ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৫ মে ২০১৭

খুলনা

জীবননগরে বাড়ীতে ডাকাতি

আতিয়ার রহমান,জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)

২১ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৪:১৯


প্রিন্ট

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মারুফদহ ও খয়েরহুদা মাঠপাড়া গ্রামের পৃথক দু’প্রান্তিক পরিবারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা দু’টি গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা নগদ টাকা,স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। ডাকাতদের বোমার আঘাতে ও এলোপাতাড়ী কোপে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী-কন্যাসহ চারজন মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জীবননগর উপজেলার নবগঠিত কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা মাঠপাড়া গ্রামের কালাম গাজীর স্ত্রী রাহিমা বেগম(৫৬) বলেন,বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ১০-১২ জন ডাকাত আমাদের বাড়ীতে প্রবেশ করে। তাদের সকলের হাতে অস্ত্র ছিল। তারা আমাদের ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। তারা আমার মেয়ে শিউলির গলায় থাকা সোনার চেইন,দুইটি মোবাইল ফোন,টর্চ লাইট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার সময় আমার নাতি ছেলে মিলন ও প্রতিবেশী সাইফুলকে মারপিট করে। আমরা হৈ-চৈ করার কারণে ডাকাতরা আমাদের লক্ষ্য করে বোমা মারে,বোমার আঘাতে সাইফুলের শরীর ঝলছে গেছে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর থানা থেকে পুলিশ আসে।
ঘটনার শিকার মিলন বলেন,পুলিশ এসে একটি বোমা উদ্ধার করে পানিতে নিস্ক্রিয় করেন এবং রাস্তার ফেলে যাওয়া কয়েকটি ককটেল উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আমার মা শিউলি খাতুন সব কিছু হারিয়ে এখন বার অজ্ঞান হয়ে পড়ছে।
এদিকে একই দিন রাতে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মারুফদহ গ্রামের বাটিকাপাড়ায় প্রান্তিক কৃষক নবীর হোসেনের বাড়ীতে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মারুফদহ গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে প্রান্তিক কৃষক নবির হোসেন(৬৫) বলেন,আমরা পরিবারের লোকজন প্রতিদিনের মত গত বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ি। ওই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ৫-৭ জন মুখোশধারী ডাকাত সশস্ত্র অবস্থায় আমাদের বাড়ীতে প্রবেশ করে আমাদেরকে ঘুম থেকে ডেকে ওঠায় এবং ঘরের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আমরা বাঁধা দিই। এতে ডাকাত দলের সদস্যরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মাথায় কোপ দিলে আমি মাটিতে পড়ে যাই। এই সময় আমার স্ত্রী জামেলা খাতুন(৫৫) ও কন্যা রেক্য্রোনা খাতুন(২২) ডাকাত দলের বাঁধা দিলে তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার স্ত্রীরও মাথায় কোপ দিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করে এবং আমার উক্ত কন্যাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক হাড়ভাঙ্গা জখম করে। ডাকাতদের মধ্যে ২-৩ জন আমার ঘরে প্রবেশ করে ঘরে গচ্ছিত রাখা ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আওয়ামীলীগ নেতা রওশন আলী বলেন,ঘটনাটি শুনেছি। ডাকাতির শিকার তিন জনই বর্তমানে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শুনছি ডাকাতদের মধ্যে একজনকে চেনা গেছে। ডাকাতির ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আব্দুল আল-মামুন বলেন,ঘটনাটি আমরা শুনেছি। খয়েরহুদা মাঠপাড়ায় রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অন্যদিকে মারুফদহের ভিকটমদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে এবং ঘটনা ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। অপরাধীরা যতই শক্তিশালল হোক না কেন তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এদিকে সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি,ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫