ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৭ আগস্ট ২০১৭

রাজনীতি

মূল সমস্যা ব্লাক মানি

বাস মালিকদের সিস্টেমে আনতে কষ্ট হচ্ছে : আনিসুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ এপ্রিল ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২০:০৩ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২০:০৭


প্রিন্ট

রাজধানীজুড়ে চলমান গণপরিবহন নৈরাজ্য নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, আমরা পুরো সিস্টেমটার পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করছি। কিন্তু মূল বাধা হল পরিবহনকে কেন্দ্র করে হাজার কোটি টাকার ব্ল্যাক মানি কাজ করছে। সেটা ভাঙতে কষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, অনেক দূর এগিয়েছি। এ বছরই রাজধানীতে ছয় থেকে সাতটি কোম্পানির অধীনে কিছু বাস নামানো হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে চার হাজার বাস নামবে।

আজ বৃহস্পতিবার গুলশান ২ নম্বর সার্কেল এলাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের সামনে সড়ক ও ফুটপাতের নিরাপত্তা প্রতিবন্ধকতা সরানোর কাজ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মেসবাহুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রি. জেনারেল মো: সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আব্দুর রাজ্জাকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আনিসুল হক বলেন, রাজধানীতে প্রায় ২০০টি রুটে ২০০ জন মালিকের ছয় হাজার ৩৯০টি গাড়ি রেজিস্ট্রি করা আছে। আমরা চেষ্টা করছি এতগুলো মালিককে ছয় থেকে সাতটি কোম্পানিতে নিয়ে আসতে। এ জন্য সমপরিমাণ রুট তৈরি করতে হবে। গ্রিন রুট, রেড রুট। এটা করতে পারলে তখন রাস্তায় বাসে মারামারি করবে না। কারণ সেই বাসে যদি একজন যাত্রীও না ওঠেন, তারপরও সেই কোম্পানি শেয়ারের মতো তার টাকা পাবেন।

কাজটা সহজ না জানিয়ে মেয়র বলেন, সবাইকে রাজি করানো কঠিন ছিল। কারণ এর পেছনে বিরাট একটি চক্র আছে। হাজার কোটি টাকার ব্ল্যাক মানি কাজ করছে। যেমন ছিল সাত রাস্তাতে, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে। যারা এটা করছেন, উনারাই বলেন, ভাই, অনেক লোকের অনেক স্বার্থ আছে, যেটা বাংলাদেশে থাকে। আমরা বলেছি, তাদের স্বার্থ বেশি না দেশের স্বার্থ বেশি? মানুষ ভুগছে; আসুন আমরা সবাই মিলে কিছু একটা করি।

আনিসুল হক বলেন, রাজধানী থেকে প্রায় দুই হাজার বাস তুলে নিতে হবে। কি হবে সেটা এখনও জানি না। ‘ইটস এ বিগ ফাইট’। কিন্তু আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আমরা একমত হয়েছি এটাই হলো বড় কথা। আশা করি আগামী মাসে আমরা বাস মালিক সমিতির সাথে বসে স্বাক্ষর করব। তারপর সংবাদ সম্মেলন করে জানাব। এখন যেটা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে রুট ঠিক করা, ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতিতে টিকেটিং করা। এ ছাড়া ড্রাইভারদের সমস্যা দূর করতে আমারা একটা বড় ড্রাইভারস একাডেমি করতে চাই। টার্মিনাল, ওয়ার্কশপ করা হবে। এ চিন্তাভাবনা নিয়ে এক বছর আগে যেখানে ছিলাম, সেখান থেকে অনেক দূর এগিয়েছি। তবে সময়ের ব্যাপার। আশা করি এ বছরই কিছু বাস নেমে যাবে। বাকি চার হাজার বাস কিনতে এক-দেড় বছর লেগে যাবে।

মেয়র বলেন, আমাকে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন, এ কাজটি করে দেয়ার জন্য। আমি সে অনুযায়ী কাজ করছি। কাজ শেষ হওয়ার পর এগুলো আর সিটি করপোরেশনের হাতে থাকবে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫