ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ অক্টোবর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

পাইওনিয়ার হতে পারেনি ভারত

জসিম উদ্দিন

১৯ এপ্রিল ২০১৭,বুধবার, ১৮:০৭


জসিম উদ্দিন

জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট

ভারতীয় ঋণের টাকা কিভাবে খরচ হবে, এর একটি নিয়মকানুন দাতা দেশের পক্ষ থেকে বেঁধে দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত বাংলাদেশের লেবার আঞ্জাম দেয়া ছাড়া অন্য কোনো সংশ্লেষ অনেক ক্ষেত্রে থাকে না। ইট বালু সিমেন্ট একেবারে সস্তায় পাওয়া গেলেও শর্ত অনুযায়ী সংগ্রহ করতে হয়, অর্থাৎ দেশের পণ্য যত সস্তা হোক ব্যবহার করা যায় না। স্বার্থের এমন অগ্রাধিকারের কারণে ২০১০ সালে ভারতের দেয়া এক বিলিয়ন ডলারের ১৫ প্রকল্পের ৭টি সম্পন্ন হতে পেরেছে। ২০১৬ সালের মার্চে তারা আরো ২ বিলিয়ন ডলারে ঋণ দেয় বাংলাদেশকে। সড়ক, রেল ও নৌপথ নির্মাণের প্রকল্পগুলো ভারতীয় যোগাযোগের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণীত হয়েছে। আবার এগুলোর কাজ ভারতীয় ঠিকাদাররা পেয়েছে। প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামও আসবে দেশটি থেকে। বাংলাদেশ কতটা উপকৃত হলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে না; তবে কাজ শেষে ঋণের বোঝা বাংলাদেশের ঘাড়ে থাকছে।
ভারত সরকার এবার সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশেষত জ্বালানি খাতে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে জ্বালানির জন্য বাংলাদেশ অনেকটাই ভারতের ওপর নির্ভর হয়ে পড়বে। এই সময় নেপালের কেসটি আমাদের জানা ছিল। জ্বালানির জন্য অতিমাত্রায় ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে নেপালে কেমন বিপদ মোকাবেলা করেছে তা সবার জানা। বাংলাদেশের বিশাল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে এ ব্যাপারে কোনো আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না। এর বাইরে ৫০ কোটি ডলার সমরাস্ত্র ক্রয়ের জন্য ঋণ দিচ্ছে ভারত। এই অস্ত্র ক্রয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও কোনোভাবে সেই স্বাধীনতার চর্চা করা যাবে তার নিশ্চয়তা নেই। সোজা কথায় বলতে গেলে এগুলো ভারত থেকে কিনতে হবে। ভারতীয় অস্ত্রের মান নিয়ে বিশ্ববাজারে সুনাম রয়েছে এমন খবর নেই। বাংলাদেশ অস্ত্র কেনে চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে। এগুলোর মান নিয়ে এখনো কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। ভারত নিজেই তার প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে অস্ত্র সংগ্রহ করে বিশ্ববাজার থেকে।
ভারতীয় ঋণের সুদের হার নিয়ে প্রশংসা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, চীনা ঋণের ২ শতাংশ সুদের বিপরীতে ভারত ১ শতাংশ সুদ নিচ্ছে। তা ২০ বছরে পরিশোধের কথা বলা হচ্ছে। ঋণের সহজলভ্যতা ও অর্থনৈতিক লাভালাভের বিষয়টি যদি সামনে আনা হয় দেখা যাবে বিশ্বব্যাংক ৭৫ পয়সা সুদে ৩৮ বছরের জন্য ঋণ দিয়ে থাকে। অন্য দিকে জাপান মাত্র ১০ পয়সা সুদে ৫০ বছরের জন্য ঋণ দেয়। বিশ্বব্যাংক ও জাপানের এ ঋণে বাস্তবায়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে এতটা কট্টর শর্ত আরোপ করে না। বিশ্বব্যাংক ও জাপানের চেয়ে ভারত বাংলাদেশের অনেক কাছের উষ্ণ বন্ধু।
চীন বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থসহায়তা করছে। এর সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে ভারত ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক ঋণ প্রস্তাব করেছে। এ জন্য তারা যে প্রকল্প প্রস্তাব করেছে সেটা আসলে সাপ্লাইয়ারস ক্রেডিট হিসেবে থাকবে। এর মানে হলো নিজেদের পণ্য বন্ধুপ্রতিম দেশকে কেনানোর জন্য অর্থের জোগান দেয়া। এ ক্ষেত্রে সরবরাহকারী দেশ এতটাই প্রভাবশালী, তারাই বাংলাদেশের চাহিদা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। যেমন সমরাস্ত্র ক্রয়ের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গিলতে হলো। সরবরাহকারী দেশের আরো সুবিধা হলো কত দাম হবে; কাজটি কিভাবে সম্পাদিত হবে, কারা পণ্যের পরিবহন করবে; আর কারা এর মূল ঠিকাদার নিযুক্ত হবে সব তারা ঠিক করে দিচ্ছে। ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণের ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন বিতর্কিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দেয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার এবার দিল্লি সফরের মধ্যে চুক্তিটি পূর্ণতা পেয়েছে। অথচ সফরের সময় বিষয়টি গোপন থেকেছে। সুন্দরবন ধ্বংস ও বাংলাদেশের পরিবেশগত বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকির বিষয়টিকে উপেক্ষা করে ভারতের পরামর্শে এর নির্মাণকাজ শুরু হতে চলেছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিপক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক অসন্তোষ থাকলেও সরকার তার অবস্থানে বেপরোয়া। অন্য দিকে বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের প্রকল্প ভারতের বিরোধিতার মুখে সরকার বাতিল করে দিয়েছে। এই ব্যারাজ কিভাবে ভারতের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে সে ব্যাপারে কোনো সমীক্ষাও চালানো হয়নি। ভারতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানোর পরপরই সেটা বাতিল করে দেয়া হলো।
১০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য দিতে যাচ্ছে ভারত। নেপালের এই প্রকল্পটি নির্মাণ করবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান। অথচ নেপাল থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ কেনার সুযোগ ছিল। সেই বিদ্যুতের দাম সস্তা হতো। সে ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশ হিসেবে ভারতের মাটি ব্যবহার করতে হতো বাংলাদেশকে। তৃতীয় দেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা অনুমোদিত নয় বলে দেশীয় আইনের দোহাই দিয়েছে ভারত। অন্য দিকে এই অর্থ দিয়ে ভারতীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নেপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প তৈরির কাজ দেয়া হচ্ছে। অথচ ভারত যখন এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তখন নিজ দেশের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বাধা থাকবে না। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদার সুযোগে মাঝখানে একটা ফাও লাভ তুলে নিলো যেন বৃহৎ প্রতিবেশী। তৃতীয় দেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ভারতীয় নীতি সার্ক দেশগুলোর মধ্যে সম্পাদিত ২০১৪ সালের সমঝোতার বিরোধী। বাংলাদেশ সস্তায় বিদ্যুৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে সার্কের সমঝোতাটিকে মূল্যায়ন করা হলো না।
বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ত্রিপুরায় গড়ে ওঠা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যে বিদ্যুৎ বাংলাদেশের রফতানি হচ্ছে, তার দামও বেশি রাখা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের কোম্পানি যে দামে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তার চেয়ে বেশি। ভারতীয়রা যে দামে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে তার চেয়ে অনেক বেশি। সফরে আড়াই লাখ টন ডিজেল কেনার চুক্তি সই হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ১০ বিলিয়ন ডলারের বাকি অর্থে যেসব প্রকল্পের আলাপ-আলোচনা হয়েছে, এর কোনোটি বাংলাদেশের পছন্দের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে এমন খবর নেই। পোশাক রফতানিতে প্রথমে ছাড় দেয়ার কথা বলা হলেও পরে ১২ শতাংশের বেশি কর আরোপ করেছে দেশটি। পাটের ওপর আরোপ করেছে অ্যান্টিডাম্পিং ডিউটি। পাট ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করেছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরে অন্যায়ভাবে আরোপ করা কর উঠিয়ে নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফেরত নিতে না চাওয়া রুপির মতো পাটের ইস্যুটিও আলোচনার টেবিলে জায়গা পায়নি। অন্তত এসব ব্যাপার ৬২ দফা বিবৃতির কোথাও স্থান পেয়েছে বলে জানা যায়নি।
শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে উপমহাদেশে চীন ও ভারতের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের আভাস ফুটে ওঠে। যদিও অর্থনীতি সমরনীতি ও কূটনীতিতে ভারত অনেক পিছিয়ে পড়েছে চীনের তুলনায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারত যে ব্যর্থ হয়েছে, সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সে জন্য নানাভাবে এর সমালোচনা শুরু হয়েছে। চীনা সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস ভুটানের সাথে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে না ওঠার জন্য ভারতকে দায়ী করেছে। পত্রিকাটি এক সম্পাদকীয়তে ভুটানের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতকে দায়ী করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাড়ে সাত লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশের একটি উপজেলার সমান দেশটিতে তিন দিনের সফর করছেন।
একটি দেশের পার্শ¦বর্তী বৃহৎ দেশ যদি হিংসাত্মক মনোভাব পোষণ করে তাহলে জনগণের উন্নয়ন সম্ভব হয় না। উন্নয়নের জন্য অন্ততপক্ষে বৃহৎ দেশের নিরপেক্ষ মনোভাব দরকার। উপমহাদেশের বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা নেপাল যখন দরিদ্রতার সাথে লড়াই করছে, তখন পৃথিবীর অনেক দরিদ্র দেশই প্রতিবেশীদের উদার সহযোগিতা নিয়ে চরম উন্নতি করেছে।
মাত্র আড়াই হাজার বর্গকিলোমিটারের দেশ লুক্সেমবার্গ। ল্যান্ড লকড দেশটির চার দিকে ঘিরে রয়েছে ইউরোপের বৃহৎ শক্তি জার্মানি, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটি পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর মাথাপিছু জাতীয় আয় এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি। ইউরোপীয় অর্থনীতির কেন্দ্র হয়ে উঠতে আশপাশের দেশগুলো ঈর্ষাকাতর হয়ে ওঠেনি। ভূমিপরিবেষ্টিত হওয়ার সুযোগ বড় তিনটি দেশের কোনোটি নেয়নি। উপমহাদেশের ল্যান্ডলকড নেপাল ও ভুটান পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হয়ে আছে। সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়ায় নেপালের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া দুর্ভোগের বিষয়টি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। দেশটি জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ অবরোধের পর নেপাল সাহসিকতার সাথে হিমালয়ের দুর্গম পথ উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছে। ওই পথে তারা চীনের কাছ থেকে সাহায্যের আহ্বান জানাচ্ছে। মোটকথা ভারতের ওপর নির্ভরতা কমাতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে দেশটিতে শুরু হয়েছে চীনের সাথে ১০ দিনব্যাপী সামরিক মহড়া। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘সাগরমাতা ফ্রেন্ডশিপ-২০১৭’। দীর্ঘ দিনের ভারতীয় কব্জা থেকে দেশটি নিজেদের বের করে নিচ্ছে।

ভুটান সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

ভারত পরিবেষ্টিত ভুটান পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম। ৩৮ হাজার ৩৬৪ বর্গকিলোমিটারের প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে পারেনি। তারা ভারতকে ডিঙিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি উন্নত দেশগুলোর সাথে। জীবন-মানের দিক দিয়ে ভারতেরও পেছনে তারা পড়ে রয়েছে। ২০১৩ সালে দেশটির মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন দুই হাজার ৩৬২ মার্কিন ডলার। নেপালের অবস্থা আরো করুণ। দেশটির মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন ৬৯৪ মার্কিন ডলার মাত্র। ইউরোপের আরেকটি ল্যান্ডলকড ক্ষুদ্র দেশ লিচেনস্টেইন। সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও জার্মানি পরিবেষ্টন করে আছে দেশটি। মাত্র ১৬০ বর্গকিলোমিটারের দেশটির জনসংখ্যা ৩৭ হাজার। মাথাপিছু জাতীয় আয় ২০১৫ সালের হিসাবে ৭৫ হাজার ২৭৪ মার্কিন ডলার। এ দেশের মানুষেরা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ ক্রয়ক্ষমতার অধিকারী।
এশিয়ায়ও এমন উদাহরণ রয়েছে। তাইওয়ানের মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন ৪৬ হাজার মার্কিন ডলার। পৃথিবীর প্রথম দশটি ধনী দেশের মধ্যে পড়েছে দেশটি। বিশ্বের দেশগুলোর যে গড় জাতীয় উৎপাদন, তার তুলনায় তাইওয়ানের গড় জাতীয় উৎপাদন ২২ গুণ বেশি। দেশটির জনসংখ্যা দুই কোটি ৩৩ লাখ। আয়তন ৩৬ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটার।
তাইওয়ান একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। এরা মূল চীনকে তাদের দেশ বলে দাবি করে। অন্য দিকে চীন তাইওয়ানকে নিজেদের দেশের অংশ বলে দাবি করে। মূল ব্যাপারটি হলো মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে যখন কমিউনিস্ট বিপ্লব সাধিত হয় তখন কুনমিংটাং সরকার পরাস্ত হয়ে তাইওয়ানে আশ্রয় নেয়। মাও আর অগ্রসর হয়ে তাইওয়ান থেকে কুনমিংটাং সরকারকে উচ্ছেদ করেননি।
বিস্ময়কর ব্যাপারে হচ্ছে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে কট্টর বিরোধিতা রয়েছে। চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের শর্ত হচ্ছে তাইওয়ানকে চীনের অংশ মনে করতে হবে। অন্তত তাইওয়ানকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া যাবে না। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তাইওয়ান নিয়ে উসকানিমূলক কথা বলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শেষে মূল ভূখণ্ড চীনের দাবিকে মেনে নিয়ে ট্রাম্প এ ব্যাপারে উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশও তাইওয়ানের ব্যাপারে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে চীনকে একবার অসন্তুষ্ট করে। অপরিপক্ব রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব দেশের জন্য ক্ষতি বয়ে আনে। এ ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত দেশ দু’টির সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মূল ব্যাপার হলো, তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করলেও চীন কখনো দেশটির জনগণের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়নি। এ কারণে ঠিক তার পেটের মধ্যে বৈরী দেশটি কোনো ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে উদ্বুদ্ধ হয়নি। এমনকি দেশটির সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এতে দু’টি দেশের জনগণ লাভবান হয়েছে। ২০১৫ সালে চীনের মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন যখন আট হাজার ডলারের সামান্য বেশি একই সময় তাইওয়ানের মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন প্রায় ৪৭ হাজার ডলার। চরম শত্রুতা থাকার পরও চীন ঈর্ষাকাতর হয়নি দেশটির প্রতি। চীন চাইলে তাইওয়ানের অর্থনীতি গলাটিপে ধরতে পারত। উভয় দেশের মানুষ জাতিগত চীনা। তাদের মধ্যে নাড়ির টান রাজনৈতিক আদর্শিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাইওয়ানের সমৃদ্ধিতে চীন বাধা সৃষ্টি করেনি। এই উদারতার ফল চীনও এখন ভোগ করছে। ভারত নিজে যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দেশ একই সাথে তার প্রতিবেশীরাও দারিদ্র্যের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। দেশটি হতে পারেনি অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের পথ প্রদর্শক।

jjshim146@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫