ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

প্রবাসের খবর

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনে প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান

নিউ ইয়র্ক থেকে সংবাদদাতা

২৬ এপ্রিল ২০১৭,বুধবার, ০৭:০৭


প্রিন্ট

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন সংবিধান বিরোধী একটি কালো আইন। এই আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা সহজ হবে। এ আইন পাস হলে দেশে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশী প্রবাসীরা দেশের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হবেন এবং জন্মগত নাগরিক অধিকার হারাবেন। প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নতুন প্রজন্ম বংশগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। ফলে প্রবাসীদের মধ্যে প্রিয় মাতৃভূমি সম্পর্কে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হবে। সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ’।
সোমবার নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন ও প্রবাসীদের অধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় বক্তারা খসড়া আইনটি পুনঃবিবেচনা করে প্রবাসীদের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংগঠনের আহ্বায়ক ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খানের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোর্শেদ। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমদ, উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু ও মঈনুদ্দীন নাসের, ক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভির সিউও আবু তাহের এবং সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, এটর্নী মঈন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এন মজুমদার ও ডিআরইউ -এর সাবেক সেক্রেটারি মনোয়ারুল ইসলাম, সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লেখক ও সাংবাদিক ইমরান আনসারী প্রমূখ। গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব শিবলী চৌধুরী কায়েস।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে ডা. ওয়াজেদ এ খান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা শিক্ষা, অর্থনীতি, উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদেশে পাড়ি জমালেও তাঁদের মন পড়ে থাকে স্বদেশে। শিকড়ের টানে দেশে ফিরে বিনিয়োগ করতে চান, প্রবাসের অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশকে ফিরিয়ে দিতে চান, বসবাস ও নিয়মিত যাতায়াত করতে চান। খসড়া আইনে আরোপিত নাগরিকত্বের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রবাসী ও তাদের সন্তান-সন্ততিদের বাংলাদেশবিমুখ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মেধা আমদানির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর এর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
এসময় মঞ্জিল মোর্শেদ বলেন, এই আইনটি সংবিধানের অনেক ধারার সাথে সাংঘর্ষিক। এ আইন পাশ হলে প্রবাসীদেও তৃতীয় প্রজন্ম পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। এ আইনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সুপ্রীম কোর্টেও দ্বারস্থ হতে হবে।
এটর্নি মইন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব নিতে হলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করার ঘোষনা দিতে হয়। সরকার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চুক্তি করলে আইনগতভাবেই দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবে বাংলাদেশি অভিবাসীরা।
সাংবাদিক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনে নির্বাচন করবার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যা অযৌক্তিক। তিনি সংসদে তিনটি প্রবাসী সংরক্ষিত কোটা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত নাগরিক আইন প্রণয়ণে প্রবাসীদেও বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা এবং বর্তমানে রেমিটেন্স সরবরাহকারী হিসেবে যে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে তা সরকার একেবারেই ভূলে গেছে। যা দুঃখজনক। এআইনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে হবে।
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ইমরান আনসারী বলেন, এই আইন বাংলাদেশের সংবিধানের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে। এই আইন পাশ হলে নাগরিকগন সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। শুধু তাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার জন্য মৌলিক মানবাধিকার বিরোধী ধারা এ আইনে সংযোজিত হয়েছে। পিতার অপরাধের দায়ে সন্তান নাগরিকত্ব হারাবেন এ ধরণের আইন দুনিয়ার কোথাও নেই।
বৈঠকের মূল বিষয়বস্তুর আলোকে মূক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা রাখেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, আইঅন বাংলাদেশ টিভি’র পরিচালক রিমন ইসলাম, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আলী ইমাম শিকদার, কাজী আজহারুল হক মিলন, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদ, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার, ট্রাষ্টিবোর্ড সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী নয়ন, জসীমউদ্দিন ভূঁইয়া, সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম ও মঞ্জুরুল ইসলাম।
মূক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনের খসড়া প্রকাশের পর প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ আইন যেভাবে খসড়া করা হয়েছে তা পাস হলে প্রবাসীদের স্বার্থ বিপন্ন হবে। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে পাস করতে চেষ্টা করছে। তারা সময় থাকতে আইনটির খসড়া বিশ্লেষণ করে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি প্রবাসীদের স্বার্থ যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেদিকগুলো বিবেচনা ও আইনে সংযোজন করার জোর দাবী জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে প্রবাসীদের সচেতন করার লক্ষ্যে ওয়েবসাইট তৈরীর মাধ্যমে প্রস্তাবটির ভালো-মন্দ তুলে ধরা এবং একটি কমিটি গঠন করে প্রস্তাবটি নিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়। তারা প্রবাসীদের বাংলাদেশে সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ সমমর্যাদায় মালিকানা নিশ্চিত করা, তাদের সন্তানদের সমনাগরিক অধিকার, স্বদেশে তাদের জানমাল, সম্পত্তি ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগসহ সব ধরণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫