ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

মতামত

নবায়নযোগ্য জ্বালানি চাই, কয়লা নয়

ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৮:০৯ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:০০


প্রিন্ট

মহান সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেক মানুষের জন্য বিনামূল্যে অক্সিজেন বা নির্মল বায়ু সেবনের ব্যবস্থা রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ এ জন্মগত মৌলিক অধিকার ভোগ করে। আমরা বায়ুপ্রাপ্তির উৎস নিয়ে মোটেও চিন্তা করি না। জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর ক্রমাগত কার্বন নির্গমনের ফলে ভূমণ্ডলের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনক বাড়ছে। দূষিত হয়ে উঠছে আমাদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ বায়ু। প্রতি বছর জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে আলোচনা করছেন, সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাইÑ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী রাখা। কিন্তু ধনী দেশগুলোর আগ্রাসী মনোভাবের জন্য কাক্সিক্ষত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও আশার বাণী হচ্ছে, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ১৭৫টি দেশ তাপমাত্রা ও দূষণ কমানোর জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে রাজি হয়েছে।
ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞরা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পকে বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া বা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সমগ্র বিশ্ব কয়লাকে নোংরা জ্বালানি আখ্যায়িত করে এটা বর্জন করছে বা কয়লাপ্রযুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। দূষণ থেকে বাঁচার জন্য বেলজিয়াম ৩০ মার্চ ২০১৬ তাদের শেষ কয়লা বিদ্যুৎ বন্ধ করে কয়লাকে বিদায় দিয়েছে। ফ্রান্স ২০২৩, ইংল্যান্ড ২০২৫ ও নেদারল্যান্ড ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সব কয়লা বিদ্যুৎ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ২০১৬ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ১৬ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার চারটি প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করেছে। (সূত্র : অস্ট্রেলিয়ার রিনিউ ইকোনমি অনলাইন পত্রিকা, ৬ অক্টোবর ২০১৬)। চীনের ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনআইএ) ১৪ জানুয়ারি ২০১৭ কয়লাভিত্তিক ১০৩টি বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের আদেশ জারি করেছে। ১১টি প্রদেশে অবস্থিত এ প্রকল্পগুলো ১০০ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে। কয়লার পরিবর্তে ২০২০ সালের মধ্যে ১৩০ গিগাওয়াটে উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ু এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। (সূত্র : প্রথম আলো, ২৭ জানুয়ারি ২০১৭)।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি ২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। ভারতের দিল্লি রয়েছে সবার শীর্ষে। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বে বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারত ও বাংলাদেশে। এই দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে এক লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে বলা হয়েছে। বায়ুদূষণের কারণে শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বে বায়ুদূষণের কারণে ২০১৫ সালে ৪২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে। (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানচেটে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। বায়ুদূষণের প্রভাবে এসব শহরে প্রতি মিনিটে দুইজন মানুষ মারা যায়। দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান, ১০ মার্চ ২০১৩-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়লা বিদ্যুৎ দূষণের জন্য ভারতে প্রতি বছর এক লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা যায়।
গত ৮ এপ্রিল ২০১৭ ঢাকায় একটি সেমিনারে ভারতীয় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সৌম দত্ত বলেন, দিল্লি শহরের বায়ুদূষণের জন্য শতকরা ৭২ ভাগ দায়ী হচ্ছে ৭৫০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তিনি আরো বলেন, গুজরাটের মুদ্রাতে টাটা পাওয়ার এবং আমদানি গ্রুপ দু’টি বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করে ২০০৮-২০০৯ সালে, ইতোমধ্যে প্রকল্পসংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বন শতকরা ৬০ ভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে পানিদূষণের জন্য নদীতে মাছ নেই বা কোনো প্রাণী নেই। মানুষের জন্য খাবার পানি সঙ্কট তাই লরির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
গত ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ পরিবেশবিষয়ক সংগঠন গ্রিন পিচ এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণের কারণে এক লাখের মতো মানুষ মারা যায়। কয়লা ব্যবহারের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুদূষণের মাত্রা ব্যাপক হারে বাড়বে। এতে মৃত্যুর হার তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৫০ হাজার মানুষের জীবন বাঁচবে, যদি ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, কোরিয়া, জাপান নতুন কোনো কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ না করে বা নতুন সব কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ২০১১ সালের তুলনায় ২০৩৫ সালে বিদ্যুতের চাহিদা শতকরা ৮৩ ভাগ বাড়বে। গ্রিন পিচের বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ লাউরি মাইলিভিটরা বলেছেন, কয়লার পাশাপাশি চীন ও ভারত জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে। চীন ২০১৩ সলে থেকে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে তারা প্রায় পুরোটাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করছে। ভারতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ছে। (সূত্র : গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনাল, প্রেস রিলিজ, ১৩ জানুয়ারি ২০১৭)।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়লার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ২০২২ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১৭৫ গিগাওয়াটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মোদি সরকার সম্প্রতি ৫০টি ‘সোলার পার্কের’ অনুমোদন দিয়েছে। এগুলোর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৪০ গিগাওয়াট। (সূত্র : প্রথম আলো, ৩ এপ্রিল ২০১৭)।
বেশ কয়েক বছর ধরে চীনের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ প্রকট আকার ধারণ করছে। বিশেষভাবে বেইজিং ও সাংহাই শহরে দূষণের মাত্রা অনেক বেশি। চীনা নাগরিক লিয়াং কিগান ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম ফ্রান্স থেকে একটি জারে করে বিশুদ্ধ বাতাস এনে বায়ুদূষণের প্রতিবাদে নিলামে তা বেইজিংয়ে ৮৬০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেন। (সূত্র : ইউএসএ টুডে, ১১ এপ্রিল ২০১৪)। বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের জন্য চীনের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা বোতলজাত বায়ু ক্রয় করে ব্যবহার করছেন। লিও ডি অটস ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েক শ’ বিশুদ্ধ বায়ুর জার ইংল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করে চীনে বিক্রি করেন। প্রতি জার ৮০ পাউন্ড এবং চায়না নিউ ইয়ার উপলক্ষে ১৫ জার একসাথে ৮৮৮ পাউন্ড বিক্রি করেন। (সূত্র : দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, ইউ কে, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। এখন অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা বিশুদ্ধ বায়ুর বোতল চীনের বায়ুদূষিত শহরগুলোতে প্রতিনিয়ত বিক্রি হচ্ছে।
আগেই উল্লেখ করেছি, ঢাকা এখন বায়ুদূষণে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অবশ্য বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার অবস্থান শীর্ষে ওঠা এবারই প্রথম নয়; ইকোনমিস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ঢাকা দ্বিতীয় বসবাসের অযোগ্য শহর বলে বিবেচিত হয়েছিল। ২০১৩ সালে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ছিল প্রথম। ফোর্বসের ২০০৮ সালের রিপোর্টে ঢাকাকে নোংরা শহর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পরিবেশসহ সব অধিদফতর থাকা সত্ত্বেও আমরা ঢাকাকে দূষণ ও দখলমুক্ত করতে পারিনি, বরং সেটা বেড়েই চলছে। বিগত বছরগুলোয় বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, টেক্সটাইল ও ডাইং বর্জ্য, অন্যান্য কারখানার দূষণ সবই নদীতে পড়ছে। ঢাকার বায়ুদূষণ হয়েছে ইটের ভাটা, কলকারখানার ধোঁয়া, গাড়ির দূষণ ইত্যাদি কারণে। অর্থাৎ কয়লা বিদ্যুতের ধোঁয়া ছাড়াই। আমাদের দেশের বেশির ভাগ শিল্পপতি তাদের কলকারখানায় ইটিপি ব্যবহার করেন না বা পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে আগ্রহী নন। অধিক মুনাফার লোভে, পরিবার ও সন্তানদের জন্য ধন-সম্পদ বানাতে গিয়ে তাদের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করেছেন! উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বা উন্নত দেশের সাথে আমাদের তুলনা করলে চলে না। কারণ আমাদের নদীদূষণ, বায়ুদূষণসহ সব ধরনের পরিবেশ দূষণের জন্য আমাদের ব্যক্তি স্বার্থ বা হীন মানসিকতাই দায়ী। এটা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের আইনকানুন প্রয়োগের সক্ষমতা সম্পর্কে তুলে ধরা এবং বাস্তবতার আলোকে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে সহযোগিতা করা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক দেশ যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবল ঝুঁকির মধ্যে থাকা বাংলাদেশ উল্টো পথে হাঁটছে। এমনই ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে ২৩টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, যার বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। (সূত্র : দৈনিক সকালের খবর, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭)। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৫৫৫০.৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, তার মধ্যে কয়লা থেকে আসছে প্রায় ১.৬১ শতাংশ। সরকার ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫০ শতাংশ কয়লা থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। বলা যেতে পারে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন, উন্নয়ন বা অর্জন যা হয়েছে তা কয়লা ছাড়াই হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের মতো জ্বালানি ব্যবহার করতে আমাদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। দামও ওঠানামা করছে। পক্ষান্তরে প্রাকৃতিক শক্তি থেকে প্রাপ্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সূর্যের আলো, বায়ু ও পানি ব্যবহার করতে আমাদের কোনো টাকা খরচ হচ্ছে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অফুরন্ত সূর্যের আলো আমরা জ্বলানি হিসেবে পাচ্ছি। পরিশেষে বলতে চাই, সভ্যতার ঊষালগ্নে প্রকৃতির বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যৌথভাবে মোকাবেলা করার জন্য মানুষ যে সমাজ গঠন করেছিল তা ব্যক্তিস্বার্থে জলাঞ্জলি দেয়া হচ্ছে। যদিও হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, তারপরও আমি হাল ছেড়ে দিতে চাই না, থাকতে চাই আশাবাদী, দেখতে চাই সরকার একটি সবুজ বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের সম্ভাবনা যখন সঙ্কুচিত, বায়ুদূষণে মানুষের জীবন যখন সঙ্কটাপন্ন, তখন আমাদের উচ্চাভিলাষী মেগা কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প কতটুকু যৌক্তিক ও নীতিনৈতিক, সেটা সরকারকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি। এ প্রবন্ধের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে আবেদন-নিবেদন করে বলতে চাই- ‘কয়লাকে না বলুন’। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন টেকসই জ্বালানি। এ ক্ষেত্রে কয়লা নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানিই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সমাধান।

লেখক : পরিবেশকর্মী ও চেয়ারম্যান, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন
E-mail : farid.dac@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫