ঢাকা, সোমবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নির্বাচন

ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ এপ্রিল ২০১৭,সোমবার, ২০:১৪


প্রিন্ট

আগারগাঁওস্থ নিজস্ব ভবনে সাংবাদিক প্রবেশ দেখতে চায় না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভবনের মুল গেটে সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার বিচার চাইতে গেলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ স্পষ্টই জানিয়েছেন, ‘আপনারা আসলে আসেন, না আসলে না আসেন। আমাদের কিছু করার নাই। নির্বাচন কমিশনের দ্বিতীয় তলা ও চতুর্থ তলা ছাড়া অন্য কোনো তলায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেয়া যাবে না।’

আজ সোমবার দুপুরে ভবনের মূল ফটকে নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিকার চাইতে গেলে ইসি সচিব এসব মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রায় মাস খানেক ধরে নির্বাচন কমিশনের ‘নির্বাচন ভবনে’ সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করার কথা বললেও সোমবার হঠাৎ করেই ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে সংস্থাটি।

ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীরা বলেন, প্রবেশের জন্য কোনো কার্ড নেই। অনুমতি নিয়ে আপনাদের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে একাধিক সিনিয়র সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসেন অফিস সহাকারি মোহাম্মদ মাসুদ ও নিরাপত্তারক্ষী নুরুল ইসলাম। নিরাপত্তারক্ষী পুলিশ ডেকে এনে জেলে দেয়ার হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় দুর্বব্যাবহার করেন। পরে ইসির ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা এ ঘটনা নিয়ে প্রতিকার চাইতে ইসি সচিবের কাছে যান। কিন্তু তখন সিইসি কেএম নুরুল হুদা চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবসহ অন্যদের নিয়ে দুপুরে খাবার খাচ্ছিলেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সচিবের সাক্ষাত পান সাংবাদিকরা। অনেক সাংবাদিকদের একসাথে দেখে কিছুটা বিরক্ত হন ইসি সচিব। বাংলাদেশ সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ থাকলে ইসিতে কেন থাকবে না জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটা সচিবালয় নয়, এটা নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় তলা (জনসংযোগ কর্মকর্তার কার্যালয়) আর চতুর্থ তলা (সিইসি ও সচিব) যেতে পারবেন সাংবাদিকরা। অন্য ফ্লোরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের দাবি ছিল নির্বাচন ভবনের সব তলাতেই (১০ তলা ভবন) প্রবেশাধিকার দেয়ার। ইতোমধ্যে নির্বাচন ভবনের মূল ফটকসহ প্রত্যেক তলার প্রবেশ পথে একসেস কন্ট্রোল বসিয়ে সবার প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করেছে ইসি। ভবনে পঞ্চম তলায় বসেন চারজন নির্বাচন কমিশনার। তাদের সাথে গণমাধ্যম কর্মীদের কথা বলার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তৃতীয় তলায় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা, এছাড়াও অন্যান্য তলায় ইসির গুরুত্বপূর্ণ শাখা অফিস রয়েছে। যেগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দিতে চান না কে এম নুরুল হুদান নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন।

সাংবাদিকরা জানান, আপনারা তো শুধুমাত্র ইসির প্রচারণামূলক খবরই দেন। কিন্তু প্রতিদিন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নানা অনিয়মের খবর খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলতে হয়। সচিবকে সব সময় পাওয়া যায় না।

তখন ইসি সচিব আব্দুল্লাহ বলেন, এখানে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা যা নিয়ম করবো, সেটাই মানতে হবে। আপনারা চাইলেই তো ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করতে পারেন না। তাই সাংবাদিকদের চাইলেই ফ্রি একসেস দিতে হবে, এমন তো কোনো কথা নেই। আপনারা দুই ফ্লোর ছাড়া অন্য ফ্লোরে কি জন্য যাবেন? আপানাদের তো কোনো কাজ নেই। অন্য তলায় আপানাদের কি কাজ? এই দুই তলায় আসবেন, সাক্ষাতকার যা লাগে, নেবেন, চলে যাবেন। অন্য তলা যেতে হবে কেন?’ ‘আমি অনেক জায়গায় কাজ করেছি। কিভাবে সবকিছু হ্যান্ডেল করতে হয় আমি জানি’-এমন কথাও যোগ করে সচিব।

লাঞ্ছিত করার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, আপনারা লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্ত করে দোষী হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫