ঢাকা, শনিবার,২৪ জুন ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

হিলারির বিরুদ্ধে প্রণবের কাউন্টার রেভ্যলুশন

মিনা ফারাহ

২০ এপ্রিল ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:২৮


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

বেশির ভাগ বাংলাদেশীর মধ্যে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন তুঙ্গে। পাবলিককে মাইনাস করে এই দেশের রাষ্ট্রযন্ত্রে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে ওই দেশ, বিষয়টি বাংলাদেশীদের অত্যন্ত অসন্তুষ্ট করেছে। ফলে তারাও কত দিন সুখে থাকতে পারবে, ভেবে দেখার সময়।
১৬০ বছর পর আব্রাহাম লিংকনকে ভুল প্রমাণ করল ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব। লিংকন বলেছিলেন, কিছু লোককে সব সময়, সবাইকেই কোনো কোনো সময় বোকা বানানো সম্ভব। কিন্তু সবাইকে সব সময় একসাথে বোকা বানানো অসম্ভব। আনন্দবাজারিদের চিতলের মুইঠ্যা, ভাপা ইলিশের পেটি, গলদা চিংড়ির মালাইকারির তলে চাপা পড়ে গেল কঠিন সত্য। ৫ জানুয়ারির পর, আবারো ২০১৯ সালের নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি এর শীর্ষে।
দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের সম্ভাবনার সমাপ্তি ঘোষিত হলো। কলকাঠির মূল ইঞ্জিনিয়ার এক ব্যক্তি, যার বেলায় বাংলাদেশের একটি বিশেষ দল ও ব্যক্তির আবেগই প্রধান, সার্বভৌম রাষ্ট্রযন্ত্রের এথিক্স যেখানে শতভাগ মূল্যহীন।
গত ৮ এপ্রিল ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকাতে কেপি নায়ারের লেখা প্রবন্ধটি, অত্যন্ত সময়োপযোগী। লেখকের বিশ্লেষণ, সফরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব বাবু নিজে, উদ্দেশ্য ২০১৯-এর নির্বাচনটি আবারো প্রিয় মানুষটিকেই উপহার দেয়া। ‘হাসিনাকে সরাতে ইউনূস-হিলারির চক্রান্ত ব্যর্থ করলেন প্রণব’- নামের মিডিয়ার শিরোনামটি ভুল, বরং কেপি নায়ার লিখতে পারতেন, বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে কাউন্টার রেভ্যলুশন।
এই দফায় এথিক্স ভঙ্গের অন্যতম, দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে রাষ্ট্রপতির কিচেন পর্যন্ত প্রটোকল ভাঙার সিরিজ। ৪৬ বছর পরেও ইন্দিরার কেবিনেটের প্রবীণ সদস্যটি দিল্লিকা লাড্ডুর চোখেই দেখছেন বাংলাদেশকে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কুপ্রভাব দশম সংসদে। কোনো সংজ্ঞাতেই তাকে সংসদীয় গণতন্ত্র বলা যাবে না। এ দিকে খালেদার রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, রাস্তার আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, টকশোতে বসেই দিল্লিকা লাড্ডু বানিয়ে ফেলবেন।
দিল্লিকা লাড্ডুর ব্যাখ্যা। মাতবরের ভাতিজির বিয়ের সান্ধ্যভোজে একপক্ষ গোগ্রাসে গিলছে। অন্যপক্ষ শুধু পানি দিয়ে গিলছে। বাড়ি ফেরার পথে একপক্ষ আরেকপক্ষকে প্রশ্ন করে, কোনো তরকারিতেই নুন নেই, ব্যাপার কী? আরেকপক্ষের উত্তর- সাহস কম না, দিল্লির লাড্ডু খাসনি? ‘হ্যাঁ’ বলে বিদায় নিলো অপরপক্ষ।
দশম সংসদ হচ্ছে সেই দিল্লিকা লাড্ডু, যার কিচেনে তৈরি মোরগ-পোলাও, রেজালা-কাবাব ইত্যাদি সব কিছুই লবণ ছাড়া। ফলে গলা দিয়ে কিছুই ঢুকতে চায় না। জোর করে খেলে বিদ্রোহ করে বসে পাকস্থলী। প্রণব বাবুর গোপন কর্মকাণ্ড গোপনই রয়ে গেল। তিনি থাকতে বিএনপি কিভাবে একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছিল, গবেষণার বিষয়। তবে ভবিষ্যতে যে এ দল থাকতে পারবে না, সেই ইঞ্জিনিয়ারিংই এই সফরের মূল প্রতিপাদ্য।
ওপরে উল্লিখিত প্রবন্ধটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ : ‘... প্রচলিত রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন... এই নৈশভোজের মাধ্যমে প্রণব মুখার্জির ওপর অর্পিত অনেক দায়দায়িত্ব সামনে চলে আসবে, যা ১৯৭১ সালের ১৫ জুন ইন্দিরা গান্ধীর থেকে তার ওপর এসেছে। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে প্রণব মুখার্জির ইতিবাচক ভূমিকা আরো জোরদার হয়েছিল যখন ইন্দিরা গান্ধী তাকে পূর্ব পাকিস্তানের (তৎকালীন বাংলাদেশ) মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ১৯৭১ সালের ২ সেপ্টেম্বর ভার্সাই নগরীতে অনুষ্ঠিত ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ৫৯তম কনফারেন্সে পাঠান। ৪৬ বছর আগের সেসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে প্রণব মুখার্জিকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়। ... শেখ হাসিনার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিন এপ্রিলের ৮ তারিখে নয়াদিল্লিতে যাওয়া প্রায় তিন ডজন চুক্তির ওপরে গুরুত্ব দেবেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু নির্মম সত্যটি হচ্ছে, সাত বছর পর শেখ হাসিনার এই রাষ্ট্রীয় সফরটি হচ্ছে এমন এক সময়, যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জি বিদায়ের প্রহর গুনছেন। ... ঢাকা ফিরে আসার পরে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও শেখ হাসিনার প্রতি প্রণব মুখার্জির সেই আগলে রাখা শেষ হয়ে যায়নি। ... যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের একাধিক সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ইউনূসকে সরিয়ে দিতে শেখ হাসিনার পরিকল্পনার কথা প্রণবকে জানিয়ে তা বন্ধ করতে আকুল আবেদন করেছিলেন হিলারি। ... প্রণব মুখার্জি এর কোনোটাই কানে নেননি, বরং শেখ হাসিনার প্রতি তার আস্থা ও বিশ্বাসে অটল ছিলেন। ... দেশে-বিদেশে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও শেখ হাসিনার সোর্স অনেক শক্তিশালী। সম্ভবত ওয়াশিংটনে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এমন একটি বার্তা হাসিনা আগেই পেয়েছিলেন। এর পরই হাসিনা প্রণবকে ফোন করেন। সেখানে প্রণব হাসিনাকে এই কথা বলে আশ্বস্ত করেন যে, ভারত সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকবে এবং এ বিষয়ে তার (হাসিনার) কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই। ...চলতি সপ্তাহে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে হয়তো বিদায় জানাবেন, কিন্তু ওই ঘটনাটি সব সময় মনে রাখবেন। ...পরিবারের দুঃসময়ে হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যখন নয়াদিল্লিতে স্কুলে পড়তেন, শুভ্রা মুখার্জি ছিলেন তাদের কাছে দ্বিতীয় মায়ের মতো। ওই সময়ে অবসরের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল শুভ্রা মুখার্জির সন্তান অভিজিৎ ও শর্মিষ্ঠা। ...শুভ্রা মুখার্জির মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা দেশের সব কিছু ফেলে শুভ্রার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শোকসন্তপ্ত রাষ্ট্রপতির পাশে থেকে তাকে সান্ত্বনা দেন। ...২০১০ সালে হাসিনা যখন নয়াদিল্লিতে গিয়েছিলেন, প্রণব মুখার্জি তখনই হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য বলেছিলেন। তার ক্ষমতা থাকাকালেই সফল হবে বলে হাসিনা তাকে বলেছিলেন। সাথে এ কথাও বলেছিলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ওই ভারত সফর থেকে তিনি খালি হাতে ফিরতে চান না। এই কথোপকথনের মধ্যেই শেখ হাসিনার ভারত সফরের সব অর্জন বা ব্যর্থতার সব বিষয়ে প্রণব মুখার্জির ভূমিকার বিষয়টি নিহিত রয়েছে।’
চুম্বক অংশের আহরণ- ১. ...সাত বছর পর সফরটি হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জি বিদায়ের মুহূর্ত গুনছেন, যাকে ‘নির্মম সত্য’ বলে উল্লেখ করেছেন লেখক। ২. ২০১০ সালেই সফরটির আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রণব। শেখ হাসিনা তখন বলেছিলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই সফর থেকে খালি হাতে ফিরতে চান না। হিলারি-ইউনূসের বিষয়টি নিয়ে প্রণবকে ফোন করলে, প্রণব এই মর্মে আশ্বস্ত করেছেন, দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ৩. এমনকি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও তার প্রতি মুখার্জির আগলে রাখা শেষ হয়নি। ৪. ভারতের রাষ্ট্্রপতিকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানালেও পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠা সম্পর্ক সব সময় মনে রাখবেন শেখ হাসিনা।
কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়ায় ব্যক্তিগত সম্পর্কই কি রাষ্ট্র?
২. আসল চমকটি রেখেই দিলো। দ্য হিন্দু বলে দিলো, যেভাবে আবারো আব্রাহাম লিংকনকে মিথ্যা প্রমাণ করবে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব। ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে, সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিস্তা বিতর্কের সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন মোদি। (দ্য হিন্দু, ৯ এপ্রিল, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিস্তা চুক্তি)। তিস্তার গেম থিওরি উভয়পক্ষ জানে বলেই এত আত্মবিশ্বাস।
সুজাতা সিংদের অপকর্ম মানতে পারি, কারণ তারা হুকুমের দাস। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে সেরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হয়েও প্রণব বাবুর এ কী ভীমরতি! কোন পর্যায়ের নৈতিক স্খলন এটা! জানি, বাংলাদেশে তার শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু পর্দার অন্তরালে জামাইবেশী মানুষটি চিরকালই রহস্যময়। চ্যানেল আই আয়োজিত টকশোতে মুক্তিযোদ্ধা মেজর আক্তারুজ্জামান জানতে চেয়েছেন, প্রতি মাসে প্রণবপুত্র বাংলাদেশে এসে কী করে? কোনো কোনো মাসে বারবার আসে। এ দেশে কী কী ব্যবসা, সেটাও জানাতে বলেছেন। বিদ্যুৎ খাতে কয়েকটি কোম্পানির মালিকানা নাকি মুখার্জি পরিবারের!
পারিবারিক সম্পর্কের বাইরেও রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এথিক্স ভঙ্গ এবং কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের বিষয়গুলো আদালতের নজরে আসা উচিত ছিল চার বছর আগেই। তা না করে শুধুই এক নেত্রীকে সারাক্ষণ খোঁচানো। গণভবন থেকে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন, সব কিছুরই মালিক জনগণ, কিন্তু প্রণব বাবুরা সেসব তোয়াক্কা করেন না।
বিশেষ পরিবারের প্রতি দুর্বলতা বনাম আরেক পরিবারের প্রতি চরম বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিষয়টিকে কখনোই গুরুত্ব দেয়নি বিরোধী দল। চরম অজ্ঞতার কারণে, রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এখন ভাপা ইলিশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর কোথায় যাবে, জানি না। একজন রাষ্ট্রপতিকে গণভবনের কিচেনে নিজ হাতে রান্না করা পায়েস খাওয়ানোর মধ্যে রাষ্ট্র নেই। সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের ধ্বজাধর হওয়া সত্ত্বেও বোনকে যেসব পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, নায়ারের লেখায় সে ব্যাপারে ইঙ্গিত। ওদের কপাল ভালো, পশ্চিমা মিডিয়া এসব দেখছে না। তারা ব্যস্ত ট্রাম্প-পুতিন কানেকশনের সুইচ নিয়ে। অথচ প্রণব-হাসিনা কানেকশন পুরো পাওয়ারস্টেশনকেই তুলে নিয়ে পালিয়ে গেল। বাংলাদেশ থেকে নেয়া ছয় বাবুর্চি দিয়ে কিচেনের প্রটোকল ভাঙার খবর কি দেশের ইমেজ বাড়িয়েছে? সেখানে ডিনার টেবিলে কী আলোচনা হয়েছে, জানি না। অবসরে যাওয়ার আগে যে ‘উপকার’টি করে গেলেন, সারা জীবন মনে রাখবে ঢাকার ক্ষমতাসীন মহল।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে খালেদাকে দূরে রাখতে যেসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিল কংগ্রেস, এথিক্স ভঙ্গের তালিকার ১ নম্বরে প্রণব। প্রবন্ধতে শুভ্রা মুখার্জিকে বলা হয়েছে ‘দ্বিতীয় মা’। ভাপা ইলিশের পেটভর্তি কাঁচা লঙ্কার রগরগে ঝোলের সম্পর্ক কী বার্তা দিলো বিএনপিকে?
ওই প্রাবন্ধিকের বিশ্লেষণ, দিল্লি সফরের বিষয়টি ইন্দিরা গান্ধীর রেখে যাওয়া দায়দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। বারবার কালার রেভ্যলুশন করে, গণতন্ত্রের ইজ্জত খোয়ানোর ইতিহাস সৃষ্টি করে গেলেন প্রণব বাবু।
৩. কেপি নায়ার থেকে কুলদীপ নায়ার... কালার রেভ্যলুশনের আঙুল রাষ্ট্রপতির দিকেই। প্রণব বেঁচে থাকা অবস্থায় বিএনপির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। না থাকলেও নেই। অবসরে যাওয়ার আগে নিশ্চিত করে গেলেন, ক্ষমতায় যেতে আর কখনোই ভোটের প্রয়োজন হবে না আওয়ামী লীগের।
কংগ্রেসের দুর্বিষহ অত্যাচারের পর খালেদা আশা করেছিলেন, মোদির সরকার হয়তো গণতান্ত্রিক আচরণ করবে। সে লক্ষ্যেই খালেদার উৎসাহ নজর কেড়েছিল। কিন্তু সেই গুড়ে বালি দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি উল্টো মোদির বাংলাদেশ নীতিতে ফের ভূতের আসর। মনমোহনের পর বিজেপি কেবিনেটেও একই ব্যক্তির প্রভাব। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশী সংসদীয় গণতন্ত্রের কিচেনের সব রান্নাই হবে নুন ছাড়া। জোটের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে ছেঁটে ফেলার পর বিএনপির ফুসফুস দু’টিও ফেলে দিলো সাউথ ব্লক। পাবলিক এখন বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যঙ্গ করে। বিদেশীরাও পল্টনকে ত্যাগ করেছে। রাষ্ট্রদূতেরা মাঝে মধ্যে ছেলেভোলানো মোলাকাত করে। তবে ভাতিজা-ভাতিজিরা পিসির বাড়িতে বেড়াতে এলে, মনে হবে খালেদা নামের কেউ এ দেশে কখনোই ছিল না, নেই। যার প্রতি এত ভালোবাসা, তাকে বাদ দিয়ে চাচীর জন্য ঘর তুলবে কেন? বন্ধু না শত্রু- চেনার সময় এখন। প্রণবের সাথে সাক্ষাৎ ক্যানসেল করে জাতীয়তাবাদের ইজ্জত বাঁচিয়েছেন খালেদা।
৪. এথিক্সের যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো গ্লোবাল ভিলেজে রাজনীতির বোতাম খোলা। তা সত্ত্বেও মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ফেইক নিউজের ধুম পড়েছে বাংলা মিডিয়ায়। সরকার সমর্থিত মিডিয়াগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্বাচন বিষয়ে ভুল বোঝাচ্ছে বাংলাদেশী ভোটারদের। বিষয়টি রীতিমতো ঝাঁজর হয়ে সুইকে খোঁচা। আমেরিকায় আছি ৩৭ বছর। রাজনীতি না করলেও রাজনীতি সচেতন। ৫ জানুয়ারি ঘটাননি পুতিন। তবে প্রভাব বিস্তারে ট্রাম্প-পুতিন কানেকশন থাকলে, তদন্ত করছে ক্যাপিটলহিল। প্রেসিডেন্ট বলে ছাড় নেই, বরং দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মতৈক্যের ভিত্তিতেই তদন্তের কাজে বিচার বিভাগের সব শাখা নিয়োজিত করেছে আইন বিভাগ। নিজের দলের প্রেসিডেন্টের এথিক্স ভঙ্গের সম্ভাবনার বিচারে বসেছেন জন ম্যাককেইন এবং লিনসে গ্রামের মতো প্রভাবশালী রিপাবলিকানরা। প্রমাণ পেলে ইমপিচ করবে, কিন্তু সেজন্য লাগবে তদন্ত রিপোর্ট। এ কথাটি কোন শতকে বলতে পারবে বাংলাদেশ?
সারমর্ম : নিক্সন, মার্গারেট থ্যাচার, প্রফুমো, ট্রাম্প, ইন্দিরা, ভুট্টো... প্রমাণ দিয়েছেন, ব্যক্তি যত বড়ই হোক, রাষ্ট্রযন্ত্রের এথিক্স ভঙ্গের অধিকার কারো নেই। ৫ জানুয়ারির কারিগরদেরও নির্দোষ প্রমাণের দায়িত্ব বাংলাদেশীদের। তবে সংসদ কেন নুন ছাড়া হলো তদন্তে, ক্যাপিটলহিলের মতো বিশাল আকারের আয়োজন লাগবে না। কারণ ডিজিটাল ভোট চুরির প্রমাণ বিরোধী দল ছাড়াও পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের হাতে। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব মানেই ২০ দলকে বাদ দিয়ে সম্পর্ক। সুতরাং ভারতবিরোধী হওয়ার বিকল্প নেই বিএনপির। জুজুর ভয় ঝেড়ে ফেলে সত্যের পথে আসা জরুরি। ট্রাম্প-পুতিনের কানেকশন তদন্তের বিষয়টি ২০ দলের জন্য বিনা পরিশ্রমে মূল্যবান রেফারেন্স। কী ভাবছে বিএনপি?

ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫