ঢাকা, মঙ্গলবার,২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

উত্তর খুঁজবে নতুন প্রজন্ম

আনোয়ার বারী পিন্টু

২২ এপ্রিল ২০১৭,শনিবার, ১৯:৩৯


প্রিন্ট

টাইমস অব ইন্ডিয়ার বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’-এর খবরে বলা হয়, ‘ইলিশ, জামদানি, গন্ধরাজ লেবু এবং রবীন্দ্রনাথ। কাছাকাছি এলে যা যা থাকার, সবই ছিল। বাড়তি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজের হাতে রান্না ভাপা ইলিশ। ‘দাদা’ প্রণবের জন্য। ‘বোন’ মমতার জন্য। মমতার অবশ্য ইলিশ খাওয়া হয়ে ওঠেনি। তিস্তার জল নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে মুড়ি-বাতাসা খেয়েই ফিরে এসেছেন।’
এতে আরো বলা হয়, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায়কে তিনি বরাবরই বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করেন। প্রণবের বাঙাল স্ত্রীর সঙ্গেও হাসিনার মধুর সম্পর্ক ছিল। রাষ্ট্রপতি ভবনেই তিনি অতিথি হিসেবে রয়েছেন। সেখানেই নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন তিনি। হাসিনার সঙ্গে ঢাকা থেকে এসেছেন ছয়জন রাঁধুনি। তারাই ইলিশের তিন রকমের পদ রেঁধেছেন। ভাপা ইলিশ রান্নায় নিজেই হাত লাগান হাসিনা। প্রণবদা যে খেতে বড় ভালোবাসেন।’
খবরে বলা হয়, ‘পদ্মার ইলিশ তো এনেই ছিলেন। সঙ্গে ছিল মমতার জন্য জামদানি শাড়ি ও প্রণবের জন্য ঢাকাই মসলিনের পাঞ্জাবি। সন্ধ্যায় দু’জনের হাতেই উপহার তুলে দিয়েছেন হাসিনা। মমতাও হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছেন রাধারমণ মল্লিকের মিষ্টি ও শাল। কী উপহার পেলেন? রহস্য রেখে মমতার উত্তর, ‘গিফটের কথা কেউ বলে নাকি?’
অন্য দিকে, ভারত সফরে সম্পাদিত চুক্তিগুলো নিয়ে নানা মত আর গুঞ্জন চারদিকে। তবে স্পষ্টতা নেই। সব মহল থেকেই স্পষ্টতা দাবি করা হচ্ছে। ইনকিলাব এ বিষয়ে ১০ এপ্রিল সম্পাদকীয় লিখেছে এভাবে- ‘চুক্তি ও সমঝোতাগুলোর শিরোনাম থেকে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয়, এসব চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভারতনির্ভরতা কার্যত নিরঙ্কুশ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এই আস্থার বিষয়টি অপরিবর্তনীয় নয়। ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন এটা সত্য, রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সমান সত্য। নানা চুক্তি ও সমঝোতার জালে জড়িয়ে এই যে, বাংলাদেশকে ভারতনির্ভর করে তোলা হলো, এর নিগড় থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে আসা মোটেই সহজ হবে না। সরকার পরিবর্তন হলে পারস্পরিক আস্থা এখন যেমন আছে, তেমন না-ও থাকতে পারে। কিন্তু চুক্তি ও সমঝোতাগুলো থাকবে; তা ছেঁটে ফেলে দেয়া যাবে না।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আলোচনার সারসংক্ষেপ এ রকম : এ ধরনের চুক্তি বা সমঝোতার আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই। প্রথমত, তা বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত নীতি ও ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সামরিক ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাই যথেষ্ট। একে চুক্তি বা সমঝোতার কাঠামোর মধ্যে এনে সম্প্রসারিত করা বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূল নয়। দ্বিতীয়ত, ভারত যখন বন্ধু, তখন তার সঙ্গে চুক্তি বা সমঝোতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দরকার কী! যেকোনো দেশের প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল নির্ধারিত হয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার ওপর আঘাত আসতে পারে কোন দেশ বা দিক থেকে, তার নিরিখে। সে অনুযায়ী প্রতিরক্ষা নীতি-কৌশল নির্ধারণ ও সামরিক বাহিনীকে সাজানো হয়, অস্ত্র-সরঞ্জাম সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোটিভেশনটাও এ বিবেচনা থেকেই সম্পাদিত হয়ে থাকে।
বিখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। ‘স্টাম্প অব অ্যাপ্রুভাল, বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া : মেকিং থিংস নরমাল’ শিরোনামে পত্রিকাটি লিখেছে- ‘গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দুই বাংলাকে বিভক্তকারী সীমান্তে ভারতীয় সেনারা যত বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছে, শীতল যুদ্ধের সময়ও দুই জার্মানির সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে তত মানুষ মারা যায়নি।’
সফরের আগে দিল্লিতে মোদি সীমান্ত চুক্তি পাস করাকে বার্লিন দেয়াল পতনের সাথে তুলনা করেছিলেন। সেটি ছিল অতিরঞ্জন। বাংলাদেশ ও ভারত এখন যুদ্ধাবস্থায় নেই।
আন্তরিকতার কোনো তুলনা হয় না। আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যেরই ধারা এসব। সবই গতানুগতিক নেতৃত্বের বিলাসী ভড়ং! সবই হলো, কিন্তু প্রশ্নটা অন্যখানে। যাদের জন্য হৃদয়ের এত বিশালতা, তাদের খাওয়ার টেবিলে রেখে ঠিক একইভাবে দু’টি হাত ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা কি একটি বারের জন্যও বলতে পারলেন না ‘পানি মিলেগা’? ভয়টা কোথায়? হিম্মত হারালেন কোনখানে? সেই উত্তরই খুঁজবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

সাধারণ সম্পাদক, বাংলা সাংস্কৃতিক জোট
anwarbaripintu@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫