ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আমাদের স্বাধীনতা

আবু আসাদ

০৫ এপ্রিল ২০১৭,বুধবার, ১৭:৪৯


প্রিন্ট

প্রায় বিশ বছর আগে এখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমবাংলার একজন অধ্যাপকের সাথে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান নিয়ে কথা হচ্ছিল। এক সময় তিনি বললেন, ‘একটি দেশের উন্নতির জন্য অতি প্রয়োজনীয় জাতিগত uniformity থাকা সত্ত্বেও আপনাদের পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই।’ তার কথা হলো, উপজাতীয়দের বাদে সারাটা দেশের সবাই বাংলাভাষী, জনসংখ্যার প্রায় নব্বই শতাংশ মুসলমান, যাদের প্রায় সবাই হানাফি মতাবলম্বী, দেশটি অনেক আগেই সামন্ততান্ত্রিক অতীত ফেলে এসেছে প্রভৃতি। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা ভাবলে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের জাতীয় বৈশিষ্ট্যের কাঠামো সার্বিক উন্নতির জন্য অনেক বেশি ইতিবাচক। তাই আমাদের উন্নতির ও প্রবৃদ্ধির হার আরো বেশি হওয়া উচিত। তার কথা শুনে আমার মনে হয়েছিল, তিনি uniformity-এর যে উপাদানগুলো উল্লেখ করলেন, সত্যিই তো সেগুলোর কারণে যেকোনো বড় ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য অর্জন করা অনেক সহজ হওয়ার কথা। সেদিন অধ্যাপক বন্ধু যে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলছিলেন, তা এখন অনেক দিক দিয়ে বদলে গেছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেকটা হয়েছে, বিশ্বের দরবারে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি দেখা গেছে, বাংলাদেশী নাগরিক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরস্কার অর্জন করে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। কিন্তু ক্রমবিকাশমান সম্ভাবনাময় গণতন্ত্রের ধারাটি কি খুব বেশি এগোতে পেরেছে? একটি সুস্থ গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত কার্যকর বাকস্বাধীনতা, আইন ও শৃঙ্খলা, নাগরিকদের নিরাপত্তা, অবাধ নির্বাচনসহ অনেক কিছুই আজ দুর্ভাগ্যজনক। আর এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ হচ্ছে, সবচেয়ে বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব। ঐকমত্য দেখি না জাতিসত্তার ও জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞায়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর বর্ণনায়, বরেণ্য নেতাদের তালিকায়, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুর মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, পররাষ্ট্রনীতির দর্শন ও চর্চায়, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। বস্তুত এই শেষোক্ত চেতনার বিভিন্নতাই বাকি বিষয়গুলোর মতপার্থক্যের পেছনে ক্রিয়াশীল। তাই চেতনার বিষয়টি একটু পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এই তো সেদিন ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ছেচল্লিশতম বার্ষিকীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিষয়ক বর্তমান ঐকমত্যহীনতার কথা ভাবতে গিয়ে পশ্চিমবাংলার অধ্যাপক বন্ধুটির কথা অনেক দিন পর আবার মনে এলো। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর বিদ্যুৎস্পর্শী সেই বক্তৃতা এখনো একটি প্রজন্মের কানে বাজে। সেই দিনের রেসকোর্সে সমবেত বিপুল জনসমুদ্র এবং রেডিওতে কান পেতে থাকা সারাটা দেশ যে স্বপ্নে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বিভোর হয়েছিল, যে স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২৫ মার্চের কালরাতের পর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে এক অসম যুদ্ধে নেমেছিলেন, অন্যরাও নিজেদের সাধ্যমতো মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন, লাখো শহীদের রক্তে মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ আজো সে স্বপ্নের সার্থক বাস্তবায়ন দেখেনি। অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য থেকে মুক্তিলাভের জন্য সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুঃখজনকভাবে স্বাধীনতার পরপরই স্বজাতীয় শাসকশ্রেণীর কাছ থেকে একই রকম আচরণ পেতে জাতির বেশি দিন লাগেনি। মুক্তি আর স্বাধীনতা শব্দ দু’টি আমাদের গল্পে, নাটকে, গানে, কবিতায় আর বক্তৃতায় উচ্চারিত হয়েছে হাজারবার। মুক্তিকামী, স্বাধীনচেতা মানুষের কাছে শব্দ দু’টি কখনো আবেদন হারাবে না। কিন্তু শব্দ দু’টি তো কোনো নৈর্ব্যক্তিক ধারণার উচ্চারণ মাত্র নয়, বরং বাস্তব মানুষের জীবনের অবস্থা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়া-পাওয়ার সাথে রয়েছে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। একটি স্বাধীন জাতির চলার পথে এই সম্পর্কের নিরিখে মুক্তি আর স্বাধীনতা কতটুকু অর্জিত হয়েছে বা অক্ষত রয়েছে, তা মাঝে মধ্যে মূল্যায়ন করা খুব প্রয়োজন। ৭ মার্চের ঐতিহাসিকতার দাবি হচ্ছে শুধু একাত্তরের এই দিনটির রোমান্টিক বিপ্লবস্পন্দিত রোমন্থন নয়, তার সাথে নির্মোহ আত্মনিরীক্ষা, চলার পথের ভুলত্রুটি বিশ্লেষণ এবং বস্তুনিষ্ঠা ও সত্যনিষ্ঠার সাথে কারণ নির্ধারণ। ‘সব কৃতিত্ব আমার, আর সব ব্যর্থতার দায় প্রতিপক্ষের’- এই মানসিকতা নিয়ে হয়তো সাময়িকভাবে দেশ শাসন করা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূভাবে দেশসেবা করা যায় না। স্বাধীনতার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত এই একপেশে মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠতে কাউকে খুব একটা দেখিনি। যে বিষয়টি সব অবস্থায় বর্জনীয় তা হলো, সঙ্কীর্ণ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেয়া। আর মনে রাখা উচিত, ব্যক্তিজীবনে পরার্থপরতা (altruism) যত বড় গুণ, একটি জাতির জীবনে পরার্থপরতা তত বড় দোষের ব্যাপার। আন্তর্জাতিক আদান-প্রদানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের অপরিহার্য কর্তব্য।
মুক্তি ও স্বাধীনতা শব্দ দু’টিকে অনেক সময়ে একই অর্থে ব্যবহার করা হলেও শব্দ দু’টির মধ্যে আভিধানিক, ধারণামূলক ও প্রায়োগিক পার্থক্য রয়েছে। ‘মুক্তি’ সাধারণভাবে কোনো একটা অবাঞ্ছিত অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া বোঝায়; যেমন কারামুক্তি, দারিদ্র্যমুক্তি, রোগমুক্তি প্রভৃতি। স্বাধীনতা পরাধীনতার বিপরীতার্থক। ইংরেজি independence-এর শাব্দিক অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘অনধীনতা’ (পুরোপুরি শুদ্ধভাবে বলতে গেলে অনির্ভরতা), ‘স্বাধীনতা’ নয়। তবে প্রায়োগিক অর্থে independence মানে স্বাধীনতা। ‘অনধীনতা’ শব্দটি বাংলায় ব্যবহার করা না হলেও স্বাধীনতার ধারণাটি বোঝার জন্য শব্দটি সহায়ক হতে পারে। শাব্দিক অর্থে ‘স্বাধীনতা’ মানে নিজের অধীনতা, আর অনধীনতা মানে হলো ‘কারো অধীনতা নয়’, আর পরাধীনতা মানে পরের অধীনতা। আমি কৌতূহলবশত independence-এর অর্থে ইউরোপীয় পনেরোটি ভাষায় (ইংরেজি ও জার্মানসহ পাঁচটি জার্মানিক ভাষা, ফরাসি ও স্প্যানিশসহ পাঁচটি লাতিন ভাষা এবং রুশ ও পোলিশসহ পাঁচটি সøাভিক ভাষা) কেমন শব্দ ব্যবহার করা হয়, তা খুঁজে দেখতে গিয়ে একটি মজার (তাৎপর্যপূর্ণও হতে পারে) বিষয় আবিষ্কার করলাম। তা হলো, একমাত্র নরওয়েজিয়ান ছাড়া বাকি সবগুলো ভাষায় independence-এর সমার্থক শব্দটির বাংলা করলে হয় ‘অনধীনতা’, শুধু নরওয়েজিয়ানে ‘স্বাধীনতা’। এই পর্যবেক্ষণ থেকে এটা কি ভাবা যায় যে, ইউরোপীয় দেশগুলোর গণমানসে পরাধীনতার বিপরীত অবস্থা ‘স্বাধীনতা’ (self-dependence) নয়, বরং এমন একটা অবস্থা যাকে বলা যায় ‘কারো অধীনতা নয়, এমনকি নিজেরও নয়?’ এ ক্ষেত্রে হয়তো অনধীনতা আর মুক্তি প্রায় সমার্থক হয়ে যায়।
পাঠকের মনে হতে পারে ধারণামূলক ও প্রায়োগিক অর্থ বাদ দিয়ে শাব্দিক অর্থ নিয়ে অকারণে আলোচনাটি জটিল করছি। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, independence বা অনধীনতাই বলি, আর স্বাধীনতাই বলি, আমরা পরাধীনতার বিপরীত অবস্থা বোঝাতে চাচ্ছি। একটি জাতির পরাধীনতার কবল থেকে মুক্তি চাওয়ার অর্থ সাধারণত এই পরাধীনতাজনিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য থেকে মুক্তি কামনা। শুধু পরের (বিজাতীয়/বিদেশীদের) অধীনতা থেকে ‘স্ব’-এর (স্বজাতীয়/স্বদেশীদের) অধীনতায় আসার নাম স্বাধীনতা হতে পারে না। পরাধীনতার সময়ের অন্যায়, অবিচার আর বৈষম্য যদি স্বাধীনতা অর্জনের পরও দূর না হয়, স্বাধীন দেশের সাধারণ নাগরিকরা যদি তাদের অধিকার না পায়, তাহলে এ স্বাধীনতা প্রকৃতপক্ষে শাসক শ্রেণীর স্বাধীনতা, জনগণের নয়। দুঃখজনকভাবে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের স্বাধীনতাই এ রকম একটি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই পরাধীনতার ‘পর’ অংশটিকে যে ‘স্ব’ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করে, স্বাধীনতা অর্জিত হয় তার বৈশিষ্ট্য ও পরিচয় জানা খুবই জরুরি।
আজ বাংলাদেশে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র একটি বিশেষ সংজ্ঞা ব্যবহার করে স্বাধীনতার এমন একটি ‘তাৎপর্য’ উদ্ভাবন করা হচ্ছে, যার সাথে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আত্মপরিচয়বোধ, স্বাজাত্যবোধের খুব বেশি সম্পর্ক নেই। বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি খণ্ডিত ও বিশেষ মতাদর্শ প্রভাবিত খুব সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্ভাবিত এই চেতনায় এ দেশের মানুষের শত শত বছরের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাক্সক্ষা, প্রাপ্তি-বঞ্চনাবোধ, আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংস্কারে বিবর্তিত গণমানস অবহেলিত; বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব লাভের সুদীর্ঘ ভৌগোলিক ইতিহাস এবং তার মাইলফলকগুলোর বেশির ভাগই হয়েছে বিস্মৃত। বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রটি অর্জনের সংগ্রামের একটি পর্যায়ে কেন পাকিস্তানের অংশ হতে হয়েছিল, পাকিস্তানের অংশ না হয়ে কি স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব হতো, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপলব্ধির জন্য প্রয়োজনীয় এ রকম বৈচারিক চিন্তা (critical thinking) ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। দুই শ’ বছরের ইংরেজ শাসনের ফলে স্বদেশী, স্বভাষী আর্থসামাজিকভাবে প্রাগ্রসর ও বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিচয়ে সংগঠিত একটি শ্রেণীর অধীনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার ও পশ্চাৎপদ এ দেশবাসী সাতচল্লিশে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি খুঁজেছিল তদানীন্তন পাকিস্তানের স্বপ্নে। এ স্বপ্ন ভাঙতে সময় লাগেনি, যখন নতুন একটি গোষ্ঠী ইসলামি চেতনার ও মুসলিম ঐক্যের অজুহাত দিয়ে সাধারণ নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধিকারকে অস্বীকার করেছিল, যখন চেতনা ও মতাদর্শের উচ্চারণ আর সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের ভাবনা ও আশা-আকাক্সক্ষার সহগামী হয়নি। তাই বাহান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সংগ্রামের ক্রমোত্তরণে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। আজ স্বল্পসংখ্যক সোচ্চার চিন্তক ও শিল্পী-সাহিত্যিক মুক্তিযুদ্ধের যে খণ্ডিত চেতনা পুরো জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন, তাতে কবিতার উচ্চারণ আর গানের মূর্ছনা আছে; কিন্তু সাধারণ মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধিকার সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের চড়াই-উৎরাইয়ের সাথে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্মোহ পরিচিতি নেই। তাদের বাস্তব জীবনের আশা-আকাক্সক্ষার, প্রাপ্তি-বঞ্চনার হিসাব নেই, স্বাধীন বাংলাদেশের ৎধরংড়হ ফ'বঃৎব ও আত্মমর্যাদার নির্ণায়ক বৈশিষ্ট্যগুলোর উপলব্ধি নেই।
লর্ড কর্নওয়ালিসের ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’-এর মাধ্যমে সৃষ্ট ও দেড় শ’ বছর ধরে লালিত আর্থসামাজিক শোষণ আর বৈষম্যের ব্যবস্থা থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষ সাতচল্লিশে ‘পাকিস্তানি’ হতে চেয়েছিল। তবে মুক্তির স্বপ্ন অল্প সময়েই দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। তাই লাখো শহীদের রক্তে রাঙানো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হলো স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজ আবার দেখতে পাচ্ছি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আদান-প্রদানে লর্ড ওয়েলেসলির ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’র উপসর্গ, যা সত্যিকারের স্বাধীনতার চেতনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নির্ধারণে ব্যস্ত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে ওয়েলেসলির তত্ত্বের এই পুনর্জন্মে বিচলিত হতে দেখা যায় না। তাই মনে হচ্ছে, স্বাধীনতা অর্জনের এত বছর পরও আমরা আমাদের ‘স্ব’ নির্ণয়/আবিষ্কার (both invent and discover) করে উঠতে পারিনি।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী, ভাষাবিষয়ক গবেষক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫