ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

পার্কের অশ্লীলতা বন্ধ করুন

এস আর শানু খান

১০ এপ্রিল ২০১৭,সোমবার, ২০:১৩


প্রিন্ট

ছোট হোক বড় হোক প্রতিটি শহরেই গড়ে উঠেছে কিছু-না-কিছু পার্ক। একটি পার্ক এমনভাবে সাজানো হয় যেটি দেখলে দর্শনার্থীদের মন প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। প্রশান্তি নেমে আসবে কোমল হৃদয়ে। শহরে বেশির ভাগ মানুষের কর্মব্যস্ততায় কাটে প্রতিটি দিন। যারা চাকরিজীবী তাদের সপ্তাহে সাত দিনের ছয় দিনই কেটে যায় অফিসের চেয়ার টেবিলে বসে নয়তো চাকরির ঝুলি মাথায় করে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে। বাসার কাউকেই সময় দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। আপনার ছেলেমেয়ে, আপনার স্ত্রী সারাটি সপ্তাহ তিল তিল গুনে গুনে হিসেব করে রাখেন শুক্রবার কবে আসবে? শুক্রবারে ঘুরতে বের হবে সেই আশায়। ঘুরতে কার না মন চায়। মানুষ স্বভাবতই ভ্রমণ প্রিয়। প্রিয়জনের সাথে, আপনজনের সাথে ঘুরতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এক দিকে যেমন অভিভাবক হিসেবে আপনার একার অনেক দায়িত্ব। ঠিক তেমনিভাবে ছুটি একদিনের; কিন্তু পরিকল্পনা অনেক। পরিবারের সদস্য চারজন হলে চারজনের চার রকম বায়না। এখন বিপাকে আপনি এটা ওটা ভেবে। সবাইকে নামিয়ে নিয়ে আসবেন শহরের কোনো একটা পার্কের ডাইসে। হোক সেটি শিশু পার্ক বা অন্য কোনো পার্ক। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেননি যে পার্কে গিয়ে চোখ মেলে দেখার পরিবর্তে চোখবুজে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। থাকবে কী করে। পার্কের ভেতরের নোংরামির রমরমা। পার্কের যে দিকে চোখ মেলে তাকাবেন দেখবেন অসুন্দরে ভরপুর সব নির্লজ্জরা বসে আছেন অন্তরঙ্গভাবে। দুই দিন আগে যশোরে ছিলাম। বিকেলে হঠাৎ কী মনে হলো ঘুরতে বের হলাম। হঠাৎ মনে পড়লো বন্ধু তাইনের বলা একটি কথা। তাইন যখন বলেছিল তখন আমার মনে হয়েছিল, আরে না, মানুষ এত নির্লজ্জ হতে পারে নাকি? তাই ভাবলাম, যা-ই দেখি নিজের চোখে দেখে আসি। পার্কটির নাম পৌর পার্ক। বিচিত্র গাছপালা, পুকুর আর ডিজাইন করা ব্রিজে সুন্দর করে সাজানো পার্ক। গেট দিয়ে ঢুকতেই টাসকি খেলাম। এ কি দেখছি, এরা কারা? এদের কি লজ্জা নেই? কম করে ৩০-৩৫ জোড়া প্রেমের জুটি। পাশাপাশি, কাছাকাছি, অন্তরঙ্গ হয়ে দিনের আলোতে মনের আনন্দে বসে আছেন প্রাপ্তবয়স্ক একটি পুরুষ আর একটি মহিলা। কী সুন্দর মনোরম দৃশ্য! দেখলেই চোখ মন জুড়িয়ে যায়। অতগুলো লোকের মধ্যে মাত্র একজন লোকই চোখে পড়ল। ভদ্রলোক বয়স্ক। একা একা বসে পেপার পড়ছেন। গুঁড়ি গুঁড়ি পায়ে হেঁটে গিয়ে বসলাম ভদ্রলোকের পাশে। এক কথা দুই কথা করতে করতে একসময় অনেকটা ফ্রি হয়ে গেলাম। একসময় আমি জিজ্ঞেস করেই বসলাম, আঙ্কেল এই যে আপনি এখানে আসছেন, এখানে কি আপনার ভালো লাগছে? উনি বিষয়টি একবারেই বুঝে ফেলেছিলেন। হেসে বললেন শোন বাবা, এখানে আসার কোনো পরিবেশ নেই। দেখছো না আশপাশে চেয়ে। তুমিই বলো এটি কোনো ভদ্রসমাজের অংশ হতে পারে। আমি আসি না। সকাল থেকে একটু চাপের ভেতর ছিলাম, সারা দিনে পেপরাটা পড়তে পারিনি। তাই একটু নিরিবিলি এখানে বসে পড়ছি। আঙ্কেল আইনজীবী। পরে আমাকে অনেকভাবে বুঝালেন। অনেকভাবে তুলে ধরলেন পার্কের ভেতরের অভদ্রসমাজের কার্যবিধি। উনি এটিও বললেন, একসময় সারা শহরের মানুষ আসতো এই পার্কে। পরিবার নিয়ে আসতো এখানে। কিন্তু এখন আর কেউ আসে না। আসতে চায় না। নোংরামিতো আর সবার ভালো লাগে না।
শিশুপার্ক মূলত শিশুদের জন্য হলেও সেটি আজ আর সেখানে সীমাবদ্ধ নেই। এখন সেটি রূপ নিয়েছে ডেটিংখানায়। বড় বড় ছেলে মেয়েরা যায় আর প্রেম নিবেদন করে। আপনি যে আপনার শিশুকে নিয়ে শিশুপার্ক ঘুরিয়ে দেখাবেন যে আপনার শিশুর জ্ঞান বাড়ুক; কিন্তু এখন এটা করতে গেলে উল্টো আপনার শিশুর নৈতিকতার অবক্ষয় করিয়ে ফিরবেন।
সে দিন গিয়েছিলাম চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের বাড়ি। সেখানেও এই রোগের বিস্তর বিচরণ। কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারিকে ফাঁকি দিয়ে আরামছে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রেমলীলা।
কথায় আছে না সারা শরীরে ব্যথা হলে, মলম দেবেন কোথায়? আসলেই এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাটছে আমাদের জীবন। আমাদের আশপাশ। এ জন্য দরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ মানে পার্ক ও এই রকম দর্শনীয় স্থানগুলোর কর্তৃপক্ষকে সচেতন হওয়া এবং এমন নোংরা লোকগুলো শনাক্ত করতে পারলে অভিভাবকদের খবর দিয়ে হস্তান্তর করতে হবে।

মনোখালী, শালিখা, মাগুরা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫