ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

অনলাইন জগৎ

হঠাৎ ফেসবুক বিড়ম্বনা

২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৮:০৬


প্রিন্ট

সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তালিকায় ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় শহর হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরই ভুয়া আইডি বন্ধের কার্যক্রম শুরু করেছে। ভুয়া আইডি বন্ধ ও ভুয়া লাইক কমানোর জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। অবাক করার বিষয়, ভুয়া আইডি বন্ধ করতে গিয়ে অনেকের আসল আইডিও বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনে ফেসবুকের বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু অ্যাকাউন্ট খুলেও দেয়া হয়েছে। ফেসবুকের বর্তমান পেক্ষাপট নিয়ে লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারী হিসেবে ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল মিলিয়ে ঢাকা শহর বোঝানো হয়েছে। এখানে দুই কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ সক্রিয়ভাবে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। দেশে যত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে, এর মধ্যে ৯৯ শতাংশই ফেসবুক। বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক কোটি ৭০ লাখ পুরুষ আর ৬৩ লাখ নারী। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ৯৩ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে মোবাইল ডিভাইস থেকে দুই কোটি ২৬ লাখ মানুষ ফেসবুকে ঢুকছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উই আর সোস্যালের করা প্রতিবেদনে ফেসবুক ব্যবহারকারী হিসেবে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয়। ওই সময় ফেসবুক ব্যবহারকারী ছিল এক কোটি ৬০ লাখ। অর্থাৎ গত তিন মাসে ঢাকায় ৬০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়েছে।
ফেসবুকে পুরো বাংলাদেশের ব্যবহারকারী দুই কোটি ৩৩ লাখ হলে ঢাকার সব বাসিন্দা ফেসবুক ব্যবহার করলেও সংখ্যাটি এত বেশি হবে বলে মনে হয় না। সুতরাং এই জরিপ নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েই যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঢাকায় দুই কোটি ২০ লাখ ফেসবুক গ্রাহক থাকলে এর বেশির ভাগই ভুয়া ফেসবুক আইডি।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ গত ১২ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভুয়া অ্যাকাউন্ট ঠেকানোর কার্যকর উপায় হিসেবে ‘স্প্যাম অপারেশন’ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরবসহ অন্য কয়েকটি দেশ থেকে আসা ভুয়া লাইক ও মন্তব্য ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফ্রান্সে এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩০ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি বন্ধ করে ফেসবুক। তবে এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সব ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা সম্ভব হবে না বলে স্বীকার করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মো: মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ফেসবুকের সাথে পুলিশ একটি সমঝোতা চুক্তি করতে চেয়েছিল। ফেসবুকের সাথে আলোচনার পর একটি ডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ডেস্কটি নিয়মিত ফেসবুকের সাথে যোগাযোগ করছে। ফেসবুককে বাংলাদেশ পুলিশ বোঝাতে পেরেছে যে অনেকে ভুয়া আইডি খুলে মিথ্যা, উসকানিমূলক তথ্য পোস্ট করে। ফেসবুক ভুয়া আইডি বন্ধ করে দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
গত ১৬ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হতে থাকে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধের ঘোষণা দিলেও ইতোমধ্যে অনেক প্রকৃত ব্যবহারকারী তাদের অ্যাকাউন্ট হারিয়েছেন। ফলে অনেকের মনে ভয় ঢুকেছে তাদের প্রিয় আইডিটি হারানোর। তিন দিন বন্ধ থাকার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আবার ব্যবহার করতে পারছেন রামপুরার বাসিন্দা হিমেল আহসান। তিনি বলেন, অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ফেসবুকের নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী আবেদন করি। প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জমা দেই। এখন আগের মতোই অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করতে পারছি।
অ্যাকাউন্ট বন্ধের পাশাপাশি অসংখ্য ফেসবুক পেজের লাইকও কমে গেছে। ওইসব ফেসবুক পেজ ব্যবস্থাপনা করেন এমন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, গত দুই দিনে অন্তত প্রতিটি পেজের তিন শতাংশ লাইক কমেছে। ফেসবুক আইডি বন্ধ হলে লাইক কমাটাই স্বাভাবিক। যাদের আইডি বন্ধ হয়েছে তারা যদি ফেসবুকে প্রবেশ করতে না পারেন, তবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। হঠাৎ বন্ধ ৯৬ ঘণ্টা ফেসবুক চালুর চেষ্টা না করা ভালো।
এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন, ফেসবুক সারা বিশ্বে ভুয়া আইডি বা পেজ বন্ধ করতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দিয়েই ফেসবুক ভুয়া আইডি বা পেজগুলোর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিচ্ছে, মোটেও বিষয়টি এমন নয়। এটি তাদের শুদ্ধিকরণ অভিযানের অংশ।
আমরা কেবল ভিভিআইপিদের ফেক আইডি বন্ধের জন্য ফেসবুকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। এই সংখ্যা মাত্র ৬০টি। এ আইডিগুলোর বিপরীতে আমরা ইউআরএল পাঠিয়েছি। ফেসবুক ভেরিফায়েড করলে ওইসব আইডির বিপরীতে যেসব ভুয়া আইডি আছে, সেগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে। মূলত যেসব দেশের আইডিধারীদের মধ্যে অথেন্টিসিটির অভাব রয়েছে, সেসব দেশে ফেসবুক আগে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ফেসবুক এই অভিযান অব্যাহত রাখবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫