ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

স্বাধীনতার চেতনা

তৈমূর আলম খন্দকার

২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৮:৫৯ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:১১


 তৈমূর আলম খন্দকার

তৈমূর আলম খন্দকার

প্রিন্ট

বাংলাদেশকে যুগে যুগে বিভিন্ন গোষ্ঠী, পরদেশী শাসনের পাশাপাশি শোষণ করেছে নির্বিচারে। চন্দ্র বংশীয় রাজার পর পাল বংশ, এরপর সেনবংশীয় শাসনামল, পরে তুর্কি ও আফগান শাসক, ইলিয়াস শাহী আমল, হোসেন শাহী শাসন আমল, আবার আফগান শাসন আমল, মোগল আধিপত্য, সিরাজউদ্দৌলার নবাবীর পর ব্রিটিশের আগমন, অতঃপর পাকিস্তান। পূর্ববাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। গোটা পাকিস্তান পাক-ভারত উপমহাদেশের অংশ হিসেবে যুগ যুগ ধরে একীভূত ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট যখন পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীন হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলো, তখন ১২০০ মাইল দূরত্বের ব্যবধানে কেন পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানকে একীভূত করে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল? বিষয়টি অবশ্যই পর্যালোচনার দাবি রাখে। পাকিস্তানের জাতির জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ টু নেশন থিউরির বিরোধিতা করলেও এ ফর্মুলার ওপর ভিত্তি করেই ভারত থেকে আলাদাভাবে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে মিলিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন করা হয়, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও এত দূরত্বের ব্যবধানে একটি রাষ্ট্র গঠনের নজির নেই। পরে ১৯৭১ সালে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, যার রাষ্ট্রীয় সীমানা সম্পর্কে সংবিধানের ২(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে যে সকল এলাকা লইয়া পূর্ব পাকিস্তান গঠিত ছিল, সে সকল এলাকা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সীমানাভুক্ত হইতে পারে।’ ফলে এটাই বাস্তবতা যে, পূর্ব পাকিস্তান ভূখণ্ড পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বাঙালি জাতি ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার ২৪ বছরের ব্যবধানে আবার কেন স্বাধীন হওয়ার জন্য প্রয়োজন অনুভব করল? সম্প্রতি ধর্মনিরপেক্ষতাকে স্বাধীনতার মূল চেতনা হিসেবে অনেক বুদ্ধিজীবী প্রচার-প্রচারণা করে ‘সাম্প্রদায়িক’বিরোধী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অগ্নিমূর্তি ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষ যেমন ধর্মভীরু তেমনি অসাম্প্রদায়িক, বিষয়টি যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্মভীরু মানুষদের সাম্প্রদায়িক বানিয়ে ফয়দা লোটার জন্য বক বুদ্ধিজীবীদের অপচেষ্টার উদ্দেশ্যেই বলতে হয়, পাকিস্তানিদের শোষণ, অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে মুক্তিলাভের জন্য দেশ স্বাধীন হওয়া প্রয়োজন ছিল এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানানোর দাবিতে বা উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত হয়নি।
‘স্বাধীনতা’ পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে চালিয়ে যাওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়ার ফসল। যথা- রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার আন্দোলন। সম্পদের সুষম বণ্টনের দাবিতে আন্দোলন। স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন।
১৯৭০-এর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানিদের কূটকৌশলের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণকে দমন করার জন্য বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে বাঙালিদের সশস্ত্র প্রতিরোধ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন।
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ ছিল সময়ের দাবি। ১৯৭০-৭১ সালে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্ব ও পরে আওয়ামী লীগ যেসব বক্তব্য দিয়েছিল, তা থেকেই স্পষ্ট প্রমাণ, বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত হয়নি। আলোচনাটির সপক্ষে যুক্তি হিসেবে স্বাধীনতা-পূর্ব ৬ দফা দাবি আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘৬ দফা বা আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ইসলামকে বিপন্ন করে তুলেছে বলে যে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে, সেই মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য আমি শেষবারের মতো আহ্বান জানাচ্ছি। অঞ্চলে অঞ্চলে এবং মানুষে মানুষে সুবিচারের নিশ্চয়তা প্রত্যাশী কোনো কিছুই ইসলামের পরিপন্থী হতে পারে না। আমরা এই শাসনতান্ত্রিক নীতির প্রতি অবিচল ওয়াদাবদ্ধ যে, কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত ইসলামী নীতির পরিপন্থী কোনো আইনই এ দেশে পাস হতে বা চাপিয়ে দেয়া যেতে পারে না।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে সময়ে আরো বলেছেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে আমরা ইসলামে বিশ্বাসী নই। এ কথার জবাবে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য, লেবেলসর্বস্ব ইসলামে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হজরত রাসূলে করিম সা:-এর ইসলাম, যে ইসলাম জগৎবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘমন্ত্র। ইসলামের সুবক্তা সেজে পাকিস্তানের মাটিতে বরাবর যারা অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ-বঞ্চনার পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছেন, আমাদের সংগ্রাম সেই মুনাফেকদেরই বিরুদ্ধে। যে দেশের শতকরা ৯৫ জনই মুসলমান, সে দেশে ইসলামবিরোধী আইন পাসের সম্ভাবনার কথা ভাবতে পারেন কেবল তারাই, যাদের ঈমানই আদতে নাজুক আর ইসলামকে যারা ব্যবহার করেন দুনিয়াটা শায়েস্তা করে তোলার কাজে। অতএব আমরা যারা আল্লাহর মজলুম বান্দাদের জন্য সংগ্রাম করছি, তারা ইসলামের বিরোধিতা করা তো দূরের কথা, বরং ইসলামের বিধান মতে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারই উমেদার, আর সে ব্যাপারে প্রতিবন্ধক হলেন তারাই যারা ইসলাম বিপন্নে জিগির তুলে জনগণকে ধোঁকা দিতে চান।’ সূত্র : বাংলাদেশ কালচারাল ফোরাম সম্পাদিত ‘মুজিবের রচনা সংগ্রহ’ (পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫)।
উক্ত বইয়ের (মুজিব রচনা সংগ্রহ) ১৬২ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে :
‘জনসংখ্যার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের প্রিয় ধর্ম হলো ইসলাম। আওয়ামী লীগ এই মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শাসনতন্ত্রে সুস্পষ্ট গ্যারান্টি থাকবে যে পবিত্র কুরআন ও সুন্নায় সন্নিবেশিত ইসলামের নির্দেশাবলির পরিপন্থী কোনো আইন পাকিস্তানে প্রণয়ন বা বলবৎ করা চলবে না। শাসনতন্ত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পবিত্রতা রক্ষার গ্যারান্টি সন্নিবেশিত হবে। সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত বিধিব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
১৯৭০-এর নির্বাচনের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সম্মানিত সদস্যদের শপথবাক্যের প্রারম্ভেই বলা হয়েছিল : ‘আমরা জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগদলীয় নবনির্বাচিত সদস্যবৃন্দ শপথগ্রহণ করিতেছি পরম করুণাময় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার নামে।’ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ১৪-৪-১৯৭১ যে সার্কুলেশন জারি করেছিল তা নি¤œরূপ : ‘গুজবে কান দেবেন না। গুজব রটাবেন না। নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না। মনে রাখবেন আপনার এ সংগ্রাম ন্যায়ের সংগ্রাম, সত্যের সংগ্রাম। পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার দুশমন বাঙালি মুসলমান নারী-পুরুষ, বালক-বালিকা কাউকে হত্যা করতে, বাড়িঘর লুট করতে, জ্বালিয়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা করেনি। মসজিদের মিনারে আজান দেয়া মোয়াজ্জেম, মসজিদে, ঘরে নামাজরত মুসল্লি, দরগাহ-মাজারে আশ্রয়প্রার্থী হানাদারদের গুলি থেকে বাঁচেনি। এ সংগ্রাম আমাদের বাঁচার সংগ্রাম। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার ওপর বিশ্বাস রেখে ন্যায়ের সংগ্রামে অবিচল থাকুন। স্মরণ করুন : আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অতীতের চাইতে ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই সুখকর, বিশ্বাস রাখুন : আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী।’
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সাংবিধানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু দেশটিতে মুসলমানদের কোনো ধরনের ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই। আমরা সব সময় শুনে আসছি, বৌদ্ধধর্ম একটি অহিংস ধর্ম। তারা নিরামিষভোজী। তাদের দৃষ্টিতে প্রাণী হত্যা মহাপাপ। কিন্তু মুসলমান হত্যা পাপ নয়, এটাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের হত্যা করে বৌদ্ধরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করছে। ভারতে উত্তরপ্রদেশে গরু জবাই করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও গরুর গোশত পরিবহন করলে ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করার বিধান করা হয়েছে। ২০১৪ সালে এক বক্তব্যে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, ‘একজন মুসলমান যদি একজন হিন্দু তরুণীকে ফুসলিয়ে নেয়, তাহলে আমরা ১০০ জন মুসলমান মেয়েকে নিয়ে নেব, তারা যদি একজন হিন্দুকে হত্যা করে আমরা ১০০ মুসলমানকে হত্যা করব।’ ভারতের ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং তার রাজ্যে কেউ গরু জবাই করলে তাকে ফাঁসি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ভারতে মুসলমানদের ওপর যে জুলুম নির্যাতন ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদে ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইয়েদ আহাম্মদ বুখারি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি দিয়ে মুসলমানদের ভয়ের পরিবেশ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশ থেকে এ সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়নি। অন্য দিকে, জীবন রক্ষার তাগিদে মুসলমানদের গরু না খাওয়ার পরামর্শ দিতে বাধ্য হয়েছেন হজরত খাজা মঈনউদ্দিন চিশতি রা:-এর মসজিদের পেশ ইমাম। এ জন্য তাকে বরখাস্ত হতে হয়েছে। কারণ, তিনি ইসলাম নীতিবিরোধী কথা বলেছেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ রক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে ‘রাব্বি জিদনি এলমা’ আয়াতটি মুছে দেয়া হয়েছে। সলিমউল্ল্যাহ মুসলিম হল থেকে ‘মুসলিম’ কথাটি বাদ দেয়া হয়েছে। এমনি অনেক প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে যেখানে মুসলিম কথাটি সংযোজিত ছিল সেখান থেকে ইসলাম ও মুসলিম কথা বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র আমেরিকার মুদ্রায় লেখা রয়েছে, ‘IN GOD WE TRUST’। ইংল্যান্ডে জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম লাইন ‘GOD SAVE THE QUEEN’। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র জার্মানি ১০ বছর ধরে শাসন করছে সে দলের নাম ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন’। জার্মানির আরেকটি বড় দলের নাম ‘ক্রিশ্চিয়ান সোস্যাল ইউনিয়ন’। কানাডার একটি বড় রাজনৈতিক দলের নাম ‘ক্রিশ্চিয়ান হেরিটেজ পার্টি অব কানাডা’। নিউজিল্যান্ডের দু’টি রাজনৈতিক দলের নাম ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট পার্টি অব নিউজিল্যান্ড’ এবং ‘ক্রিশ্চিয়ান কোয়ালিশন অব নিউজিল্যান্ড’। ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রিশ্চিয়ান নামের সাথে যুক্ত করে প্রায় অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে, যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে।
সেকুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি কতটা মানবাধিকার রক্ষা করে। হিটলার, স্টালিন তারা সবাই ধর্মনিরপেক্ষ বা সেকুলার ছিলেন। তারা কত মানুষ হত্যা করেছেন, ইতিহাস তার সাক্ষী। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে প্রায় ছয়-সাত কোটি লোক নিহত হয়। তা সেকুলার শাসকদের দিয়েই হয়েছে। আমেরিকায় কালোদের ওপর এবং বর্তমানে মুসলিমদের ওপর সেকুলার শাসকেরাই অত্যাচার করছে। ভিয়েতনাম, আলজেরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানে সেকুলার শাসকেরাই অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ইসলাম একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্ম। তার পরও গোটা বিশ্ব মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক বানাচ্ছে। ১৪ মার্চ ২০১৭ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ঊর্ধ্বতন আদালত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ জারি করেছেন, ‘দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ধারণ করা যাবে না।’ এক কথা বলে আদালত ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেকুলারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু এ রায়ের কারণে মুসলমান মেয়েরা এখন মাথায় হিজাব বা বোরকা পরে কর্মস্থলে যেতে পারবেন না। এটাই বিশ্বব্যাপী এখন ধর্মনিরপেক্ষতা (!)।
স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল সম্পদের সুষম বণ্টন তথা অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতন্ত্র। স্বাধিকার আন্দোলনের সময় স্লোগান দেয়া হতো ‘কেউ খাবে তো কেউ খাবে না, তা হবে না, তা হবে না।’ তখন আরো বলা হতো, ২২ পরিবার গোটা পাকিস্তানের সম্পদ লুটে খাচ্ছে। এখন ২২ পরিবারের স্থলে সৃষ্টি হয়েছে ২২ হাজার পরিবার, যারা ১৬ কোটি মানুষ জিম্মি করে দেশকে খাচ্ছে গোগ্রাসে। মধ্যবিত্ত দিন দিন গরিব হচ্ছে, অথচ ধনীরা হচ্ছে আকাশছোঁয়া সম্পদের মালিক। যার ১০ শতাংশ জমি ছিল সে বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে গেছে; অন্য দিকে যার ২০০ বিঘা জমি ছিল সে হয়েছে ৫০০ বিঘার মালিক।
গণতন্ত্র আজ কোথায় বিরাজমান তা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না। কারণ অনির্বাচিত ব্যক্তিরা সরকার পরিচালনা করছেন আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এখন জেলখানায়। বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্র’ যেভাবে এগোচ্ছে, গিনেসবুকে এর স্থান হওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
taimuralamkhandaker@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫