ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ জুন ২০১৭

প্রযুক্তি দিগন্ত

ই-কমার্স মানেই অ্যামাজন

২৯ এপ্রিল ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোস

অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোস

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা অনলাইনে কেনাকাটা করতে স্বস্তিবোধ করেন। আর ‘অনলাইন কেনাকাটা’ শব্দটি এলে প্রথমে যে সাইটটির নাম চলে আসে সেটি হচ্ছে ‘অ্যামাজন ডটকম’। ওয়েবসাইট হিসেবে ১৯৯৫ সালে চালুর পর অ্যামাজনে শুধু বই বিক্রি হলেও প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের ল্য ছিল আরো সুদূরপ্রসারী। আর এ কারণেই অ্যামাজন বইয়ে থেমে না থেকে এর গণ্ডি পেরিয়ে ‘অ্যান এভরিথিং স্টোর’ হয়ে উঠেছে। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার
ইন্টারনেটেও যে বেচাকেনা হতে পারে এই ধ্যান-ধারণা সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা পায় অ্যামাজনের মাধ্যমে। আর অ্যামাজন গড়ে উঠে জেফ বেজোসের হাতে। এই সফল প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বের অন্যতম উদ্যোক্তাদের একজন। জেফ বেজোসের অ্যামাজন গঠনের গল্পটি বেশ মজার। নিউ ইয়র্কে বসের ওপর রাগ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমেরিকা ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। আর ঘুরতে ঘুরতেই সফটওয়্যার ডেভেলপারদের বিশাল সংখ্যা সম্পর্কে তার কিছুটা ধারণা হয়। প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন হয় নামকরণের। জেফ বেজোসকেও কোম্পানির নাম নিয়ে পড়তে হয় সঙ্কটে। প্রথমে ঠিক করেছিলেন নাম রাখবেন ‘ক্যাডাব্রা’। তবে এই নামের বিপক্ষে তার বন্ধুরা নানা যুক্তি দেয়ায় নতুন নাম হিসেবে ‘রেন্টলেস ডটকম’ রাখবেন বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু সেটিও একসময় পছন্দ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বেছে নিলেন ‘অ্যামাজন’। গ্যারেজে পণ্য স্টোর করে অ্যামাজন শুরু করেছিলেন বেজোস। প্রথম দিকে কোনো ক্রেতা এলেই ঘণ্টি বাজার ব্যবস্থা ছিল। অ্যামাজন শুরুর কয়েক সপ্তাহ পর ক্রেতার সঙ্গে বাড়তে থাকে ঘণ্টার শব্দও। সে সময় শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে ঘণ্টা-ব্যবস্থা তুলে দেন তিনি। চালুর প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্য ও ৪৫টি দেশে বই বিক্রিতে সম হয়েছিল অ্যামাজন। প্রতিষ্ঠান শুরুর প্রথম আট মাস নিরলস পরিশ্রম করেন অ্যামাজনের কর্মীরা। সাত সকালে কাজ শুরু করে তা শেষ করতেন মধ্যরাতে। বেজোসও ছিলেন তাদের সাথে। কাজের চাপে মেইল বক্সে থাকা চিঠিগুলো খুলে দেখার সময় ছিল না তার।

কাজের পরিবেশ
১৯৯৮ সালের বড়দিনটি অ্যামাজনের জন্য প্রথম বড় উৎসব। মার্কিন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির কদর সে সময় বাড়লেও কর্মী সংখ্যা বাড়েনি। এ অবস্থায় গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে বেশ হিমশিম খেতে হয় অ্যামাজনকে। অনেকে বাড়ি ফিরতেন না। নিজের গাড়িতে রাত কাটিয়ে সকালে আবার কাজে যেতেন। এর পর থেকে অ্যামাজনে আর কখনোই কর্মী সঙ্কট হয়নি। উৎসবের দিনগুলো সামনে রেখে আগে থেকেই অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দেয় কর্তৃপ।
বেজোস সবসময়ই অস্থিরচিত্তের। সব কাজই করে ফেলতে চান এক নিমেষে। অনেক েেত্র বিষয়টি ইতিবাচক হলেও দাফতরিক কাজে গোলমাল সৃষ্টিতে অতুলনীয়। অ্যামাজনের ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোয় বেজোসের তাড়াহুড়ো করার প্রবণতায় বেশির ভাগ সময়ই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতো। নব্বইয়ের শেষ ও ২০০০ সালের প্রথম দিকে অ্যামাজনকে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে সময়ের সাথে কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে।
২০০২ সালের শুরুতে অ্যামাজনে বেজোস চালু করেন ‘টু-পিৎজা টিমস’। নিয়ম অনুযায়ী, এ দলটিতে ১০ জনেরও কম কর্মী থাকবেন। অর্থাৎ দুটো পিৎজা শেষ করতে যে সংখ্যক মানুষ প্রয়োজন, একটি টিমেও সে সংখ্যক কর্মী থাকা উচিত। ছোট টিম দতার সাথে বেশি কাজ করতে সম বলে মনে করেন তিনি। আর এ দলের সাফল্য পরিমাপে রয়েছে ‘ফিটনেস ফাংশনস’ নামের সমীকরণ। গ্রাহকসেবার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন বেজোস। তাই তাদের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত। চিঠি বা ই-মেইলের মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বেজোসের সাথে। কোনো সমস্যা মনে হলে গ্রাহকের পাঠানো মেইলটি ফরওয়ার্ড করে দেন সংশ্লিষ্ট কর্মীর কাছে। এ নিয়ে জবাবদিহিও মাঝেমধ্যে করতে হয় কর্মীকে।
ছুটির মওসুমগুলোয় গ্রাহকদের কেনাকাটার হার বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে। উৎসবের দিন সামনে রেখে খণ্ডকালীন কর্মী নিয়োগ দেয়া হলেও দায়িত্ব এড়ানো যায় না। তাই কাজের দায়িত্ব পালন নিয়ে এখনো বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন কর্মীরা। উদ্বেগ কমাতে ‘প্রাইমাল স্ক্রিমস’ থেরাপি নিতে উৎসাহী করা হয় অ্যামাজন কর্মীদের। ২০০০ সালের শুরুতে অ্যামাজনের পরিচালন ব্যবস্থাপক জেফ উইলকি এ থেরাপি চালু করেন।
অ্যামাজনের ফুলফিলমেন্ট সেন্টারগুলোয় কাজের পরিবেশ প্রথম দিকে ছিল খুবই খারাপ। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে অনেক কর্মী বিদ্রোহের ঘটনাও রয়েছে।

অ্যামাজন কিন্ডল
অ্যামাজন কিন্ডলের প্রকৃত কোড-নেম ‘ফিয়োনা’। নিল স্টিফেনসনের লেখা ‘দ্য ডায়মন্ড এজ’ উপন্যাস থেকে এ নামকরণ হয়েছিল। এটি একজন প্রকৌশলী ও তার মেয়ে ফিয়োনার গল্প। ফিয়োনা ছিল ভীষণ জ্ঞানপিপাসু। মেয়ের জন্য প্রকৌশলী চুরি করে নিয়ে আসত দুর্লভ সব বই। পরে ফিয়োনা নামটি পরিবর্তন করে রাখা হয় কিন্ডল। ফিয়োনা নামটির পইে ছিলেন বেশির ভাগ অ্যামাজন কর্মী। কিন্তু বেজোস বেছে নেন কিন্ডল নামটিই। কারণ এ নামের সঙ্গে অগ্নি প্রজ্বলন জড়িত।

সার্চ ইঞ্জিন এ৯ ডটকম
২০০৪ সালে অ্যামাজন চালু করে সার্চ ইঞ্জিন এ৯ ডটকম। এ৯ টিমের প্রকল্পটির নাম ছিল ব্লক ভিউ। এটি একটি ভিজ্যুয়াল ইয়েলো পেজ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্টোর ও রেস্টুরেন্টের খোঁজ সহজেই পেয়ে যান ভোক্তা। অর্থাৎ এ৯-এর সার্চ রেজাল্টে উঠে আসে কাক্সিত স্টোর ও রেস্টুরেন্টের ফটোগ্রাফ। সেবাটি অনেকটা গুগলের ‘স্ট্রিট ভিউ’-এর মতো। গুগল এটি চালু করে ২০০৭ সালে। আইডিয়াটা অ্যামাজনের, তা বলা বাহুল্য। এক লাখের কম ডলারে অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি বড় শহরে আলোকচিত্রী পাঠিয়ে স্টোর ও রেস্টুরেটগুলোর ছবি তুলিয়ে আনে। ২০০৬ সালে ব্লক ভিউ সেবা বন্ধ করে দেয় অ্যামাজন। আর এর পরের বছরই আসে গুগলের স্ট্রিট ভিউ।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫