ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

কাঠগড়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

মিনা ফারাহ

০৭ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:৫৭


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

মানবাধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে গণসচেতনতা তৈরি, মাঠপর্যায়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, কেস ওয়ার্কার দিয়ে ভিকটিমদের সহায়তা, পরাশক্তিগুলোকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে চাপ, স্বৈরাচারদের কারাগারে পাঠানো... বহু সাফল্য হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচের। এমনকি কনফ্লিক্ট জোনে নিহত হয়েছে কর্মীরা। ওয়্যারক্রাইম কিংবা ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটিÑ অপরাধের ধরন এক। ক্রাইমগুলোর শিরোনাম- গুম, হত্যা, বলপ্রয়োগ, সিভিলিয়ান-সুশীলসমাজ-মিডিয়ার ওপর আক্রমণ, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, শারীরিক নির্যাতন, মোটিভেশনাল জুডিশিয়ারি, ফ্যাসিজম, বাকস্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার ভঙ্গ, বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার...।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় এবং আইসিসির সহায়ক সংস্থাগুলোর শীর্ষে- ওয়াচ। তাদের আনা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বহু ওয়্যারক্রিমিনাল কারাগারে, অনেকেই পথে। বাংলাদেশেও একই রকম প্রমাণ থাকলে, ওয়াচের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার প্রতিবাদেই শিরোনামটি।
আফ্রিকান ওয়্যারক্রিমিনালদের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর অভিযোগের মাত্রা বরং বেশি। ইন্টারনেটে অভিযোগের বৃক্ষবনের কূলকিনারা নেই, বৃক্ষের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। তা সত্ত্বেও ভিকটিমদের প্রতি এহেন অবিচারের জন্য দায়ী গণতন্ত্রের পৈতা নাকি সম্পদ কিংবা দুটোই? স্বৈরাচার উপাধি নিয়ে আফ্রিকান ওয়্যারলর্ডরা টালবাহানা না করলেও গণতন্ত্রের পৈতাধারীরা করে। হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্যতম, আফ্রিকান স্বৈরাচারদের ওপরেই অধিক মনোযোগ। এমনকি ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট বার্নস্টাইনেরও অভিযোগ, ‘পরাশক্তিদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো ঝুঁকি তারা নেয় না।’
সবাই জানে, বঙ্গোপসাগরের তলে স্বর্ণের হিমালয় এবং ভূতাত্ত্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব প্রায় মধ্যপ্রাচ্যের সমান। ক্ষমতাসীনদের এলিট বন্ধুদের অন্যতম চীন, রাশিয়া ও ভারত। এদের কেউই আইসিসির সদস্য নয়, কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ায়Ñ শাঁখের করাত, যা ক্ষমতাসীনদের জন্য শাপেবর। তার পরও বাংলাদেশী ভিকটিমদের প্রতি সুবিচারের দায়িত্ব এড়াতে পারে না ওয়াচ এবং সেই ক্ষমতা তাদের আছে।
আগের কলামে হিসনে হেব্রেকে কারাগারে পাঠাতে ওয়াচের প্রতিনিধি ব্রোডির ভূমিকা লিখেছি। এবার বাংলাদেশের চাঞ্চল্যকর ফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স এবং কিলিংফিল্ড প্রমাণেÑ চারটি তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত কেসহিস্ট্রি। বহু স্বৈরাচারকে তাড়িয়ে বেড়ানো ব্রোডির আরেক নামÑ স্বৈরাচার শিকারি। স্বৈরাচার শিকারে তার মূল্যবান বক্তব্যগুলো ইউটিউবে।
প্রেসিডেন্ট ওমর বশির : কুখ্যাত ‘দারফুর’ গণহত্যার নায়ক ওয়্যারক্রিমিনাল বশিরকে কাঠগড়ায় তুলতে, অন্যতম পার্টি ওয়াচ। ২০০৯ সনে ওয়ারেন্ট সত্ত্বেও এখনো ক্ষমতায় থাকার কারণ, সদস্য দেশ না হওয়ায়, আইসিসির ক্ষমতা সীমিত। আইসিসির নিজস্ব পুলিশবাহিনী নেই এবং বিচারের আগেই সদস্যপদ প্রত্যাহার বশিরের। গোদের উপর বিষফোঁড়া চীন, রাশিয়া, আমেরিকার মতো পরাশক্তিরা আইসিসির সদস্য নয়; কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ায় বশির-আসাদের মতো ওয়্যারক্রিমিনালরা ক্ষমতায়। ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও আফ্রিকার অনেক দেশ সদস্য না হলেও সদস্য বাংলাদেশ। ওয়ারেন্ট মাথায় বহু দেশে গেলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে, ২০১৬ সালে ভারত সফরে গেলে বশিরকে হস্তান্তরের দাবি উপেক্ষা দিল্লির। আন্তর্জাতিক ভূখণ্ডে এ ধরনের ফিউজিটিভকে বহনকারী বিমানটি ভূপাতিত করার অধিকার আইসিসির থাকায় স্বৈরাচারকে বহনকারী বিমানটিকে পাহারা দেয় ফাইটার জেট। তার পরও পাকড়াও করতে নতুন কৌশলে ওয়াচ।
যোসেফ কোনি : রাষ্ট্রপ্রধান নয়, কোনি একজন এলআরএ নামক কিলিং ফোর্সের রেবেল লিডার। উদ্দেশ্য, উগান্ডায় অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল। ২০০৫ সাল থেকে লাখের ওপরে খুন, ৬০ হাজারের ঊর্ধ্বে গুমসহ বহু অভিযোগের ওয়ারেন্ট ফিউজিটিভের মাথায়। বশিরের মতোই তার বিচারও ঝুলে থাকার কারণ, বাদি-বিবাদির আত্মপক্ষ সমর্থনের সমান অধিকার হেগের আদালতে। কোনিকে কাঠগড়ায় তুলতে উগান্ডাসহ কয়েকটি দেশের লাখ লাখ ভিকটিমের পক্ষে লড়ছে ওয়াচ।
ডমিনিক আগুয়ান : বর্তমানে আইসিসির কারাগারে কোনির দক্ষিণহস্ত দুর্ধর্ষ রেবেল লিডার আগুয়ানকে কাঠগড়ায় তুলতে ওয়াচের সক্রিয় ভূমিকা। ডমিনিকের বিরুদ্ধে ৭০টি মামলার অন্যতমÑ ৬০ হাজারের অধিক ফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সসহ লক্ষাধিক খুন। ট্রায়ালে প্রায় দুই হাজার ভিকটিম সশরীরে উপস্থিত থাকবে। দূরত্বের কারণে যারা থাকবে না, ভিডিও ব্যবস্থায় সাক্ষীর আওতায় আনবে ওয়াচ।
চার্লস টেলর : দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত লাইবেরিয়ার ওয়্যারক্রিমিনাল চার্লস টেলরের কাহিনী কে না জানে? ২০১২ সালে হেগের আইসিসি কোর্টে দোষী সাব্যস্ত, বর্তমানে কারাগারে। ওয়াচের সহায়তা ছাড়া লাইবেরিয়ার ভিকটিমরা সুবিচার পেত না।
উপরোল্লিখিত কেসহিস্ট্রিগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অতি মূল্যবান রেফারেন্স।
২. সংস্থাগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদনের প্রতিটি ক্যাটাগরিই যেন স্বতন্ত্র কেসহিস্ট্রি। ১-১১এর বসানো সরকারের বিরুদ্ধে যার শর্টলিস্ট অসম্ভব। তার পরও শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ট্রাইব্যুনালের বিষয়কে বৃক্ষবন থেকে আলাদা করা যেতে পারে। ‘তাদের প্রতিবেদনেই ওয়্যারক্রাইমের আলামত।’ গুম-খুন বিষয়ে, আগুয়ান-কোনির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রায় হুবহু বাংলাদেশ, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি। জেনেশুনে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন না করলে বার্ষিক প্রতিবেদনে তালিকার চেহারা এমন হতো কি? নারায়ণগঞ্জের মতো দুর্ধর্ষ ঘটনাও হয়তো রিপিট হতো না কিন্তু...।
২৫-৩-২০১৭ র‌্যাবের সাফল্য বর্ণনায় যুগান্তর, ‘একযুগে ৯০০ জনের মৃত্যু।’ সাফল্য নাকি কিলিং? অপরাধী যত দুর্ধর্ষই হোক, বিচার পাওয়ার অধিকার ৯০০ জনের ছিল। ওই ৯০০ জন কারা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ধুন্ধুমা। ওয়্যারক্রাইমের যথেষ্ট আলামত এখানেই।
কালের কণ্ঠ গত ২৪ মার্চ : ‘১২ বছরে ১৭৬৭২৫ জন অপরাধীকে আটক, যাদের ৯২৫ জন জঙ্গি।’ সংবাদটি পড়ে মুষড়ে পড়েছি। দেশটি এখনো আফ্রিকা হয়নি বলেই গৃহযুদ্ধের কারণে কারাগার ভরে ফেলারও প্রয়োজন নেই। একটি গণতান্ত্রিক দেশে কখন এই মাত্রায় গণগ্রেফতার এবং ফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স হয়? মিলিশিয়াবাহিনী বহু দেশেই কিন্তু ’৭১-এর পর থেকে বাংলাদেশী প্যারা-বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ওয়্যারক্রাইমের অভিযোগ বাড়ছেই। তার পরও ক্ষমতাসীনদের দাবি, দেশে নাকি গণতন্ত্র এবং আইনশৃঙ্খলার সুবাতাস। দুঃখজনক, র‌্যাবকেও অন্যদের মতো কিলিংস্কোয়াড উপাধি দিলো, কিন্তু নিষিদ্ধ করতে কোনো ব্যবস্থাই করল না ওয়াচ।
ফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স এবং কিলিংফিল্ড নিয়ে অভিযোগবৃক্ষ থেকে কয়েকটি গোলাপ :
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টির মতো সংগঠনগুলো নিয়মিত যে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে, ২০১০-এর সাথে ২০১৬-এর পার্থক্য একটাই, মানবাধিকার ভঙ্গের অভিযোগের তালিকা বেড়েছে।
২৬-৬-২০১১ : ইউকেতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশী ডেথ স্কোয়াডের হাতে চলছে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং... ২০-৬-২০১৪ : ডেথ স্কোয়াড নিষিদ্ধ করা উচিত, সিরিয়াল কিলিংয়ের সাথে জড়িত র‌্যাব -গার্ডিয়ান।
১২-৮-২০১৩ : ট্রাইব্যুনালের বিবাদিদের হয়রানি বন্ধ করুন... ১৬-১-২০১৩, গুম হওয়া সাক্ষীকে বের করুন, সুখরঞ্জন বালি সম্পর্কে ওয়াচ। ২৫-৩-২০১৫, গুমের মাত্রা বেড়েছে...। ৭/২০১২, জাতিসঙ্ঘে কিলিং স্কোয়াড পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ... এরা দেশের ভেতরে অন্যদের ওপর অত্যাচার করে...। ৫/২০১৬ : মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় পক্ষপাতদুষ্ট। মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করা হোক...। ২২-১০-২০১৪ : লিমনকে যারা গুলি করেছে, র‌্যাব অফিসারদেরকে শাস্তি দিন। লিমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পলিটিক্যালি মোটিভেটেড এবং আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি সরকার। সমালোচকদের ওপর আক্রমণ উদ্দেশ্যমূলক...। ২১-৪-২০১৭ : অত্যাচারের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের বহু তথ্যপ্রমাণ নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের সুবিচারের পথে বাধার সৃষ্টি করছে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম...। ১৩-১১-২০১৫; ওয়্যারক্রাইম ট্রায়ালে অ্যামনেস্টির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ...। -বক্তব্যগুলো হিউম্যান রাইটস ওয়াচের। (২০১৩ সালে ওয়াচের বিরুদ্ধেও সতর্কতা জারি ক্ষমতাসীনদের)।
*** জুন ২০১৪ : এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস্- বাংলাদেশ সেন্ডিং ডেথ স্কোয়াড টু ইউনাইডেট ন্যাশন পিস কিপিং।
২২-৩-১৬ : অস্বচ্ছতার ভিত্তিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়। তখনই অভিযুক্ত করা সম্ভব যখন সন্দেহাতীত বিচার নিশ্চিত করা হয়। -ব্যাড অ্যাডামস।
১৬-৩-২০১৬ : ট্রাইব্যুনাল একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা; ১৯-৬-২০১১, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত র‌্যাব Ñকাউন্টার কারেন্ট।
১৯-৬-২০১১ : র‌্যাব কি অতিরিক্ত কিছু করছে? -টাইম ম্যাগাজিন।
বিবিসি, ১০/২০১৬, গুম আতঙ্কে বাংলাদেশ... ৫/২০১১; বাংলাদেশকে অবশ্যই কিলিং স্কোয়াড বন্ধ করতে হবে... ১২/২০১০, বাংলাদেশী কিলিং স্কোয়াডকে ট্রেনিং দিচ্ছে ইউকে।
১২/২০১০ : উইকিলিকসের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান- বাংলাদেশী কিলিং স্কোয়াড সম্পর্কে সতর্কতা।
৬/২০১৫ : জাস্টিস অর পলিটিক্স? ...ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে আনা হোক Ñআলজাজিরা।
হার্ভার্ডের বেলফোর সেন্টারের ফেলো, ভারতীয় গবেষক রণক দেশাই হাফিংটন পোস্টে লিখেছেন, ‘জাস্টিস ডিনাইড এজ বাংলাদেশ প্রসিকিউস ওয়্যারক্রাইম। ...রাজনৈতিক খুনই আওয়ামী লীগের টার্গেট।’
জুরিস্ট কমিশন, ১১/২০১৫, যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ করা হোক.........
যে পর্যবেক্ষণটি এড়ানোর সুযোগ কারোরই নেই। সিয়েরালিওনে আন্তর্জাতিক ওয়্যারক্রাইম ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর স্যার ডেসমন্ড ডে সিলভা, ‘জাতির স্বার্থে বাংলাদেশী ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক করা হোক।’ সিয়েরালিওনে সাফল্যের পর স্টিভেন র‌্যাপ তাকে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালে সহায়তার অনুরোধ করলে বলেছেন, নতুন এই কোর্টের ল অ্যান্ড রেজুলেশন দেখে আমি তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছি। তখন আমার কাছে যা স্পষ্ট এখন আরো বেশি স্পষ্ট। বাংলাদেশে স্বাধীন জুডিশিয়াল এবং তদন্তের ক্ষমতা নেই, যা দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করতে পারে। এই কোর্টের নিয়মনীতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে না, যা আমরা করেছি সিয়েরালিওনের দেশী কোর্টসহ অন্যদের বেলায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্যান্য বহু মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ আমার মতোই, যা অত্যন্ত ডিস্টার্বিং। বিশেষ করে বিচারকদের স্বচ্ছ বিচারকাজের স্বাধীনতা প্রশ্নবোধক... একমাত্র ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিককরণই উপায়, যেখানে আন্তর্জাতিক আইনগুলোর প্রতি সম্মান দেখিয়ে উভয়পক্ষই সুবিচার নিশ্চিত করতে পারে। তা না হলে এই ট্রাইব্যুনালটি ভবিষ্যতে আরো বেশি ভায়োলেন্স ও বিভক্তির সৃষ্টি করবে।’
বাংলাদেশী ট্রাইব্যুনালকে এনডোর্স করেনি জাতিসঙ্ঘ। কিন্তু আইসিসির সদস্য সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক না করার ভুল কি তারা স্বীকার করবে?
৩. যে অভিযোগগুলো আর্মড ফোর্সেস, বিশেষ করে র‌্যাবের বিরুদ্ধে, সম্প্রতি একই অভিযোগ লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি, আসাদ ও পুতিনের বিরুদ্ধেও। ২৩-৩-২০১৭তে লিবিয়ান আর্মির বিরুদ্ধে ওয়্যারক্রাইমের সতর্কতা জারি করে ওয়াচ লিখেছেÑ ‘আত্মীয়স্বজন, এক্টিভিস্ট এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, নিরীহ মানুষ হত্যা করছে সরকারের সৈন্যরা। ভিকটিমদের পাঠানো গোপন ভিডিও এবং ছবি দেখে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে ওয়াচ। স্থানীয় সাংবাদিকেরা ভিডিওর মৃতদেহ শনাক্ত করতে সহায়তা করেছেন।’ অথচ হাজার হাজার গুম-খুনের হিসাব দিয়েও বিশেষ শব্দটি এ ক্ষেত্রে একবারও ব্যবহার করেনি সংস্থাটি।
ট্রাইব্যুনালের কথাই যদি বলি, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত আইসিসির সদস্য থাকায় প্রতিটি বিচারেই আন্তর্জাতিক আইন মানার বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও হয়নি বলেই প্রতিটি রায়ের পর সন্দেহাতীত বিচার নিয়ে অভিযোগ সংস্থাগুলোর। এমনকি দণ্ড বন্ধেরও অনুরোধ? সুতরাং জুডিশিয়াল কিলিংয়ের অভিযোগ তুললে ভিকটিমদের প্রতি সুবিচারের দায়িত্ব কার? জন কেরির ফোন থেকে ব্রাড অ্যাডামসদের প্রতিবাদ যেন ভিকটিমদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা।
তিনটি কারণে আইসিসি কোর্টে বিচারের সুযোগ। ১) যখন সদস্য দেশগুলো অভিযোগ পাঠায়, ২) স্বদেশী আদালত অপারগ হয়, ৩) দেশী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আইসিসির নিয়ম ভঙ্গ।
কনফ্লিকট অব ইন্টারেস্ট, মোটিভেশনাল জুডিশিয়ারি, জুডিশিয়াল কিলিং, পলিটিক্যাল কন্সপেরেসি... স্কাইপ কেলেঙ্কারি একাই কেসহিস্ট্রি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্রাড অ্যাডামস, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ গভীর সন্দেহজনক। পক্ষপাতদুষ্ট বিচারকদের নিরপেক্ষতা এবং প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা... আন্তর্জাতিক কমিউনিটির উচিত জামায়াত নেতাদের ওপর যে অবিচার হচ্ছে, রুখে দিতে দ্রুত সক্রিয় হওয়া।’
অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ স্টিভেন র‌্যাপ, ১০ পৃষ্ঠার চিঠি লিখে ট্রাইব্যুনালকে স্বচ্ছ হওয়ার পরামর্শ দিলে উল্টা তাকেই মিথ্যাবাদীর তকমা।

উইকিলিকস : স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাঠানো ক্যাবল, ‘দেয়ার ইজ লিটল ডাউট দ্যাট, হার্ডলাইন এলিমেন্স ইউথইন দ্য রুলিং পার্টি (আ’লীগ) বিলিভ দ্যাট টাইম ইজ রাইট টু ক্রাস জামায়াত অ্যান্ড আদার ইসলামিক পার্টিস।’
অভিযোগকারীদের প্রত্যেকেই একসাথে মিথ্যাবাদী হলে আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা কী? রুয়ান্ডা, বসনিয়া, কম্বোডিয়ার মতো দেশী ট্রাইব্যুনাল বনাম হেগের আদালত... সংস্থাগুলোর তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই মিলোশেভিচ কিংবা টেলরের মতো অপরাধীদের বিচার হয়েছে এবং হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় বলেই বৃক্ষবনের আয়তন বাড়ছে।
মার্কিন কংগ্রেস এবং সিনেটরদের অফিসে একই বিষয়ে দিনে ২৫টি টেলিফোন পেলে গ্রাহ্য করে। লক্ষাধিক সিগনেচার সংগ্রহ করলে টনক নড়ে ওয়াচের। পরিস্থিতি সাপেক্ষে সদস্যপদ প্রত্যাহার করলে সুবিচারের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হবে।
লেখাটিতে কেসহিস্ট্রি উপস্থাপনে কেউ যদি মোটিভ খুঁজে পায় কিংবা তথ্যপ্রমাণে ভুল থাকলে, উচিত সমালোচনা করা। অন্যথায় স্বৈরাচারী শিকারি ওয়াচের দায়িত্ব কেসওয়ার্কার পাঠিয়ে দ্রুত ভিকটিমদের প্রতি সুবিচার। বিচারের অধিকার শুধু আফ্রিকান ভিকটিমদের একার নয়। দেশে-বিদেশে ভিকটিমদেরও উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে সম্ভাব্য সব দরজায় টোকা মারা। চলমান প্রতিক্রিয়াশীল বিষয়গুলোকে অধিকতর মনোযোগ দেয়ার অনুরোধ- লেখক বুদ্ধিজীবীদের।

ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫