ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

নারী

নারী হাটের সফল নারী নাছিমা আক্তার

জি এম ফাতিউল হাফিজ বাবু জামালপুর

০২ এপ্রিল ২০১৭,রবিবার, ১৭:৩৫


প্রিন্ট

অভাবের সংসারে স্বামী-সন্তান নিয়ে কোনোরকম দিনানিপাত করতে হতো। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল। অভাবের কারণে দুই বেলা দুই মুঠো ভাত মুখে দিতে পারতাম না সন্তানদের। অর্থের অভাবে বড় মেয়ে ও মেজ মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্বামীর রোজগারে সংসার চলত না। স্বামীর সঙ্গে দিনমজুরির কাজ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেও লোকে মন্দ বলবে। তাই ঘর থেকে বের হতে চাইনি। কিন্তু উপায়ও ছিল না। প্রকল্পের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নাছিমা আক্তারকে সিবিও সংগঠন (কমিউনিটি বেসড অর্গানাইজেশন) সদস্য করে। এরপরই পাল্টে যায় নাছিমার ভাগ্য।
সিবিও সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য গণচেতনা রি-কল প্রকল্প চরাঞ্চলের নারীদের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর নাছিমার চোখ খুলে যায়।

নারীরা ঘরে বসে থাকলে সংসার-সমাজের উন্নতি হবে না এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না নাছিমার। তাই সে স্থানীয় আমখাওয়া বাজারে চায়ের দোকান দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যেই ভাবা সেই কাজ। ২০১১ সালে গণচেতনা রি-কল প্রকল্পের দেয়া অনুদানের পাঁচ হাজার ২০০ টাকা দিয়েই আমখাওয়া বাজারে চায়ের দোকান দেয় নাছিমা। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের আমখাওয়া বাজারে এখন নাছিমার দেখাদেখি ৩২ জন নারী বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। বাজারে ৫৫টি দোকানের মধ্যে ৩২টিই নারী ব্যবসায়ী থাকায় এই বাজারটি ‘নারীর হাট’ বলে খ্যাতি লাভ করেছে। সফল নারী নাছিমা এখন শুধু চা বিক্রি করেন না সব খাদ্যপণ্য নিজেই তৈরি করে বিক্রি করছেন। তাই এই হোটেলকে নিজের ছেলে নামে ‘নাছির হোটেল’ নামকরণ করেছে। নাছির হোটেলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা কাজ করে যাচ্ছেন নাছিমা। যেন ক্লান্তি নেই তার। তাকে সহযোগিতা করছেন তার স্বামী তরু মিয়া।

অভাব দূর করে স্বাবলম্বী নারী নাছিমা আক্তার জানান, ভিটেবাড়ি ছিল না, এখন সব হয়েছে। এই হোটেল চালিয়ে তিন মেয়ে ও এক ছেলের পড়াশোনার খরচ দিচ্ছেন তিনি। ১০ শতাংশ জমি কিনে নির্মাণ করেছেন বিল্ডিং ঘর (আধা কাঁচা)। বন্ধক রেখেছেন দুই বিঘা জমি।
নাছিমার স্বামী তরু মিয়া জানান, এই হোটেলে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার টাকা বিক্রি হয়। সংসার চালাতে এখন আর কষ্ট হয় না আমাদের।
এক দিকে যেমন নাছিমার সংসারে সচ্ছলতা এসেছে অন্য দিকে সামাজিকভাবে মর্যাদাও বেড়েছে তার। অর্থনৈতিক মুক্তি মিলেছে অজপাড়াগাঁয়ের এই নারীর।

এ ব্যাপারে গণচেতনা রি-কল প্রকল্পের সমন্বয়কারী শ্যামল রায় জানান, আমরা ২০১০ সাল থেকে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফামের সহযোগিতায় গণচেতনা রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছি।
নারীরা যাতে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে এবং কাজ করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয় তাই চরের নারীদের বিনামূল্যে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা করে যাচ্ছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫