ভয়ঙ্কর ফেসবুক নেশা

কাজী সুলতানুল আরেফিন

দুনিয়ায় কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিকে নেশা বলা হয়। বস্তুত কোনো নেশাই ভালো নয়। যদি কোনো ভালো কিছুর প্রতিও নেশা হয়, তাও ভালো নয়। কারণ অতিরিক্ত আসক্তি স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে। পরিবার ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সিরিয়াল নেশার পাশাপাশি যে নেশাটি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে তা হচ্ছে ফেসবুক নেশা। শুধু আমাদের দেশে নয়, এই নেশা বিশ্বব্যাপী চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষ বেশির ভাগ সময় এখন ফেসবুকে ব্যয় করে। অথচ সময় যে কত মূল্যবান তা আমাদের বোঝা উচিত। দুনিয়ার সব কিছু ফেরত পাওয়া গেলেও সময় কখনো ফেরত পাওয়া যায় না। ফেসবুকের কিছু উপকারিতা হয়তো রয়েছে, কিন্তু এর প্রতি আসক্ত হওয়া কি আমদের উচিত হচ্ছে? আমার মনে হচ্ছে, মাদক থেকেও এটি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।
পরিবার থেকে বন্ধুবান্ধব এমনকি প্রতিবেশীদের সাথেও ফেসবুকে বন্ধন গড়ে উঠেছে মানুষের। এখন সব খবর আগে ফেসবুকে আপলোড করা হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু, এমনকি বিয়ের খবরও। একটি শিশু জন্মানোর সাথে সাথে পাশের স্বজনদের জানানোর আগে তার ছবি ও জন্মের খবর ফেসবুকে দেয়া হয়। বিভিন্ন সুখবর, যেমনÑ পরীক্ষা পাসের খবর, বিয়েশাদি কিংবা কোনো অনুষ্ঠানের খবর এখন ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষ জানাতে পছন্দ করে। অনেকে আবার ফেসবুকের মাধ্যমেই অনেক খবর পেয়ে থাকেন। হয়তো ফেসবুক না থাকলে সেই খবর তিনি জানতেনও না। আগে মানুষ প্রতিবেশী বা স্বজনদের কাছে ছুটে গিয়ে সে খবর জানাত। ঈদের সময় দেখা গেছে, সরাসরি ঈদ মোবারক জানানোর চাইতে বেশি ফেসবুকে জানানো হয়েছে। ঘটনা-দুর্ঘটনা আর শোক সংবাদও জানানো হচ্ছে ফেসবুকে। বাস্তবের সমাজ ছেড়ে আজ মানুষ এ কোন সমাজের পেছনে ছুটছে! সব বন্ধন যেন আজ এই ফেসবুকে। এখন ঘরে বসেই সমাজের বন্ধন ধরে রাখছে। না জানি সামনে আরো কত কী হয়। এভাবে কি আসলেই উচিত হচ্ছে আমাদের বদলে যাওয়া? ফেসবুক-নির্ভর হওয়া? সামনে হয়তো বিয়েশাদিও মনে হয় ফেসবুকে হবে। ইভেন্ট খুলে সেখানে সবাই অংশ নেবে। এখন ফেসবুকের যে মহামারী দেখা দিয়েছে, তা থেকে মানুষকে আর ফেরানো সম্ভব নয়। এখন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দও ফেসবুকে জানতে চাওয়া হয়। অনেকে বিভিন্ন বিষয়ে মতামতও চান ফেসবুকে। জানতে চান- এটা করা উচিত হবে কি না, বা এ বিষয়টি কেমন হবে? অন্যরা সাড়াও দিয়ে থাকনে। কমেন্টের মাধ্যমে মতামতও দেন। এভাবে কোথায় যাচ্ছে আমাদের সমাজব্যবস্থা আল্লাহই জানেন। ফেসবুকের অনেক উপকারিতা মানুষ ভোগ করছে ঠিক আছে। যেমন অনেকের সাথে দেখা না হয়েও যোগাযোগ রক্ষা হচ্ছে। মানুষের দুনিয়ায় আগমনে রয়েছে মানুষের হাত, তেমনি বিদায়বেলায়ও। তাই ফেসবুকের কারণে যেন আত্মিক সম্পর্ক নষ্ট না হয় এবং এটা যেন আসক্তির কারণ না হয়, সেদিকে খেলা রাখতে হবে।

পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী
Arefin.feni99@gmail.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.