ঢাকা, বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭

ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক

মু: নূরনবী

২৭ এপ্রিল ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:১২


প্রিন্ট

এক নামে বিখ্যাত ‘শেরেবাংলা’ আবুল কাশেম ফজলুল হক, যিনি গণমানুষের প্রিয় হক সাহেব। উপমহাদেশে যে কয়জন গুণী রাজনীতিবিদ ও জননেতার জন্ম, তাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব শেরেবাংলা। ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩ সালে বাকেরগঞ্জ জেলায় (বর্তমান ঝালকাঠি) সাতুরিয়ার নানার বাড়িতে তার জন্ম। তার পৈতৃক নিবাস হচ্ছে বরিশাল শহর থেকে ১৪ মাইল দূরে বানারিপাড়ার চাখার গ্রামে। তার পিতার নাম মৌলবি মোহাম্মদ ওয়াজেদ এবং মায়ের নাম সৈয়দেন্নেসা খাতুন। তার পিতা ছিলেন বরিশাল বারের একজন সুখ্যাত আইনজ্ঞ।
মক্তবের পাট চুকিয়ে ফজলুল হক বরিশাল জিলা স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৮৮৯ সালে কৃতিত্বের সাথে এনট্রান্স পরীক্ষা এবং ১৮৯৩ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ (ট্রিপল অনার্স : রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান) পাস করেন এবং ১৮৯৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতশাস্ত্রে এমএ ডিগ্রি নেন। ইউনিভার্সিটি ল কলেজ কলকাতা থেকে ১৮৯৭ সালে বিএল ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি বিখ্যাত আইনজ্ঞ স্যার আশুতোষ মুখার্জির অধীনে আইনচর্চা শুরু করেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি বরিশালে আইন ব্যবসায় চালিয়ে যান। তিনি (১৯০৩-১৯০৪) রাজচন্দ্র কলেজে খণ্ডকালীন অধ্যাপনা করেন। ১৯০৬ সালে প্রশাসনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দেন। তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় ৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬ সালে যোগ দেন রাজনীতিতে। ফজলুল হক নবাব সলিমুল্লাহ ও নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর হাত ধরে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯১৩ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগের সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত। এর আগে তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ১৯১৮ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ দিল্লি সেশনে সভাপতিত্ব করেন। তিনি ১৯২৯ সালে স্যার আবদুর রহিমকে সাথে নিয়ে ‘প্রজা পার্টি’ নামক দল গঠন করেন। ১৯৩৫ সালে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ (কেপিপি) নামে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। এর নেতৃত্বে জমিদারি প্রথা ও রেয়াতব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন জনসমর্থন লাভ করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে। ১৯৩৫ সালে ফজলুল হক কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালে সম্মিলিত মুসলিম পার্টির ব্যানারে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৩৯টি সিট লাভ করেন। পরের বছর তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত।
২৩ মার্চ ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে তিনি দ্বিজাতিতত্ত্ব তথা লাহোর রেজুলেশন উপস্থাপন করেন। এই তত্ত্বই মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান গড়ার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর তিনি স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। ১৯৫১-৫৩ সালে ছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল। ’৫৩ সালের ২৭ জুলাই তিনি কৃষক শ্রমিক পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মওলানা ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর সাথে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে গভর্নর নিযুক্ত হন। শারীরিক অক্ষমতার দরুন তিনি ১৯৫৮ সালে রাজনীতি থেকে অবসর নেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি রচনা করেন টহফবৎংঃধহফরহম ঞযব গঁংষরস গরহফ. তিনি মুসলমানদের শিক্ষাবিস্তারে অসামান্য অবদান হিসেবে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তার মধ্যে আছে ইডেন কলেজ, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ, আদিনা ফজলুল হক কলেজ, তেজগাঁও এগ্রিকালচার কলেজ (বর্তমানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) প্রভৃতি। বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অপরিসীম। এর সময় থেকেই পয়লা বৈশাখ সরকারি ছুটির স্বীকৃতি পায়। এই মহান নেতা ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ৮৯ বছর বয়সে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। হাইকোর্টের পশ্চিম পাশে তার মাজার অবস্থিত।
nobi_85@yahoo.com

 

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫