ঢাকা, শনিবার,২৪ জুন ২০১৭

রাজনীতি

মূর্তি অপসারণ না হলে সুপ্রিমকোর্ট ঘেরাও : চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ২১:৩৩


প্রিন্ট

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, রমজানের আগেই সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসরাণ না করলে ১৭ রমজান বদরের চেতনায় সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ঈদের পর সুপ্রিমকোর্ট ঘেরাও করা হবে।

আজ শুক্রবার বাদ জুমআ বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্মমহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কাদের ও আমিনুল ইসলাম, নগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, যুবনেতা কেএম আতিকুর রহমান, উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ।

চরমোনাই পীর বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে এবং জাতীয় ঈদগাহর পাশে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন করে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনার উপর সবচেয়ে বড় আঘাত হানা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মূর্তি কিভাবে এলো, কোথায় থেকে এলো, কে বসালো তিনি তা জানেন না? আমরা শুনেছি প্রধান বিচারপতির একক সিদ্ধান্তেই মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। অন্যান্য বিচারপতিরা মূর্তি স্থাপনে একমত ছিলেন কি-না সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, কাদের স্বার্থে বা কী প্রয়োজনে বিতর্কিত গ্রিক মূর্তি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে স্থাপন করা হলো। এটা জনতার প্রশ্ন। প্রধান বিচারপতির গ্রিক দেবীর প্রতি কোনো ভক্তি বা অনুরাগ থাকলে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার এ পছন্দকে তিনি জাতীয়ভাবে চাপিয়ে দিতে পারেন না। মূর্তি স্থাপন করে তিনি দেশের সংবিধান লংঘন করেছেন। তিনি গণ-মানুষের আস্থা এবং নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। অতএব এমন একজন বিতর্কিত ও অবিবেচক বিচারপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির আসনে থাকতে পারেন না। বিতর্কিত বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ করা উচিত।

প্রিন্সিপাল মাওলানা মাদানী বলেন, মূর্তি ও ভাস্কর্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মূর্তির পক্ষে ইনু, মেনন ও বাদলরা উলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজেদের নাস্তিক্যবাদী ও ইসলামবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হলো। সময়মত এদের সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

মুফতি ফয়জুল করীম আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে জঙ্গিবাদ উত্থান হয়েছিল, সফরের পর জঙ্গিদের কোনো হদিস নেই। এটা কিসের ইঙ্গিত বহন করে, জাতি জানতে চায়?

ইউনুছ আহমাদ বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের ঈমান-আকীদা ও বোধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মূর্তি স্থাপন করে প্রধান বিচারপতি অনুচিত কাজ করে তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। সময় থাকতে মূর্তি সরান না হলে ঈমানদার জনতা উত্তেজিত হলে আখের রক্ষা হবে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫