ঢাকা, শুক্রবার,২৮ জুলাই ২০১৭

বিবিধ

মেধা সাহিত্য বাংলাদেশ এবং কথাশিল্পী জুবাইদা গুলশান আরা

সৈয়দ তোশারফ আলী

২০ এপ্রিল ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:০৪


প্রিন্ট

সঠিক দিনক্ষণ মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে আমরা দশ/এ, সার্কিট হাউজ রোডের ইস্টার্ন কর্নারে এক নাম্বার বিল্ডিংয়ের দোতলায় কমিউনিটি সেন্টারে সবাই একত্র হয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলা। উদ্যোক্তাদের মধ্যে আমার সাথে ছিলেন তরুণ গল্পকার ও রম্যলেখক মাহবুবুল হাসান নীরু, খুলনার কবিতালাপ সংগঠনের নেতা ও আইন পত্রিকা সাম্পাদক মনু ইসলাম, রোববারের গোলাম আম্বিয়া, সৈয়দ ফারুক হাসান, ক্রীড়ালোকের কামাল হোসেন বাবলু এবং আরও একঝাঁক তরুণ-তরুণী। বিকালের আলোচনা সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে পৌঁছাল। আমার স্ত্রী অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছিল। সেদিন আমরা সবাই মিলে ‘মেধা’ নামের একটি নতুন সংগঠনের জন্ম দিয়েছিলাম। অধ্যাপিকা ও কথাশিল্পী জুবাইদা গুলশান আরাকে করা হয়েছিল সভাপতি এবং আমার ওপর অর্পিত হয়েছিল সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। কবি সৈয়দ হায়দার, গল্পকার দিলতাজ রহমান এবং আরো অনেক নবীন কবি, গল্পকার, কথাশিল্পী যুক্ত হয়েছিলেন ‘মেধা’র সাথে। সংগঠনটি আত্মপ্রকাশের কিছু দিনের মধ্যে জুবাইদা আপা শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান পদে যোগদান করলেন। ফলে মেধার কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলো। মেধার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হাসান নীরু অকালে লোকান্তরিত হলেন। কবি সৈয়দ হায়দারও পরপারে পাড়ি জমালেন। আমরা মাঝে-মধ্যে বৈঠক করতে লাগলাম। কিন্তু আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে বেশিদূর আগানো গেল না। ইতোমধ্যে জুবাইদা গুলশান আরা ‘সাহিত্য বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি সাহিত্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা হলেন। সাংবাদিক আবদুর রহিম, কবি কেজি মোস্তফা, অনুবাদক জাফর আলম, অধ্যাপিকা হোসনে আরা শাহেদ, মীনা আজিজ, কবি জাকির আবু জাফর এবং আরো অনেকে এই সংগঠনের সাথে ছিলেন। তারা আমাকেও তাদের সদস্য করে নিলেন। কবি কেজি মোস্তফার সম্পাদনায় সাহিত্য বাংলাদেশের অনেক সংখ্যা বের হয়। আর্থিক সঙ্কটে এ সংগঠনের কার্যক্রমও তেমন অগ্রসর হতে পারেনি। কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ার কারণে নিজেদের মধ্যকার যোগাযোগও হ্রাস পেয়েছিল। যোগাযোগে ছন্দপতন ঘটলেও কখনো আমি কখনো আপা ফোন করতেন। কিছু দিন আগে লাকী, আমার স্ত্রী একবার বলেছিলেন, জুবাইদা আপা কিন্তু অনেক দিন ফোন করছেন না। একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখো। আর রহিম ভাইয়ের অবস্থাইবা কেমন? আমি খোঁজখবর করার আগেই সেদিন জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেতের ভাই হারুণ অর রশিদ আমার সাথে দেখা করতে এসে কথা প্রসঙ্গে বললেন, জুবাইদা আপা মারা গেছেন। আমি তো শুনে থ। জুবাইদা আপা নীরবে চলে গেলেন তাকে নিয়ে তেমন নিউজ হয়নি। নিজের কাছেই প্রশ্ন করলাম সঙ্কীর্ণতা আমাদের কোন গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে? বার্লিনের দেয়াল টেকেনি কিন্তু এ দেশে দলীয়করণের দেয়াল কি এতই দুর্ভেদ্য! দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির অভিশাপে রাজধানী ঢাকা আজ পরিত্যক্ত নগরী হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে! এজন্য ‘কার নিন্দা কর ভাই, মাথা কর নত’, নিন্দা করার বদলে আমাদের মাথা নত করার পরামর্শ দিয়ে গেছেন রবীন্দ্রনাথ, কারণ, অনাকাক্সিক্ষত সবকিছুর জন্য আমরা সবাই দায়ী। সবই আমাদের পাপের ফল। সবার পাপের ভোগান্তি কবে শেষ হবে কে জানে!
গুলশান আপার সাথে কত কথা হতো টেলিফোনে। দেশ নিয়ে, ইতিহাস নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, শিক্ষা নিয়ে, সাহিত্য নিয়ে, সঙ্গীত নিয়ে। তার গানের সিডি বের করার ব্যাপারে কত উৎসাহ দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত সিডি বের হলো এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রেখেছিলাম। তার বাসায় অনুষ্ঠিত একাধিক সাহিত্য সভায় যোগদানের সৌভাগ্য হয়েছে, আলোচনা, আপ্যায়ন, সঙ্গীত পরিবেশনা, সব মিলিয়ে আনন্দের মধ্যে কিছুটা সময় কাটিয়ে অপার আনন্দ পেয়েছি। জুবাইদা আপার স্বামী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষাবিদ, গবেষক। স্বামীর মৃত্যুতে নিঃসঙ্গ জুবাইদা আপা লেখালেখি, সংগঠন নিয়ে সময় পার করার চেষ্টা করেন। পায়ে ব্যথা পাওয়ার পর তার হাঁটাচলা ও কর্মতৎপরতা একেবারেই কমে গিয়েছিল। আমিও ব্যস্ততার জন্য কিছু দিন তার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারিনি। এজন্য সত্যিই অপরাধী মনে হচ্ছে। তিনি আমাদের না জানিয়ে এভাবে বিদায় নেবেন সেটা কখনো ধারণা করিনি। আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানাদিতে তার উপস্থিতি কতই না আনন্দবর্ধক ছিল। তার হাসি, তার মধুর আলাপ, তার মার্জিত ব্যবহার ভোলার নয়। তার মৃত্যুতে আমি স্বজন হারানোর বেদনা অনুভব করেছি। আপা আজীবন শিক্ষকতা করেছেন, সেইসাথে পড়াশোনা আর লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। সাহিত্য বাংলাদেশের বেশ ক’টি সভা হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। এসব সাহিত্য সভায় বক্তব্য রাখার সময় দেখতাম আপা নোট রাখছেন। জিজ্ঞেস করলে বলতেন, নোট না রাখলে ভুলে যাবো। লেখার সময় খুব কাজে দেয় এসব নোট। তিনি প্রচুর লিখেছেন এবং অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।
মেধার উদ্বোধনী সভায় আমি যেসব কথা বলেছিলাম তার আালোকে কিছু কথা উল্লেখ করে এ লেখাটার ইতি টানব। আমরা কেউ কবিতা, কেউ গল্প, কেউ প্রবন্ধ, কেউ সম্পাদকীয়, কেউ নাটকের সংলাপ লিখি অর্থাৎ সৃজনশীল কাজ করি। আমরা যারা এই কর্মকাণ্ডকে শুধু তত্ত্ব হিসেবে নয়, জীবনের অংশ হিসেবে দেখি, তাদেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ এই ক্ষুদ্র আয়োজনে এখানে সমবেত হয়েছি। আমাদের কাজের রূপ আলাদা হতে পারে কিন্তু চরিত্র অভিন্ন। কবিতা লিখুন, গল্প লিখুন, প্রবন্ধ লিখুন, নাটক লিখুন, গান লিখুন, ছবি আঁকুন, ফিচার লিখুন, অনুবাদ করুন, সম্পাদনা করুণ আর সংবাদের শিরোনাম ঠিক করুন কিংবা সম্পাদকীয় লিখুন সবার সাধারণ পরিচয় কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মী। আমরা আমাদের মেধা ও মনন শক্তি ব্যবহার করি সৃজনশীল কাজে। আমাদের কাজ হচ্ছে যা তুচ্ছ, যা নগণ্য, যা অতি সাধারণ তার সাথে নতুন মূল্য যোগ করা। নতুন সত্য নির্মাণ করা। প্রাপ্ত তথ্যের রূপান্তর ঘটানো। নতুন অর্থ যোগ করা। দ্যোতনা দেয়া। যাতে তা নতুন ব্যঞ্জনা পায়, আলো ছড়ায়। আমাদের কাজ অস্পষ্টকে স্পষ্ট করা, এলোমেলো অগোছালোকে সুসংবদ্ধ করা। যাতে তা প্রাণবন্ত ও রসোময় হয়ে ওঠে। পাঠক তথা ভোক্তা যাতে সবকিছু পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে যারা কাজ করেন তাদের মূল কাজ হচ্ছে জানা কথাটাকে ঘষামাজা করে আরও স্বচ্ছ করে তোলা, যাতে নতুন লাগে। প্রথম দেখার, প্রথম চেনার অনুভূতি জাগে। লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিকদের কাজ হচ্ছে পাঠকের চোখ খুলে দেয়া। তাদের দেখার, চেনার অংশীদার করা। ক্ষণিকের আনন্দকে, ভালো লাগাকে চিরকালের করে তোলা। দুঃখ-বেদনাও অমৃত হয়ে ওঠে সত্যিকার লেখক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীর হাতে। এই কাজটি করতে পারলে লেখকের চোখ দিয়ে পাঠক দেখতে শেখে, লেখকের অনুভূতির সাথে পাঠক তার অনুভূতি মিলিয়ে নেয়।
জীবনে দুঃখ থাকবে, বেদনা থাকবে, থাকবে অভাব অভিযোগ, বিড়ম্বনা ইত্যাদি। কিন্তু এসব উপলব্ধি করার ক্ষমতা সবার তীব্র নয়, গভীর নয়। তীব্র ও গভীর অনুভব শক্তি আছে কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকের। কারণ, তাদের মন সংবেদনশীল, দৃষ্টি অন্তর্ভেদী। তবে অভিজ্ঞতা এবং উপলব্ধি সবসময় একসাথে লাভ করা যায় না। কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ ছিলেন একজন দার্শনিক। তিনি তার দার্শনিক ভাবনাকে তার কবিতায় চমৎকারভাবে এনেছেন। মানুষের মন কিভাবে কাজ করে, কখন নিষ্ক্রিয় থাকে আর কখন সক্রিয় হয়ে ওঠে, সে রহস্য আজো মানুষের অজ্ঞাত রয়ে গেছে। ডেফোডিল ফুল বাতাসে আন্দোলিত হওয়ার দৃশ্য যখন কবির দৃষ্টিপথে এসেছিল তখন তার মন ছিল নিষ্ক্রিয়, তাই বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো ভাবনার উদয় হয়নি কবির মনে। কিন্তু পরে অবসর মুহূর্তে যখন সেই মনোরম দৃশ্য তার দৃষ্টিপটে ভেসে উঠল তখন সেই সৌন্দর্য কবিকে আলোড়িত করল। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতাকে কবিমন কিভাবে কাজে লাগিয়ে শিল্প সৃষ্টিতে ব্যবহার করে সেই প্রক্রিয়াকে কবি ডেফোডিল কবিতায় ব্যাখ্যা করেছেন। এভাবেই তিনি মানব দেহে মনের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র অবস্থানকে নির্দেশ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের ‘ক্ষণিকা’য় মনের এই স্বকীয় ভূমিকা আমরা বিশেষভাবে লক্ষ করি। ‘দূরে দূরে আজি ভ্রমিতেছি/মন নাই মোর কিছুতে/তাই ত্রিভুবন ছুটিছে আমার পিছুতে।’ অথবা ‘কত ফুল নিয়ে আসে বসন্ত/আগে পড়িত না নয়নে/তখন কেবল ব্যস্ত ছিলাম চয়নে।’ এসব পঙ্ক্তিতে মনের ভূমিকা বড় হয়ে উঠেছে। বস্তুত, মালা গাঁথার ফুল বা পূজার ফুল তুলতে গিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে ফুলের বাগানে বসন্ত যে সৌন্দর্যের মায়াজাল ফুটিয়ে তোলে তা দৃষ্টি এড়িয়ে যায় বই কি! খণ্ডের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে অখণ্ড শোভা ও সৌন্দর্য সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যায় না। কবিরা, শিল্পীরা, সাধকরা কেবল পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করে সৌন্দর্যের শোভা উপভোগ করেন না। তবে সব মানুষের মতোই তারা সুখ-দুঃখ ভোগ করেন। প্রকৃতির তাণ্ডব ও শোভা প্রত্যক্ষ করেন। ইতিহাসের উত্থান-পতন অবলোকন করেন। খোলা চোখেই প্রত্যক্ষ করেন দিন-রাতের আবর্তন। সবকিছুর মধ্যে একটা যোগসূত্র আবিষ্কার করার জন্য তাকে থাকতে হয় স্বাধীন। হতে হয় মুক্ত মনের প্রতিভূ। এ জন্যই শিল্পীর স্বাধীনতা এত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে কবি, লেখক, শিল্পী বা সাংস্কৃতিক কর্মী যে যা-ই হন না কেন, স্বাধীন নির্বাচনের সুযোগ কতটুকু পান তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে। যে দেশে, যে কালে শিল্পী বা কবির জন্ম এবং ইতিহাসের যে ঘটনাস্রোতের ভেতর দিয়ে তাদের যেতে হয় তার কোনো কিছুকেই বেছে নেয়ার বিন্দুমাত্র স্বাধীনতা ও সুযোগ কারো নেই! শিল্পী বা সাংস্কৃতিক কর্মীর পছন্দ অপছন্দের কোনো মূল্য নেই বাস্তবে। জীবন ও জীবিকার উপায় কিংবা সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার- সবই তো বলতে গেলে শিল্পীর নির্বাচনের বাইরে! তাহলে তার স্বাধীনতা কোথায়?
হ্যাঁ, স্বাধীনতা আছে। এই স্বাধীনতা হলো জীবনের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করার স্বাধীনতা। একজন কবি, শিল্পী বা লেখক তার জীবন অভিজ্ঞতাকে কিভাবে ব্যবহার করবেন, কতটা প্রয়োজন পূরণে কাজে লাগাবেন আর কতটা অপ্রয়োজনীয় বলে ফেলে দেবেন, এ সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন। এ ব্যাপারে তার ওপর কেউ খবরদারি করতে পারবে না। জীবনের টুকরো টুকরো অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞানকে একজন শিল্পী তার নিজের চিন্তা, নিজের দর্শনের আলোকে সমন্বিত করবেন, ঐক্যসূত্রে একত্র করবেন, আকার-আকৃতি দেবেন, এটা তার স্বাধীন ইচ্ছার ব্যাপার, একান্তভাবেই তার নিজস্ব ব্যাপার। তবে শিল্পকর্মের নিজস্ব শাসন শিল্পী মেনে চলবেন, মেনে চলতে হবে লেখার নিয়ম-কানুন। গল্প, কবিতা, নাটক, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও স্বীকৃত নিয়মরীতি স্বেচ্ছায় মেনে নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীকে তার নিজ নিজ মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তার সৃষ্টির রূপ, বিষয়-আশয়, বক্তব্য কী ধরনের হবে, সেটা অন্য কেউ ঠিক করে দেবেন না। এসব তাকেই ঠিক করতে হবে। সমাজ তার সৃষ্টি সম্ভারকে কিভাবে নেবে এবং তার সাথে কেমন ব্যবহার করবে সেটা সমাজের ব্যাপার। সমাজ তাকে পুরস্কৃত করবে না তিরস্কৃত করবে, সমাদর করবে না উপেক্ষা করবে, সে ব্যাপারে তাকে থাকতে হবে উদাসীন এবং সর্ব অবস্থায় তাকে থাকতে হবে স্বাধীনতা রক্ষায় অটল এমনকি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হলেও। কারণ, স্বাধীনতা না থাকলে কারো শিল্পীসত্তা থাকে না। স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি সব দিক থেকে যাতে আলো আসতে পারে তার জন্য মনের জানালা খোলা রাখা প্রতিটি শিল্পীর জন্য জরুরি। কারণ, শিল্পীমন মতবাদে আবদ্ধ মন হতে পারে না। খণ্ডিত, ক্ষুদ্র, একদেশদর্শীও হতে পারে না। বিরোধ-বৈচিত্র্যের মধ্যেই কবি, সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক কর্মীকে বাঁচতে হবে এবং পূর্ণতা অর্জনে এগিয়ে যেতে হবে। জুবাইদা আপাকে সভাপতি করে মেধার যাত্রা শুরু হয়েছিল। তার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য ‘মেধা’, ‘সাহিত্য বাংলাদেশ’ প্রভৃতি সংগঠনের কার্যক্রমকে আবার জোরদার করে তোলা প্রয়োজন। এটা আমরা যারা বেঁচে আছি তাদের দায়। আশা রাখি এ দায় পূরণে আমরা পিছিয়ে থাকব না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫