ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৭ আগস্ট ২০১৭

চট্টগ্রাম

রামগঞ্জে বৈশাখী মেলার নামে চলছে রমরমা জুয়া

জানেন না জেলা প্রশাসক!

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

২০ এপ্রিল ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:৩৮


প্রিন্ট
গভীর রাতে র‌্যাফেল ড্রয়ের অপেক্ষায় লোকজন

গভীর রাতে র‌্যাফেল ড্রয়ের অপেক্ষায় লোকজন

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপজেলাবাসীর একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, রামগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়, কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হেফজ মাদ্রাসাসহ প্রায় ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যবর্তী স্থান ও সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত রামগঞ্জ শিশুপার্কে গত ১ বৈশাখ থেকে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলার নামে রমরমা জুয়ার আসর। সরকার দলীয় প্রভাবশালী একটি মহলের উদ্যোগে রামগঞ্জ শিশুপার্কে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হলেও বিষয়টি জানেন না জেলা প্রশাসক।

বৈশাখী মেলার নামে এ জুয়ার মেলার কারণে উপজেলার খেটেখাওয়া মানুষজন প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছেন। ঘরের মূল্যবান সামগ্রী বিক্রি করে আকর্ষণীয় পুরস্কারের লোভে ১০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত টিকিট ক্রয় করছেন কেউ কেউ।

স্থানীয় লোকজন জানান, বৈশাখী মেলায় বাংলার নানান ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্দেশ্য নিয়ে মেলার আয়োজন করা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রামগঞ্জ শিশুপার্কে অনুষ্ঠিত মেলায় লটারি জুয়ার আয়োজনে বৈশাখী মেলার ঐতিহ্য ম্লান হয়ে গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শতাধিক রিকশায় মাইক লাগিয়ে নানান লোভনীয় অফার দিয়ে টিকেট বিক্রি করে মেলার আয়োজকরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সম্প্রতি রামগঞ্জে একটি ব্যাংক লুট, প্রকাশ্য দিবালোকে এনজিও কর্মীকে গুলি করে টাকা ছিনতাই, করপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসায় ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সৃষ্ট ঘটনাসমূহের মধ্যে লটারি জুয়ার আয়োজনে উপজেলাব্যাপী চুরি ও ছিনতাই বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকায় সচেতন মহলের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠার জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক মেলা অনুষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী কয়েকজন জানান, বৈশাখী মেলা আমাদের ঐতিহ্য হলেও আয়োজক মহল সেসব উপেক্ষা করে জুয়ার আসর বসায়, পুতুল নাচের আদলে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করে। আয়োজকরা বিভিন্ন দিক ম্যানেজ করেই এ মেলা বাস্তবায়ন করছে। পূর্বেও রামগঞ্জের গুলবাগ আবাসন প্রকল্প এবং শিশুপার্কে এ ধরনের মেলার আয়োজন করলেও প্রতিদিন মেলার লাকি কুপন লটারীর টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্ধের কারণে মেলার নির্ধারিত সময় শেষ না হতেই মেলায় অংশগ্রহণ করা সংগঠনগুলো রাতের আধারে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার।

জেলা প্রশাসক অফিসের একটি সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, রামগঞ্জ উপজেলার একজন জনপ্রতিনিধি ডিসি অফিস থেকে ১৫ দিনের জন্য রামগঞ্জ শিশুপার্কে বৈশাখী মেলার অনুমোদন নিয়েছেন। লটারি বিক্রি, লাকি কুপন, ড্র- এসব অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এ ব্যপারে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী আজ বুধবার বলেন, ‘মেলার নামের জুয়ার আসরের অনুমতি কে দিয়েছে? আমি আজই খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। মেলার নামের জুয়ার আসর বরদাস্ত করা হবে না।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫