ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

একাধিক নগর পরিষদ ট্রাম্পের বরখাস্ত চায়

মঈনুল আলম

২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:১৩


মঈনুল আলম

মঈনুল আলম

প্রিন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর এখনো তার ১০০ দিনে পৌঁছেননি, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনমনে যত বিতর্ক, বিরাগ ও বিরোধিতা সৃষ্টি করেছেন; যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো প্রেসিডেন্টের শাসনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে এর নজির নেই। সাম্প্রতিক ঘটনাটি হচ্ছে, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরো তিনটি শহরের নগর পরিষদগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘ইমপিচ’ করে অপসারণ করার দাবি জানিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে তাকে ‘ইমপিচ’ করার দাবি জানিয়ে কোনো নগর পরিষদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাস করার নজির পাওয়া যায় না।
নগর পরিষদগুলোর ইমপিচ সুপারিশমূলক প্রস্তাবগুলোর প্রতি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অনেকের পরোক্ষ সমর্থন থাকবে। কারণ তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক মসৃণ নয়, নানা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে চলছে। রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ পার্টির সাথে ট্রাম্পের সম্পর্ককে ‘ট্রাম্পস ওয়াশিংটন মিনস সিভিল ওয়ার’ বলে সঙ্গায়িত করেছে।
নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সাথে ট্রাম্পের দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যখন ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণাকালের প্রধানতম অঙ্গীকার ‘ওবামা কেয়ার’ বাতিল করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য তার বিল সংসদে ওঠাতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে নিলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাবেন না দেখে। যদিও কংগ্রেসের উভয় হাউজে রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আছে, কিন্তু রিপাবলিকান দলেরই একটি উচ্চকণ্ঠ অংশ ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিলের বিরোধিতা করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত ইমপিচ বা অপসারিত হন, প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হবেন বর্তমানে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, যিনি একজন গোঁড়া খ্রিষ্টান। এটা লক্ষণীয় যে, গত সপ্তাহেই মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে যে, মাইক পেন্স তার ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে সগৌরবে বলেছেন, তিনি কখনো তার স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো মহিলার সাথে একত্রে বসে আহার করেননি। ট্রাম্পের মতো একজন আপাতনীতিহীন, খেইহারা ও বল্গাহারা বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে সেখানে রক্ষণশীল, নীতিবাদী গোঁড়া খ্রিষ্টান মাইক পেন্সকে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন দেখতে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে ক্রমবর্ধমান আগ্রহের সঞ্চার হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন ব্যক্তিগত পেশায় একজন ‘আপাদমস্তক ডেভেলপার’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমেজ এবং তার প্রতি আস্থা কি দ্রুত ও দারুণভাবে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, তার উদাহরণ দেখা গেল অগ্রণী সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের আন্তর্জাতিক সংস্করণের ১-২ এ্রপ্রিল ২০১৭ সংখ্যার উপসম্পাদকীয় পাতায়। ওই পাতায় তিন শীর্ষস্থানীয় কলামিস্টের তিনটি কলামই হচ্ছে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে। কলামগুলোর শিরোনামই হচ্ছে তীব্র ভাষায় : শীর্ষ কলামিস্ট রজার কোহেনের কলামের শিরোনাম : ‘দ্য অফেন্ডার অব দ্য ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ (মুক্তবিশ্বকে আক্রমণকারী); অন্যতম শীর্ষ কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফের কলামের শিরোনাম : ‘ট্রিজন হ্যাজ মেনি শেডস’ (দেশদ্রোহিতার রঙে অনেক ধাপ আছে); অন্যতম শীর্ষ কলামিস্ট টমাস এল, ফ্রাইডম্যানের কলামের শিরোনাম : ‘ট্রাম্প ইজ অ্যা চাইনিজ এজেন্ট’ (ট্রাম্প হচ্ছেন চীনের এজেন্ট)।
প্রতিটি শিরোনামে কলামের বক্তব্য এমন সুস্পষ্ট যে, কলামগুলোর বক্তব্য এখানে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন দেখছি না। ট্রাম্প ইজ অ্যা চাইনিজ এজেন্ট কলামে ফ্রাইডম্যান লিখেছেন: ... ট্রাম্প বিদেশীদের, বিশেষ করে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাবাসনকে করা কঠিন করে তুলেছেন। এটা করে তিনি চীনের জন্য পথ খুলে দিয়েছেন। উন্নয়নশীল বিশ্বে চীনের প্রভাব বিস্তার করতে এবং বিশ্বের সবচেয়ে স্মার্ট অঙ্ক ও বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করবে তাদের আবিষ্কারভিত্তিক গবেষণাগুলো আমেরিকাকে পরিহার করে বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে করতে।
‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব কলেজিয়েট রেজিস্টার্স অ্যান্ড অ্যাডমিশনস অফিসার্স’ এক জরিপে প্রকাশ করেছে ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে, বিশেষ করে চীন, ইন্ডিয়া ও মিডল ইস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের দরখাস্তের সংখ্যা ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ফ্রাইডম্যান প্রশ্ন রেখেছেন, এর পরও বলতে চাইবেন ট্রাম্প চীনের এজেন্ট নন?
সব মিলিয়ে ট্রাম্প তার চার দিকে পরিস্থিতিকে যেভাবে ঘোলাটে, অনিশ্চিত, আস্থাহীন ও সঙ্ঘাতপূর্ণ করে তুলেছেন; তার মধ্যে তার অগ্রযাত্রাই দারুণভাবে নি¤œমুখী প্রতীয়মান হচ্ছে। এমনও হতে পারে, ২০১৭ সালের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এগিয়ে আসছে এবং তা হতে পারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা থেকে চরম পতন এবং চিরবিদায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি থেকে।

লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, প্রবাসী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫