ঢাকা, রবিবার,২৮ মে ২০১৭

কর্পোরেট দিগন্ত

ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের নাম ইউএস-বাংলা

আলমগীর কবির

২৪ এপ্রিল ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আকাশপথে ভ্রমণপিপাসুদের সর্বোচ্চ সুবিধার লক্ষ্যে ‘ফাই ফাস্ট-ফাই সেফ’ স্লোগান নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিয়মিতভাবে গ্রহণ করেছে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সম্প্রতি ইউএস-বাংলা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটে আকর্ষণীয় মূল্যছাড় ঘোষণা। লিখেছেন আলমগীর কবির

আকাশপথে ভ্রমণপিপাসুদের সর্বোচ্চ সুবিধার লক্ষ্যে ‘ফাই ফাস্ট-ফাই সেফ’ স্লোগান নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিয়মিতভাবে গ্রহণ করেছে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সর্বশেষ গত ২০ থেকে ২২ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে টুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম ফেয়ারে’ও এয়ারলাইন্সটির পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে নানা রকম সুবিধা। এর মধ্যে ছিল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটে আকর্ষণীয় মূল্যছাড় ঘোষণা।
এয়ারলাইন্সটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশ-বিদেশের পর্যটনকে আকর্ষণীয় করার উদ্দেশ্যে এবং মেলাকে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় এই মূল্যছাড় দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। যারা এই অফার গ্রহণ করেছেন, তারা ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা ১৯ হাজার টাকা, ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা ১৮ হাজার ৯০০ টাকা, ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা ২২ হাজার ৫০০ টাকা, ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা ১৪ হাজার ৫০ টাকায় ভ্রমণ করতে পারবেন। এ ছাড়া ঢাকা-কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর-ঢাকা একত্রে ২৪ হাজার ২২৫ টাকার ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছিল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে নির্ধারিত ভাড়ার ওপর ১৫% মূল্যছাড় দেয়া হয়েছিল। মেলা থেকে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর রুটে ভ্রমণের জন্য যারা টিকিট ক্রয় করেছেন তারা ৩০ কেজি লাগেজ সুবিধাও পাবেন। এসব সুবিধার বাইরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের স্টল থেকে দেশে-বিদেশে ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় টুর প্যাকেজ সংগ্রহ করার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল মেলায়। এই বিশেষ সুবিধার আওতায় যারা টিকিট ক্রয় করেছেন তারা আগামী ২০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবেন।

অগ্রযাত্রায় রেকর্ড যার নিত্যসঙ্গী :
বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে ইউএস-বাংলা সর্বশেষ সংযোজন। অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্প খুব বেশি সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারেনি। নানা প্রতিবন্ধকতা আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এই শিল্প খুব বেশি সাফল্যের মুখ দেখাতে পারেনি। এর মাঝেও দুই-একটি এয়ারলাইন্স সব প্রতিবন্ধকতাকে ঊর্ধ্বে রেখে নানা সফলতার পালক পরিধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে, এর মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অন্যতম।
১৭ জুলাই ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সর্বপ্রথম বাংলাদেশের সব চালু বিমান বন্দরে ধারাবাহিকভাবে ফাইট পরিচালনা শুরু করে। যার ফলে সারা দেশের আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়েছে সুদৃঢ়। ২০১৪ সালের পূর্বে যেখানে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী সংখ্যা ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে ইউএস-বাংলার ফাইট অপারেশন শুরুর পর ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অতীত সব রেকর্ড ভঙ্গ করে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীসংখ্যার হার ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অচিন্তনীয়, অভাবনীয় বলে বর্ণনা করেছেন অনেকে। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে থেকেও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী সংখ্যার অর্ধেকের বেশি বহন করতে সম হয়েছে। যাত্রা শুরুর পর প্রথম দু’বছরে জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য বেসরকারি বিমান সংস্থা যেখানে ৮-৯ হাজারের বেশি ফাইট পরিচালনা করতে পারেনি সেখানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দুই বছরের কম সময়ে ১৩ হাজার ৮০০ ফাইট পরিচালনা করেছে, যা একটি রেকর্ড।
স্বাধীনতা-পরবর্তী ইউএস-বাংলাই একমাত্র প্রাইভেট এয়ারলাইন্স যা জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফাইট পরিচালনার জন্য পাইলট, কেবিন ক্রু দিয়ে সহায়তা করেছে, যা এভিয়েশন সেক্টরে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রীদের প্রত্য ভোটে অভ্যন্তরীণ রুটে ‘বেস্ট এয়ারলাইন অব দ্য ইয়ার-২০১৫’ নির্বাচিত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ট্রাভেলার্স ফোরাম কর্তৃক ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পরপর দু’বছর ‘বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে। ‘ফাই ফাস্ট-ফাই সেফ’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ফাইট পরিচালনায় সর্বাধিক ৯৮.৭% অন-টাইম পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে সম হয়েছে যা একটি রেকর্ড।
অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী সব প্রাইভেট এয়ারলাইন্সের মধ্যে ইউএস-বাংলার ড্যাশ৮-কিউ৪০০ সিরিজের কানাডিয়ান বোম্বারডিয়ার তৈরি এয়ারক্রাফটই সবচেয়ে বেশি আসনব্যবস্থা সম্পন্ন। প্রতিটি এয়ারক্রাফটের আসন সংখ্যা ন্যূনতম ৭৬। ীপ্রগতিসম্পন্ন এয়ারক্রাফট ড্যাশ৮-কিউ৪০০ ঘণ্টায় ৬৬৭ কিমি. বেগে চলে। উচ্চগতিসম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশে মওসুুমি আবহাওয়াকালীন এয়ারক্রাফট ও যাত্রী উভয়েই নিরাপদ থাকে। আবহাওয়া, গতি ও দূরত্ব ভেদে ২৫ হাজার ফুট ওপর দিয়েও চলাচল করতে পারে ইউএস-বাংলার এয়ারক্রাফট। সারা বিশ্বে ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফটের সেফটি রেকর্ড প্রায় শতভাগ।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের রয়েছে নিজস্ব ক্যাটারিং ও ইউনিফর্মের স্টান্ডার্ড বজায় রাখার জন্য রয়েছে নিজস্ব টেইলারিং ব্যবস্থা, যা অন্য কোনো প্রাইভেট এয়ারলাইন্সের বর্তমানে কিংবা নিকট অতীতে কারোরই অবকাঠামোগত পরিকল্পনার মধ্যে ছিল না। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু করার পূর্বে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলোর কিছু বিষয় উল্লেখযোগ্য ছিল, সেগুলো হচ্ছে নিয়মানুবর্তিতা মেনে না চলা, এয়ারক্রাফটের অভ্যন্তরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কাজ না করা, যা যাত্রীদের বিমান পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বিরূপ ধারণা পোষণ করত। কিন্তু ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সেই সব ভ্রান্ত ধারণা থেকে যাত্রীদের রেহাই দিয়েছে। যার কারণে গত আড়াই বছরে আকাশপথে অভ্যন্তরীণ রুটে রেকর্ডসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেছে।
সময়োপযোগী আধুনিক ও সহজবোধ্য রিজার্ভেশন সিস্টেম ‘জেনিথ’ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে করেছে ব্যবসাবান্ধব। অন-লাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় রয়েছে সহজে টিকিট কনফার্ম করার কার্যকর ব্যবস্থা। সারা দেশে ৩০টির বেশি নিজস্ব সেলস্ অফিস ও প্রায় দুই হাজার ট্রাভেল এজেন্সি সরাসরি ইউএস-বাংলার টিকিট বিক্রয়ের সাথে সম্পৃক্ত।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত, যশোর বিমান বন্দর থেকে খুলনার শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়াই-ফাইযুক্ত বাস সার্ভিস রয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুর থেকে দিনাজপুর ও রংপুর পর্যন্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস সার্ভিসের ব্যবস্থা আছে।
দেশীয় বিমান পরিবহন খাতে ইউএস- বাংলা এয়ারলাইন্সই একমাত্র কোম্পানি যা আইএসও ৯০০১:২০০৮ সার্টিফাইড এয়ারলাইন্স। আমেরিকার নিউ ইয়র্ক সিটির ডিভিশন অব করপোরেশনের একমাত্র তালিকাভুক্ত বাংলাদেশী এয়ারলাইন্স কোম্পানি। আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্রিকোয়েন্ট ফাইয়ার প্রোগ্রাম ‘স্কাই স্টার’, ডোর স্টেপ সার্ভিস প্রোগ্রামসহ আরো অনেক সেবাধর্মী ও সময়োপযোগী সার্ভিস।
ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের জন্য রয়েছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিমালয় কন্যা নেপালের কাঠমান্ডু, নাগরকোট, পোখারাতে রয়েছে আকর্ষণীয় প্যাকেজ সুবিধা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে দু’টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট ও একটি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট বিমান বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে কলকাতা, পারো, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক রুটে ফাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বর্তমানে অভ্যন্তরীণ গন্তব্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল রুটে ফাইট পরিচালনা করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক গন্তব্য ঢাকা থেকে কলকাতা, কাঠমান্ডু, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক রুটে এবং চট্টগ্রাম থেকে মাস্কাট, কলকাতা, ব্যাংকক রুটে ফাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের বিমান পরিবহন সেক্টরে যাত্রী সাধারণের কাছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সই প্রথম পছন্দ। বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দণি এশিয়ার একটি স্বনামধন্য এয়ারলাইন্সে পরিণত হতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫