ঢাকা, রবিবার,৩০ এপ্রিল ২০১৭

স্বাস্থ্য

মৃগীরোগ কি বংশগত?

ডা: মৌসুমী রিদওয়ান

১৮ এপ্রিল ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:১৮


প্রিন্ট

না, এটি বংশগত নয়। তবে কিছু কিছু মৃগীরোগ বংশগত। বিশেষ করে ছোটবেলায় যাদের বিশেষ খিঁচুনি হয়। এ জন্য কেউ রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিতে পারে। যদি কারো ছোটবেলায় খিঁচুনি হয়ে থাকে তবে তার খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি ৮০ শতাংশ বেড়ে যায়। খিঁচুনির মতো উপসর্গ হলেই যে খিঁচুনি বা মৃগীরোগ তা কিন্তু নয়। অন্যান্য বহু স্নায়ু রোগেরও এই একই রকম উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন :
১. মাইওক্লোনাস : হঠাৎ করে পুরো শরীর বা শরীরের যেকোনো অংশ ঝাঁকি দিয়ে উঠতে পারে।
২. টনিক : শরীর কাঠের মতো শক্ত বা টানটান হয়ে যাওয়া।
৩. প্যারালাইসিস : পুরো শরীর বা শরীরের যেকোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া।
৪. পেলভিক থ্রাস্টিং : কোমর দাপানো বা তলপেট ও নিতম্ব নাড়ানো।
৫. কোরিও অ্যাথোটোসিস : নাচের ভঙ্গিমায় হাত-পা নাচানো।
এ ছাড়া ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিক কার্যক্রম, মতিভ্রষ্ট রোগ বিভ্রান্তি, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, অন্যমনস্ক হয়ে একদিকে তাকিয়ে থাকা, খুব ভয় বা খুব রাগ হওয়া প্রভৃতি ক্ষেত্রে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। এগুলো খিঁচুনিতেও হতে পারে, অন্যান্য স্নায়ু রোগেও হতে পারে। তাই কোনটা খিঁচুনি বা মৃগী আর কোনটা নয় সেটি নির্ণয় করতে হলে একজন দক্ষ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তিনি রোগীর ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো বিশ্লেষণ করে বলতে পারবেন রোগীর খিঁচুনি রোগ, না কি অন্য কোনো কিছু। এ ক্ষেত্রে রোগীকে ইইজি, সিটি স্ক্যান কিংবা এমআরআই করার প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা
চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য রোগীকে যে ওষুধ দেয়া হয় তা যেন খিঁচুনিকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিতে পারে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেন না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার। গত দশকে অনেক নতুন নতুন খিঁচুনি বন্ধের ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে। ওষুধ দেয়ার আগে ডাক্তারকে বুঝতে হবে, রোগীর কী ধরনের খিঁচুনি হয়েছে। কারণ মস্তিষ্কের এক স্থান থেকে যে খিঁচুনি তার জন্য ওষুধ এবং মস্তিষ্কের দুই পাশ থেকে উঠলে তার ওষুধ ভিন্ন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫