্রেমলিন ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি। মুক্তির পরে সবার মুখেই কুলুপ। মৃত্যুভয়ে জর্জরিতরা বলতে না পারার যন্ত্রণায় দিনরাত জ্বলেপুড়ে মরছে। বাধ্য হয়ে লিখতে পারছে না, কিছুতেই বন্ধ প্রেসের তালা খুলে দিচ্ছে না। সমাবেশ থেকে পুলিশকে কিছুতেই সরানো যাচ্ছে না। সোহরাওয়ার্দীর প্রতিটি ইঞ্চি মাটির অধিকার দৃশ্যত আওয়ামী লীগের। নিষিদ্ধ বাকস্বাধীনতা যেন কমিউনিজমের রোলার কোস্টারের চেয়েও বিপজ্জনক।
দেশত্যাগের পরেও শান্তি নেই। জেলের ভয়ে যারা দেশ ছাড়ল, অধিকাংশই ভয়ের শিকার। এদের কয়েকজনকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। আমেরিকাতে অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, কেউ কেউ গ্রিনকার্ড পেয়ে বেঁচে গেছেন। কিন্তু তারাও চুপ। কারণ, দেশে তাদের পরিবারের নিরাপত্তার ভয় যাকে বলা যাবেÑ ন্যাশনাল ক্রাইসিস।
মেঘ বা ত্বকীরের পরিবারের মতো মানুষেরা জানে, এই শাসন থাকলে বিচারের দাবি আর তামাশা এক। ইলিয়াস আলী আর চৌধুরী আলমের পরিবারের মতো অনেক অভাগা নারীই মৃত্যুকালেও জানবে না তারা সধবা না বিধবা অবস্থায় মরল। শাপলা চত্বরে ভিকটিমদের পরিবার জানবে না আসলেই কী ঘটেছিল অভিশপ্ত রাতে। বিশ্বজিতের মা ভাবতেই পারে, অসম্ভব! ছাত্রলীগের খুনিদের ফাঁসি কেন দেবে আওয়ামী লীগ? কথিত জঙ্গি অপারেশনের পর লাশ পেলেও, গুম হওয়া সন্তানকে দাফনে অনীহা জানাতেই থাকবে পরিবারগুলো। ফিন্যানসিয়াল ক্রিমিনালদের বিচার চাওয়ার চেয়ে অনেকের জন্য আত্মহত্যাই সহজ। এরই নাম, ভয়।


তবে মৃত্যুযন্ত্রণা শুধুই একপক্ষের নয়। বরং ক্ষমতাসীনদের ভেতরে গুমোট মৃত্যুযন্ত্রণা, ক্ষমতাহীনদের চেয়ে অধিক। আর এই যন্ত্রণা থেকেই বাড়ছে ফ্যাসিবাদ, নৈরাজ্যবাদের আকার, সীমানা, বাসস্থানের দেয়াল। রাজনৈতিক নিম্নচাপের ঠেলায় কালবৈশাখীর এই মেঘ প্রতিদিনই আরো শক্তিশালী হচ্ছে। শুধুই অপেক্ষা, অবৈধ ক্ষমতার মসনদে আছড়ে পড়ার। ভিন্নমতের ভয়ে, ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে হাজার হাজার হাস্যকর উন্নতির বিলবোর্ড। কারণ, ভিন্নমতকে দারুণ ভয় লীগের। সুন্দরবন, মিডিয়া, প্রেস, কালি-কলম, বুদ্ধিসত্তা, নামফলক, ভবন, প্রতিভা, সততা, সৎপ্রবৃত্তি... সব কিছুকেই ভয়। ফলে, ও.বা কাদেরদের হাত-পা পেটের ভেতরে সেঁধিয়ে গেছে। ভবনগুলো থেকে অন্যদের নাম তুলে ফেলে, নিজেদের নাম বসাতে এতটুকুও চক্ষুলজ্জা নেই? সুন্দরবনের মতো জাতীয় ঐতিহ্যকে পোড়াতেও লজ্জা নেই? ওদের বিশ্বাস, এভাবেই রক্ষা পাবে। দুর্গের ভেতরে বসে প্রতিদিন ভয়ে কাঁপে আর যা-তা বলে ফ্যাসিবাদীরা। খালেদাকে যত ভয়, অধিক ভয় তারেক জিয়াকে। কিন্তু খালেদার মতো হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী নন তারেক! তাহলে কিসের এত ভয়? কেন ভয়? যেন ধরে এনে মেরে ফেলতে পারলেই লঙ্কা বিজয়। মুহুর্মুহু তারেকের বিরুদ্ধে মামলা আর গ্রেফতারি পরোয়ানা। যেন যমদূত ধাওয়া করছে। যেন খালেদা নয়, তারেকই কারো একনম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গের ভেতরে দিনরাত দুর্বিষহ জীবনের ভার বহন কী সোজা? এর চেয়ে গরিব থাকাই ভালো। দুর্গে আশ্রয়ের যন্ত্রণা, মৃত্যুযন্ত্রণার চেয়ে কঠিন।
সর্বশেষ, হাওরের জল, হাওরের মরা মাছকে পর্যন্ত ভয়! মাছের ওজনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির কতই না ভয় আর ক্ষোভ। মন্ত্রীদের ধমকানোর পর, ভয়ে সাংবাদিকেরাও ভোল পাল্টে বলল, চার হাজার নয় মাত্র ২৮০ টন মাছ মরেছে। অর্থাৎ, মৃত মাছকেও ভয় আওয়ামী লীগের? এই ভয়, ক্ষমতায় থাকা বনাম ক্ষমতা হারালে অগণিত মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে। গৃহযুদ্ধ থেকে ভয়ানক গণহত্যার আশঙ্কা। সেটা থেকে রক্ষা পেতে, বিদেশীদের সাথে গোপনে শত শত চুক্তি! মিডিয়াকে বানিয়েছে রাশিয়ার মিডিয়ার মতো, ১০০% রোবট। রোবট দেখতে অবিকল মানুষ কিন্তু নেই প্রাণ, নেই রক্ত। বরং সবই প্লাস্টিক। রোবটিক আওয়ামী লীগও তাই। ‘যখন সর্বধর্মই বলছে, বহু মত আর বহু পথের কথা, একমাত্র আওয়ামী লীগই বলছে এক ব্যক্তি, একমত, এক পথের কথা।’ সুতরাং আমার চোখে তেঁতুল হুজুর নয়, বরং খেলাফতে মজলিস থেকে হেফাজত, প্রত্যেকেই চিনতে ভুল করছে, তেঁতুল।
নেট দুনিয়া যা বলে, রোবট মিডিয়া বলে উল্টা। এরই নাম ফেক নিউজ। ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী স্যাটেলাইট। এখন আসল ঘটনা জানতে হলে, নেট দুনিয়া। আর এখানেও ওদের আগ্রাসী থাবা। এর কারণ, ভয়। নেট দুনিয়ার কার্টুনিস্টদের জেলে ভরাই তারানা হালিমদের জীবনের একমাত্র সাফল্য।

অবশেষে সব সমস্যার সমাধান করলেন মহাসচিব কাদের। যেন মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল অপ্রিয় সত্য। তার পরও বিরোধী দল চুপ! খালেদার মহাসচিব যেন মুখে দিয়েছে ঠুলি, উপড়ে ফেলেছে মাথার খুলি। ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সবাইকেই দেশ ছেড়ে পালাতে হবে’- বলেছেন কাদের। তার এই বক্তব্যটি অশনিসঙ্কেত। বোঝা যাচ্ছে, মৃত্যুভয়ে কতটা জর্জরিত হয়ে এই বক্তব্য। হয়তো কিছু আঁচ করতে পেরেছেন। জানেন, অধিকাংশ পাবলিক তাদের কর্মকাণ্ডে কতটা ক্ষিপ্ত। ফুসছে পারমাণবিক বোমার মতো, সুযোগ এলেই বিস্ফোরণ, যেমনটি ঘটেছিল অতীতেও। সেদিন কেন রাস্তায় নামেনি এমনকি আওয়ামী লীগের লোকেরাও? কেন ’৮১তে লাখ লাখ মানুষের ঢল রাস্তায়? ইতিহাস অস্বীকারের ক্ষমতা কারো নেই। কাদের সাহেবরা কিছুই বোঝেন না, বিশ্বাস করি না। বরং বোঝেন বলেই ওই বক্তব্য। তার পরেও ৭৫-এর দুঃখজনক ঘটনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘পাবলিক সিমপ্যাথি’ তৈরির কাজে। কাদেরের ভয় সত্যে রূপান্তরিত হলে, সেদিনের দৃশ্য হতে পারে ’৪৭-এর দাঙ্গার মতো। ওই দাঙ্গা যারা দেখেছে, চাইবে, যত দ্রুত সম্ভব অপরাজনীতি বন্ধ হোক।
‘ও.বা কাদের যা বোঝাতে চেয়েছেন তা এ রকম। জনগণের সেবার জন্য নয়, শুধু ব্যভিচারী লীগ কর্মীদের ’৭৫-এর ইতিহাস থেকে রক্ষা করতেই অগণিতকাল ক্ষমতায় থাকতে হবে।’ ’৪৭-এর মধ্যরাতের গণহত্যা আর দ্বিজাতিতত্ত্বের বিষধর সাপের ফণা ইতিহাসের অনেক নৃসংশ গণহত্যাণ্ডকেও অতিক্রম করেছে। এমনকি হলোকস্টের সঙ্গে যার তুলনা। ...অমৃতসর থেকে লাহোরমুখী আর চিটাগাং থেকে কোলকাতামুখী ট্রেনে সেদিন বস্তা-বস্তা স্তন-যোনি-চোখ-শাঁখা-ধুতি-লুঙ্গি... রক্তের বন্যায় সেদিন পরাজিত হয়েছিল ভিন্নমতের বিরুদ্ধে নেহরু-জিন্নাহর পাল্টাপাল্টি অবস্থান। ব্যর্থ হয়েছিল, অপরপক্ষকে বোকা ভেবে ধোঁকা মারার ধৃষ্টতা। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিকটিমরা এক ধর্মের না হলেও, ও.বা কাদের যাদের কথা বলছেন, উভয়পক্ষই মুসলমান। একপক্ষ আওয়ামী লীগ, অপরপক্ষ বিএনপি। এরা দু’জনই দু’জনকে বেদম পেটাচ্ছে।
ঘুরে গেলাম স্বদেশ। আওয়ামী লীগের কাউকে বলতে শুনলাম, ‘জানি মরব কিন্তু মরার আগে ১০-২০টা ফেলেই মরব।’ ও.বা কাদেরকে অনুরোধ, সময় বোধহয় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখনই বন্ধ হোক অতীতের ভুল। বন্ধ হোক নতুন মোড়কে পৈশাচিক ‘দ্বিজাতিতত্ত্ববাদ’।
ইমেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫