ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

বরিশাল

৪১ বছরে ভোলার ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিলীন

সাহাদাত শাহিন, ভোলা

২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৭:৫১


প্রিন্ট

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভোলায় নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত চার দশকে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার অর্ধশতাধিক বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বাস্তুহারা হয়েছেন লাখের বেশি মানুষ।

একের পর এক সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে সমগ্র উপকূল। গবেষণার মাধ্যমে দ্বীপজেলাকে ভাঙন থেকে রক্ষার দাবী এ জেলার আতঙ্কিত মানুষের।

ইতিহাস বলছে, ১২৩৫ সালের দিকে বঙ্গোসাগরের কোল ঘেঁষেই দ্বীপজেলা ভোলার জন্ম। একবিংশ শতাব্দীর সত্তর দশকের দিকে শুরু হয় ভাঙন। যা ৮০ দশকে তীব্রতা বেড়ে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত বাঁধ, ভাঙন রোধে টেকশই ব্যবস্থান গ্রহন না করা ও মানব সৃষ্ট নানা কারণে বর্তমানে ভোলা সদর, চরফ্যাশন, মনপুরা, বোরহানউদ্দিন ও তজুমদ্দিন পয়েন্ট দিয়ে মেঘনা তেঁতুলিয়ায় তীব্র ভাঙন চলছে। এই ভাঙন এখন ভোলাবাসীকে শঙ্কিত করে তুলছে।

প্রবীণ সাংবাদিক এম এ তাহের (৭০) বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ভোলা, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশনে ব্যাপক ভাঙন চলছে, কিন্তু ভাঙন রোধে যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে তা কোনো কাজেই আসছে না। তাই ভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভোলাকে রক্ষা করা যাবে না।

ভোলা স্বার্থ রক্ষা কমিটির আহবায়ক অমিতাভ অপু বলেন, ৭০ দশক থেকে ভাঙন শুরু হলেও ৮০ দশকে তা অনেক কম ছিলো। কিন্তু দিন দিন এ ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে। এর কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।

তিনি বলেন, নদী ও সাগর মোহনায় লবণাক্ততা বেড়ে গেছে, এই লবণপানি ও অতি জোয়ার উপকূলে আঘাত হানলে ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। দিন দিন এর রেশ বাড়ছে আর এ কারণেই আমরা ভোলাবাসী হুমকির মুখে রয়েছি, তাই জলবায়ুর প্রভাব থেকে এখনই সকলকে সোচ্চার হতে হবে।

বোরহানউদ্দিন গঙ্গাপুর এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের (৬৫) বলেন, ১৯৭০ থেকেই তেঁতুলিয়ার ভাঙন শুরু হয়, এ ভাঙনে ইতিমধ্যেই ৪টি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধ হচ্ছে না।

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব বাহাউদ্দিন বলেন, জলবায়ু নিয়ে কথা হলেও এর থেকে উত্তরণের কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই স্থায়ী গবেষণার মাধ্যমে ভোলাকে রক্ষা করতে হবে।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে গত চার দশকে ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাস্তুহারা হয়েছে লাখো মানুষ।

বসতভিটা, স্কুল, কলেজ মাদ্রাসাসহ হাটবাজারসহ নানা স্থপনা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসছে ভোলা। এতে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে ভোলার উপকূলীয় এলাকা। আগামী কয়েক বছরে দ্বীপজেলার জন্য অশনি সঙ্কেত বলেও মনে করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, ভোলার নদী ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি, মানচিত্র থেকে দিন দিন ভোলা ছোট হয়ে আসছে।

পাউবো ডিভিশন-২ চরফ্যাশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও মনপুরার উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা ও শুস্ক মৌসুমে মনপুরা ও চরফ্যাশনের ভাঙনের কবলে পড়ছে। বেশি ভাঙছে মাদ্রাজ এবং চর ফয়েজউদ্দিন পয়েন্ট দিয়ে।

নদী ভাঙনসহ নানা প্রকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে টেকশই ব্যবস্থা গ্রহনের মধ্যদিয়ে গ্যাস সমৃদ্ধ ভোলাকে রক্ষার দাবী জানিয়েছেন এ দ্বীপের মানুষ।

এদিকে, ভাঙন রোধে ইলিশা ও রাজাপুরবাসীর বিভিন্ন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদের একান্ত প্রচেষ্টায় একনেকে ২৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। এ প্রকল্পে দুই এলাকার সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫