ঢাকা, বুধবার,২৬ জুলাই ২০১৭

আলোচনা

বাংলা কবিতা : আধুনিকতা ও বিকাশের ধারা

আশরাফ আজিজ

২৭ এপ্রিল ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:২৩


প্রিন্ট

ওয়ার্ডস ওয়ার্থের ভাষায়-কবিতায় কবি পৃথিবীর সব মানুষের সাথে কথা বলেন। তাই কবিতা এক ধরনের বাক্যালাপের ভাষা। কালের আবর্তে কবিতার এই ভাষার পরিবর্ধন, পরিমার্জন এমনকি আমূল পরিবর্তন হতেও বাধ্য এবং হয়েছেও। প্রকৃতপক্ষে সাহিত্যে শেষ কথা বলে কিছু নেই। কোনো লেখকই পরম সিদ্ধির প্রতিভূ নন। সে রকম যদি হতো তাহলে সাহিত্য কোনো এক তুঙ্গ বিন্দুতে গিয়ে থেমে যেত। দান্তের পর ইতালীয়ানে আর কিছু লেখা হতো না। শেক্সপিয়ারের পরে ইংরেজিতে এবং রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলায় নতুন কিছু রচিত হতো না। কেননা লেখবার কোনো তাগিদই আর থাকত না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, সামাজিক ও পারিপার্শি¦ক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন বদলায় তখন জীবন বোধ ও অভিজ্ঞতারও রকম ফের ঘটে। আর তখন নতুন প্রজন্মের লেখকদের মনে নতুন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, সংবেদনার প্রকাশ অন্যরূপ নেয়। ‘শিল্পের জন্য শিল্প’ এই নীতি ঘোষণা করে কেউ যখন সভ্যতা ও মানুষের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেন, তখন এক ধরনের প্রতিক্রিয়াই তিনি ব্যক্ত করেন। সাহিত্যের আধুনিকতা এভাবে অবিশ্রান্ত বিবর্তনের মধ্য দিয়ে তার রূপ রেখা বদলাতে থাকে। আধুনিকতা সব সময়েই আপেক্ষিক। আজ যা আধুনিক তা অবশ্যই পরবর্তীতে আর আধুনিক থাকবে না এবং পূর্ববর্তীকালে যা আধুনিক ছিল আজ আর তা আধুনিক নেই। এ থেকে এটি বোঝা যায় যে, কাল-পর্যায়ই আধুনিকতার ভিত্তি। আধুনিক কবিতার বুনট অত্যন্ত সূক্ষ্ম। কাঠামোর দিক থেকে তা উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বের ভারসাম্য রক্ষা করছে। মন্দের দিক থেকে তা অসংগঠিত ও অসংলগ্ন সব খণ্ডাংশের একটি গুচ্ছ বিশেষ। আর ভালোর দিক থেকে তা একটি বহুবর্ণ কাঁচের গম্বুজ যেখানে রঞ্জিত হচ্ছে অনন্তের শ্বেত প্রভা।
ইংরেজি কবিতার দিকে লক্ষ্য করলে দেখি যে, ১৯১৪’র পূর্বেই ইয়েটস, ইলিয়ট এবং এজরা পাউন্ড আধুনিক মনন ও অনুভূতির ভিত্তি স্থাপন করেছেন। এই ভিত্তি ভূমিতে পরবর্তী তিরিশ বছরের মধ্যে আধুনিকতার উজ্জীবন ঘটেছিল। এর মধ্যে আরো একটি কথা আছে। যে আধুনিকতার প্রকাশ লক্ষ্য করি এঁদের কাব্যে তার উৎস-সন্ধানে যেতে হলে আমাদের আরো পেছনে ফরাসি কাব্যের কথা স্মরণ করতে হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ আরম্ভ হলো এবং এ মহাযুদ্ধ মানবজীবনে একটি বিপুল প্রসারী বিপর্যয়ের সৃষ্টি করল। কিন্তু এ মহাযুদ্ধ থেকেই ইংরেজি কাব্য ধারায় নতুন একটি যুগের সূচনা হচ্ছে না। যে আধুনিকতা পূর্বেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল পাউন্ড, ইলিয়ট বা ইয়েটস এর হাতে সে আধুনিকতাই ইংরেজি কাব্যকে আবরিত করেছিল। ১৯৪৫-এর পর থেকে নতুন কাব্য-ভাবের সূত্রপাত ঘটেনি। যেকোনো সময়ের কবির প্রধান কর্তব্য হচ্ছে কিছু সমস্যার সমাধান করা-সে সমস্যা আঙ্গিকের হতে পারে, বুদ্ধির হতে পারে, কল্পনারও হতে পারে। কবিরা এমন সমস্যার সম্মুখীন হন এবং যে সমাধান দিয়ে থাকেন, যেসব সমাধানের ফলে শিল্পগত সব প্রশ্নের বিবেচনা শেষ হয়ে যায় না। বরঞ্চ নতুন বিবেচনার জন্ম হয়। এভাবেই আমরা লক্ষ্য করি যে কবিতার একটি ক্রমধারা আছে যা একযুগ থেকে অন্য যুগে প্রসারিত এবং কোনো যুগের কাব্যই অন্য যুগের কাব্য থেকে পুরোপুরি বিশিষ্ট নয়। যখন আঙ্গিকের একটি সমস্যার সমাধান একজন কবি দেয়ার চেষ্টা করেন তখন সেই সমাধান থেকে আগামীকালের জন্য একটি নতুন সমস্যার উদ্ভাবনা জাগে, যার ফলে কবিতা হয় সমুদ্রের জলস্রোতের মতো একটি সর্বক্ষণের ভাব এবং শব্দের ক্রমোগতি। শিল্পের এই স্বভাবের কারণেই আধুনিককালে শিল্পের কোনো স্তব্ধতা নেই। কবির দায়িত্ব হচ্ছে যুগের সত্যকে এবং প্রাণধর্মকে আবিষ্কার এবং এ আবিষ্কারের চেষ্টায় তিনি যুগের ঘটনা পরস্পরকে স্পর্শ করেন; কিন্তু তার মধ্যে আবদ্ধ থাকেন না।
যেহেতু শিল্পের মূল নির্ভরতা হচ্ছে মানুষের একটি অন্তর্গূঢ় চৈতন্য সে জন্য কবি বা শিল্পী প্রত্যক্ষ বস্তুর প্রতি পক্ষপাত প্রদর্শন না করে মানব-বোধের সত্যস্বরূপকে আবিষ্কার করতে তৎপর হন। ইংল্যান্ডের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখি যে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জার্মান বোমায় ইংল্যান্ডের গ্রাম-নগর বিধ্বস্ত হয়েছে, বিপুল অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে সমাজে এবং রাজনৈতিক চিন্তায় এত দিনকার গৃহীত বিশ্বাসে শিথিলকতা এসেছে। এভাবে যে নতুন সমাজজীবন জাগল ইংল্যান্ড তার প্রত্যক্ষ পরিচয় কিন্তু আমরা কবিতায়, সঙ্গীতে বা শিল্পকলায় তা পাচ্ছি না। দেখা যাবে যে কবিতায় এর পূর্বেই যে পরিবর্তন আরম্ভ হয়েছিল সে পরিবর্তনগুলোই নতুন সমাজে নতুন ভঙ্গির মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল। অর্থাৎ যুদ্ধ যে পরিবর্তন সাধন করল সে পরিবর্তনকে বহু পূর্ব থেকেই কবি ও শিল্পী অনুভব করেছিলেন।
ইংরেজি ভাষার আধুনিক লেখকদের দু’জন প্রধান পুরুষ এজরা পাউন্ড এবং জেমস জয়েস যৌবনকালে প্যারিসে আপন আপন শব্দ নির্মাণের শিল্পে ব্যস্ত ছিলেন। এদের উভয়েরই ওপর ফরাসি প্রতীকবাদ এবং রূপকল্প অসম্ভব প্রভাব বিস্তার করেছিল। এজরা পাউন্ড কবিতায় শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওসধমরংঃ গড়াবসবহঃ-এর প্রবর্তন করেন। এই ওসধমরংঃ গড়াবসবহঃ-এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল যে কবিতায় শব্দকে অর্থবহতায় এমন এক সীমায় পৌঁছে দিতে হবে যাতে প্রতিটি শব্দ একটি আবেগের অথবা একটি বস্তুর অথবা একটি অনুভূতির যথার্থ প্রতীক হয়। যেমনভাবে চীনা লিপিপদ্ধতিতে প্রতিটি চিহ্নই একটি বস্তুর প্রতীক অথবা একটি আবেগের প্রতীক তেমনিভাবে কবিতায় শব্দকে এজরা পাউন্ড পূর্ণভাবে প্রতীকী করতে প্রয়াসী হলেন। ১৯৯৪ সালে উবং ওসধমরংঃবং নামে একটি কাব্য সংকলন প্রকাশিত হয়। সংকলনটি এজরা পাউন্ড কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছিল-যদিও পুস্তকের নামপত্রে এজরা পাউন্ডের কোনো উল্লেখ ছিল না। এই সঙ্কলনটি এই নতুন কাব্যান্দোলনের প্রথম প্রত্যয়ের স্বাক্ষর বহন করছে। এ সময় এজরা পাউন্ড কবিতাকে চিত্রকলা এবং ভাস্কর্যের সাথে সম্পর্কিত করেছিলেন। উপাদান ব্যবহারের দিক থেকে একটি ছবিতে যে কৌশল অবলম্বিত হয় কবিতায় সে কৌশলকে জাগ্রত করা সম্ভবপর কি না এই পরীক্ষা এজরা পাউন্ড এবং তার সমসাময়িক আরো অনেকে আরম্ভ করেন। একটি ছবিতে যেসব রঙ ব্যবহৃত হয় সে রঙগুলো প্রথমেই আমাদের চোখে পড়ে না, পুরো ছবিটি একটি অর্থ নিয়ে আমাদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে। কবিতার উপাদান শব্দ। চিত্রকলার মতো কবিতায়ও শব্দের উপাদানগুলো কখনো বিচ্ছিন্ন হয়ে, কখনো একাকার হয়ে, কখনো তুষারের মতো গলিত হয়ে যদি একটি রূপ-প্রতীক নির্মাণ করতে পারে তা হলে কবিতা চিত্রকলায় সমধর্মী হতে পারবে। এজরা পাউন্ড শুধু নিজের কবিতার ক্ষেত্রেই যে একটি বিশিষ্ট বেধকে সচল করলেন তা-ই নয়, তিনি চিত্রকলায় সমধর্মী হতে পারবে। এজরা পাউন্ড শুধু নিজের কবিতায় ক্ষেত্রেই যে একটি বিশিষ্ট বোধকে সচল করলেন তা-ই তিনি তার কালের কাব্যে ধারার চৈতন্যকে নতুনভাবে নির্মাণ করার কার্যে সহায়তা করেন। এ যুগের ইংরেজি কাব্যে আধুনিকতার প্রবর্তক যারা এবং যারা শিল্পগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এজরা পাউন্ডের সহায়তায় তাদের কাব্যধারায় পরিবর্তন এসেছিল। এখানে বিশেষভাবে ড.ই. ণবধঃং এর নামে উল্লেখ করা যায়।
আধুনিক কালের যা প্রধান ধর্ম অর্থাৎ বস্তুকে আবেগের পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা না করা, এজরা পাউন্ড সেই কলাবিধিকে আবিষ্কার করতে যেয়ে কবিতায় শব্দ-ব্যবহারের চূড়ান্ত পরীক্ষা আরম্ভ করলেন। প্রথম মহাযুদ্ধের পূর্ব থেকেই এই পরীক্ষার সূত্রপাত হয়েছিল বলেই মহাযুদ্ধজনিত বিপর্যয় এবং সর্বনাশের কাহিনীকে ধারণ করার অধিকার আধুনিক কবিতায় হয়েছিল। আধুনিক কালের সব ধরনের জিজ্ঞাসার বাহন হিসেবে কবিরা শব্দকে এবং আঙ্গিককে পেয়েছিলেন, যার ফলে মহাযুদ্ধের কারণে সমাজজীবনের অবক্ষয়, ধর্মের ও নীতির পরাজয় এবং মানুষের অসহায় অস্তিত্ব সহজেই কবিতায় পরিস্ফূট হতে পেরেছিল। আধুনিককালে ফরাসিদের মতো সূক্ষ্ম চেতনা নিয়ে শব্দকে ব্যবহার করবার চেষ্টা ইংরেজি কবিতায় এজরা পাউন্ডই প্রথম করেছিলেন। এর ফলে তার ভাষা শণিত হয়েছিল। এজরা পাউন্ডের জরঢ়ড়ংঃবং এবং খঁংঃৎধ কাব্যগ্রন্থে শব্দ-ব্যবহারের ফরাসি প্রয়োগবিধি লক্ষ্য করি। এজরা পাউন্ডের প্রধান কৌশল ছিল ইউরোপের মধ্য যুগের কাব্য থেকে শব্দের ব্যবহার এবং ধ্বনি মাহাত্ম্য আবিষ্কার, ল্যাটিন এবং ফরাসি ভাষায় গ্রিক মহাকাব্যের অনুবাদের ফলে শব্দ-ব্যবহারের বিবর্তন লক্ষ্য করা, এবং সর্বোপরি সঙ্গীতের সূক্ষ্ম কলাকৌশলকে কবিতার ছন্দ এবং ধ্বনি প্রকৃতির মধ্যে আবর্তিত করা। এভঅবে বিপুল ও বিশেষ পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এজরা পাউন্ড আধুনিক কবিতার গঠন প্রকৃতি আবিষ্কার করলেন। এভাবেই এজরা পাউন্ডের ঈধহঃড়ং এর সৃষ্টি। এজরা পাউন্ডের কবিতায় আঙ্গিক-প্রকল্পে তিনটি সময় একই সাথে মিলিত হয়েছে-প্রাচীন কাল, রেনেসাঁ ও আধুনিক যুগ।
তিনি ইতালি সম্পর্কে বলেননি, গ্রিস সম্পর্কে বলেননি, তিনি বিশেষভাবে মানুষ সম্পর্কেও বলেননি, কোনো বিশেষ বিষয়ের সাড়ায় এ কবিতাগুলো উদ্বেলিত নয়। কিন্তু তার কবিতা আধুনিক কালের বাণীভঙ্গির একটি মহত্তম নিদর্শন।
মানুষের প্রতিদিনের সংলাপকে মহিমান্বিত করে তিনি তার মধ্যে জীবনের সচলতা এবং অন্তঃসারকে আবিষ্কার করেছেন। এভাবে আধুনিক কবিতায় আঙ্গিকের একটি নতুন স্বভাব নির্মিত হলো। এজরা পাউন্ড আবিষ্কার করলেন যে বিপুল বিশ্বে একই সময়ে মানুষ কত বিচিত্র ভাষায় কত বিচিত্র বিষয়ে ও অবিষয়ে কথা বলে চলেছে। যদি সে কথাগুলোর সুর এবং ধ্বনি আমাদের শ্র“তিতে একই সাথে সাড়া জাগায় তাহলে সে মুহূর্তে আমাদের মনে হবে যে, এ পৃথিবীতে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে গেছে এবং এখানে মানুষের প্রতি মুহূর্তের উচ্চারণ অর্থহীনতায় উৎসর্গীকৃত। তাই আধুনিক কবিতায় শৃঙ্খলিত সুরের সম্মোহন থাকে না। আধুনিক সময়ের প্রকৃতিকে প্রকাশ করতে যেয়ে আধুনিক কবিতা হয়েছে বিচিত্র ভঙ্গের শব্দচূর্ণের উদ্দেশ্যহীন সমস্বর।
কাব্য-ক্ষেত্রে শব্দ-ব্যবহারের নতুন রীতি যখন এজরা পাউন্ড প্রবর্তন করেছিলেন সে সময় চড়ংঃ-ওসঢ়ৎবংংরড়হরংঃ চিত্রকলা প্যারিসে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। লন্ডনের শিল্পামোদী বুদ্ধিজীবী সম্পদায় এসব চিত্রকলার সাথে প্রত্যক্ষভাবে পরিচিত হলেন ১৯১০ সালে এৎধভঃড়হ এধষষধৎু-র একটি চিত্র প্রদর্শনীতে।
আমি আগেই চিত্রকলার সাথে আধুনিক কবিতার সঙ্গতির কথা আলোচনা করেছি। ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরে চড়বঃৎু নামক একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ইংল্যান্ডের আধুনিক কাব্য-আন্দোলন এভাবে আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে আমেরিকার কাব্যকলাকে প্রভাবিত করল। এভাবে কবিতায় আধুনিক কলাবিধির একটি সমর্থন ইউরোপ ও আমেরিকা উভয় মহাদেশে প্রায় একই সাথে গড়ে উঠল। এ কাব্যরীতির প্রবর্তন হয়েছিল প্রথম মহাযুদ্ধের আগে এবং তা যুদ্ধকালের বিনাশকে বহন করবার উপযোগী ছিল।
যেহেতু আধুনিক বাংলা কবিতা প্রত্যক্ষভাবে আধুনিক ইংরেজি কবিতা দ্বারা প্রভাবিত তাই ইংরেজি কাব্যের বর্তমান সময়ের আধুনিকতার প্রবর্তন এবং বিকাশ নিয়ে আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছিল।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫