ঢাকা, মঙ্গলবার,২৫ এপ্রিল ২০১৭

ইতিহাস-ঐতিহ্য

একটি পাতিলেবুর দাম ৩৪ হাজার টাকা!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৬ এপ্রিল ২০১৭,রবিবার, ১৯:০৯


প্রিন্ট

একটি পাতিলেবুর দাম কত হতে পারে? বড়জোর কয়েক টাকা। কিন্তু ভারতের তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরম জেলার একটি মন্দিরে সম্প্রতি একটি বিশেষ পাতিলেবু বিক্রি হয়েছে ২৭ হাজার রুপিতে (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩৪ হাজার টাকা)।
কী বিশেষত্ব এই লেবুর? কেনই বা এমন আকাশছোঁয়া দাম এর? আসলে প্রতি বছর ভিল্লুপুরমের তিরুভানাইনাল্লুর গ্রামের বালাথান্ডায়াউথাপানি মন্দিরে ১১ দিন ধরে আয়োজিত হয পাঙ্গুনি উথিরাম উৎসব। সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষে উৎসবের প্রথম ৯ দিনে প্রতি দিনই মন্দিরের আরাধ্য দেবতা মুরুগার বিগ্রহের হাতে থাকা ত্রিশূলে বিদ্ধ করা হয় একটি করে পাতিলেবু। উৎসবের শেষ দিনে সেই ত্রিশূল-বিদ্ধ লেবুগুলোই নিলাম করে বিক্রি হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই লেবু নিজের কাছে রাখা বিশেষ সৌভাগ্যসূচক।
কী ধরনের সৌভাগ্য সূচিত হয় এই লেবু বাড়িতে রাখলে? তিরুভানাইনাল্লুর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, প্রধানত আর্থিক স্বচ্ছলতা আসে এই ‘পয়া’ লেবুর প্রভাবে। এ ছাড়া এই লেবু বাড়িতে রাখলে সন্তানহীন দম্পতিরা সন্তান লাভ করেন।
ভক্তদের মধ্যে প্রতি বছরই তাই ত্রিশূল-বিদ্ধ লেবুগুলিকে বিক্রি করে মন্দির কমিটি। এই বছর ন’দিনের ন’টি লেবু করে মন্দির কমিটি মোট ৬৮ হাজার রুপ উপার্জন করেছে। লেবুগুলির মধ্যে প্রথম দিনে ত্রিশূলে বেঁধা হয় যে লেবুটিকে, সেটিই সবচেয়ে সৌভাগ্যসূচক বলে মনে করা হয়। সেই লেবুটিই বিক্রি হয়েছে ২৭ হাজার রুপির বিনিময়ে। কিনেছেন ওট্টানান্থাল নিবাসী দম্পতি জয়ন্তী এবং মহালিঙ্গম।
এই দম্পতি কি সন্তানহীন? ‘না’, জানাচ্ছেন ওট্টানান্থলের এক প্রবীণ। ‘তারা লেবুটি কিনেছেন পরিবারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যোন্নতির লক্ষ্যে।’ মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানা গেছে, গত বছর পাঙ্গুনি উথিরাম উৎসবের প্রথম দিনের লেবুটি বিক্রি হয়েছিল ৩৯ হাজার রুপিতে।
তিরুভানাইনাল্লুরের এক প্রবীণ জানালেন, বছর চল্লিশ আগে এই লেবুগুলি বিনাপয়সায় বিলি করত মন্দির কমিটি। কিন্তু যুগ বদলেছে। এখন আর নিছক ‘বিশ্বাসে’ দৈবানুগ্রহ লাভ করা যায় না, প্রয়োজন হয় অর্থেরও।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫