ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৯ জুন ২০১৭

গৃহস্থালি

কোথায় রাখবেন ডিম? ফ্রিজে না বাইরে?

০১ মে ২০১৭,সোমবার, ২১:০৭


প্রিন্ট

ব্রেকফাস্টে ডিমের থেকে বেশি স্বাস্থ্যকর খাবার আর কী বা হতে পারে? শুধু ব্রেকফাস্টে নয়, দুপুরে ডিমের ঝোল দিয়ে ভাতও বাঙালিদের প্রিয়। আসলে ডিম এমনই এক খাবার যা শুধু পুষ্টিগুণেই নয়, স্বাদগুণেও জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের সব দেশের রান্নাঘরেই। প্রায় সব বাড়িতেই ১-২ ডজন ডিম একসঙ্গে কেনা হয়। ডিম বেশি দিন ভালো রাখতে ফ্রিজে রাখা উচিত, না ফ্রিজের বাইরে রাখা উচিত তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। কোনো বাড়িতে ডিম রান্নাঘরেই রাখা হয়, কোনো বাড়িতে ডিম ফ্রিজে রাখা রেওয়াজ। জেনে নিন ডিম কোনভাবে রাখলে কী উপকার।

মুরগির খাদ্যনালীতে সালমোনেল্লা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হয়। যে ব্যাক্টেরিয়া ডিমেও প্রবেশ করতে পারে। খাবারে বিষক্রিয়ার অন্যতম কারণ এই ব্যাক্টেরিয়া। যত দিন পশু-পাখিদের খাদ্যনালীতে এই ব্যাকটেরিয়া থাকে তত দিন তা ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু খাবারে পৌঁছলে তা ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে।

কেন রেফ্রিজারেটরে রাখা হয়
১। ফ্রিজে রাখলে ব্যাক্টেরিয়া সম্পূর্ণ না মরলেও এর প্রকোপ কমিয়ে দেয়। ফলে ডিম খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও কম থাকে।
২। ফ্রিজে রাখার ফলে ব্যাক্টেরিয়া ডিমের খোলস ভেদ করে ভিতরে ঢুকতে পারে না।
৩। দেরি করে পচন ধরে। ফলে বেশি দিন ভালো রাখা যায় ডিম।

ঘরের তাপমাত্রা
ইউরোপের দেশগুলোতে ডিম ফ্রিজের বাইরেই রাখা হয়। এই দেশগুলোয় ডিম স্টেরিলাইজ করা হয় না। কিউটিকল সমেত রাখা হয়। ফলে ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে না। ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সন্দীপ মেটা জানাচ্ছেন, আমাদের দেশেও ডিম স্টেরিলাইজ করা হয় না। লেয়ার ফার্মিং পদ্ধতিতে মুরগিগুলো নিষিক্ত করা হয় না। ফলে সালমোনেল্লা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি ০.১ শতাংশ। যতটুকু সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে তা ডিম সিদ্ধ করলে চলে যায়।

ফ্রিজে রাখার অসুবিধা
ফ্রিজে ডিম যদি অন্যান্য খাবারের সংস্পর্শে থাকে তা হলে ডিম থেকে অন্য খাবার বিষাক্ত হতে পারে। যে কারণে অধিকাংশ ফ্রিজেই দরজার গায়ে আলাদা ডিম রাখার র‌্যাক থাকে। তবে বার বার দরজা খোলার ফলে তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। তাই ডিম ফ্রিজের ভিতরে আলাদা করে ভালোভাবে রাখা উচিত।

স্টোরেজ
আমাদের দেশে ডিম ভালো রাখার জন্য ফ্রিজে রাখাই শ্রেয়। শীতকালে ঘরের তাপমাত্রায় ৭-৮ দিন পর্যন্ত ডিম ভালো থাকলেও গরমকালে ৩-৪ দিনের বেশি ভালো রাখা যায় না। যদি তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের উপর চলে যায় তা হলে ৪ দিন পর থেকেই ডিমে পচন ধরতে শুরু করবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫