ঢাকা, বুধবার,২৪ মে ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

কালবৈশাখীতে সতর্ক থাকুন!

কাজী সুলতানুল আরেফিন

২৪ এপ্রিল ২০১৭,সোমবার, ২০:২৯


প্রিন্ট

বৈশাখ মাস। কালবৈশাখীর মাস। দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামনে আরো বড় ঝড় বয়ে যেতে পারে। প্রতি বছর আমাদের দেশে এই সময়ে কম-বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগে থাকে। ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকায়। দমকা হাওয়া আর বৃষ্টি একসাথে শুরু হয়। অনেক সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় হানা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থামানোর শক্তি যেহেতু আমাদের নেই, সেহেতু আমরা সচেতন ও কিছু প্রস্তুতি নিয়ে এর মোকাবেলা করতে পারি। এতে ক্ষয়ক্ষতি একটু কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সম্ভব হলে নিয়মিত আবহাওয়া সংক্রান্ত খবর শোনা বা জেনে রাখা উচিত। যখন কোনো বিপদ সঙ্কেত শোনা যাবে, তখনই নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তার সাথে সাথে গৃহপালিত পশুপাখির নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হবে। সম্ভব হলে গৃহপালিত পশুপাখির ঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। তা সম্ভব না হলে সাধ্যমতো মজবুত করে দিন। ঝড় বয়ে যাওয়ার পরও আমাদের করণীয় নেহায়েত কম নয়। ঝড়ে বেশির ভাগ ক্ষতি উপকূলীয় অঞ্চলে হয়ে থাকে। তাই এসব মানুষকে বেশি তৎপর থাকতে হবে। আর পাশের এলাকার মানুষের উচিত, তাদের খোঁজখবর রাখা। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়ানো উচিত। মহৎ কাজে নিজ উদ্যোগ সব সময় প্রশংসনীয় হয়। প্রথমেই দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের বিশুদ্ধ পানীয় ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশুদ্ধ পানির জন্য বৃষ্টির পানি মজুদ রাখলে সুবিধা হয়। অনেক সময় ঝড়ে মানুষ হতাহতের শিকার হয়। ঝড়ের সময় গাছপালা আর বিদ্যুতের তার ও খুঁটি থেকে দূরে থাকা উচিত। ঝড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে থাকে, এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কিছু কিছু স্থান স্যাঁতসেঁতে হয়ে বিপজ্জনক হয়ে থাকে। অসতর্কতার জন্য যেকোনো মুহূর্তে পড়ে গিয়ে হাত-পা মচকাতে বা ভাঙতে পারে। তাই সাবধানে চলাচল করতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে যোগাযোগ রাখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। যেহেতু এটি মানুষের খুব কাছাকাছি আছে। দুর্যোগে বাড়িঘরের পাশাপাশি গাছগাছালির ক্ষতি বেশি হয়। প্রথমেই ভেঙে পড়া গাছগাছালি সরিয়ে নিতে হবে। এর পর চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার চিন্তা করতে হবে। অপরিষ্কার পরিবেশ নানা সংক্রামক ব্যাধির জন্ম দেয়। শিশুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। এ সময়ে শিশুরা ডায়রিয়া-বমিসহ যেকোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারে। একেবারে ছোট শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে, যাতে করে ঠাণ্ডা না লাগে। শিশুদের চোখে চোখে না রাখলে তারা যেকোনো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। অপরিষ্কার পরিবেশ থেকে তাদের দূরে রাখতে হবে। আসুন দুর্যোগের সময় একে অপরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। সচেতন থাকি, সুস্থ থাকি। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকি। 

পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫