এই ব্যক্তিই সর্বকালের সেরা ধনী!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যখন ধনী লোকদের সম্পর্কে বলা হয়, তখন আমরা নিঃসন্দেহে বিল গেটস, রকফেলোর, ওয়ারেন বাফেট কার্লোস স্লিম অথবা রথচাইল্ড পরিবার সর্ম্পকেই জানি। কিন্তু ইতিহাসবিদদের মতে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন ইসলামিক মালিয়ান রাজা নাম মানসা মুসা। মানসা মুসা রাজত্ব করছেন ১৩১২ সাল থেকে ১৩৩৭ সাল পর্যন্ত। তবে রাজত্ব করার চেয়ে হজ করার মাধ্যমেই তার সম্পত্তির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল তার বিপুল সম্পদের কথা।
বিশেষ করে ১৩২৪ সালে তার হজযাত্রা এখনো কিংবদন্তি হয়ে আছে। এই সময় মানসা মুসার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৪০ হাজার কোটি ডলার।
তিনি গরিবদের যাকাত দিতেন ঘর তৈরি করে। তিনি মক্কায় যাওয়ার পথজুড়ে একটার পর একটা মসজিদ তৈরি করে দিতেন।
তখন মালিয়ান সম্রাটের অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে ছিল মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া, গায়না, বারকিনা ফাসো, নাইজার, নাইজেরিয়া ও শাদ। এই সাম্রাজ্যের পরিধি ছিল টানা দুই হাজার মাইলের বেশি, পশ্চিমের আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পূর্বের শাদের সীমান্তের হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত।
মক্কায় তীর্থযাত্রা : সম্রাট হওয়ার পরপর অল্প সময়ের মধ্যেই নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম মানসা মুসার তার হজযাত্রার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। কিভাবে এত দূরের পথ পাড়ি দিতে হয়, তিনি তা ভালোভাবে জেনে নিয়েছিলেন। ওই সময়ের নানা প্রতিকূল পরিবেশে তাকে এক হাজারের বেশি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল।

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ১৩২৪ সালে তিনি এক হাজার ভৃত্য তার সাথে নিলেন (কারো কারো মতে ৬০ হাজার)। সাথে ছিল উট ভর্তি ৩০০ পাউন্ড স্বর্ণ ও অন্যান্য সামগ্রী।
হাজার কিলোমিটার অতিক্রমের পথেই তার সম্পদের কথা প্রচার হতে থঅকে। তার দয়া দান দিয়ে সবার মন জয় করেছিলেন।
বলা হয়, তিনি তার অধিকাংশ স্বর্ণ দিয়েছিলেন কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়া শহরের রাস্তার পাশের গরিবদের। কিন্তু মক্কা যাওয়ার পথে অনেকগুলো মসজিদ নির্মাণেও সহযোগিতা করেছেন। বলা হয়, প্রতি শুক্রবার তিনি একটি করে মসজিদ নির্মাণ করতেন।
তার কাজের মহানুভাবতা অনেক বছর পর মিশর, মক্কা এবং মদিনাবাসী অনুভূব করেছিল। কারণ ওই সময় স্থানীয় অর্থনীতিতে ধস নেমেছিল এবং স্বর্ণের দাম যথেষ্ট কমে গিয়েছিল।
মানসা মুসা আরব ও ইউরোপে পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ইটালিয়ান ও মিসরীয় ব্যবসায়ীদের অনেক গল্প আছে সাব-সাহারা আফ্রিকান মুসলিম রাজাদের যাদের স্বর্ণের বোঝা ছিল। আরব ও ইউরোপিয়ানের দ্বারা এই আয় আরবের মানচিত্রের মধ্যে মানসা মুসাকে একটা চিহ্ন অঙ্কন করে দেয়। এই মানচিত্রের একটা ইটালীয় ম্যাপ।
বাড়ি ফিরে মানসা মুসা তার সাথে আনা জ্ঞানী ব্যক্তিরা স্থাপত্যবিদ ও আমলাদের সাহায্যে ঐতিহাসিক দালান তৈরি করলেন।
১৩৩৭ সালে মানসা মুসার মৃত্যুর পর তার পুত্র মাঘান তার উত্তরাধিকারী হন। কিন্তু তার শাসন স্থায়ী হয়নি। মরক্কোর আক্রমণ এবং সংহাই এর সাম্রাজ্য অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়ে।

সূত্র : বাসস

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.