ঢাকা, শনিবার,২৭ মে ২০১৭

নারী

আমার সংস্থা হবে গরিবের আশ্রয় : ডা: দিলরুবা ফেরদৌস

চন্দ্রপ্রভা আকাশী

০২ এপ্রিল ২০১৭,রবিবার, ১৭:৩২


প্রিন্ট

ডা: দিলরুবা ফেরদৌস ১৮ বছর ধরে মাদারীপুর জেলা সদরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও গরিব অসহায়দের আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন প্রচারবিমুখ মাদারীপুরের নারীদের প্রিয় চিকিৎসক দিলরুবা ফেরদৌস।
মাদারীপুর শহরসহ প্রত্যন্ত গ্রামগুলো থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নারীরা চিকিৎসক দিলরুবা ফেরদৌসের ব্যবহার ও আন্তরিকতার জন্যও বার বার ছুটে আসেন শহরের শকুনী লেকপাড়ে অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে (চৌধুরী ক্লিনিক)।

হাসিমুখে দীর্ঘ সময় নিয়ে শোনেন রোগীদের সমস্যার কথা। গরিব রোগীদের বিনামূল্যে দেন চিকিৎসাপত্র। গরিব রোগীদের ওষুধ কেনার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেয়া তার নিয়মে পরিণত হয়েছে। শুধু ওষুধ নয় বিভিন্ন সময় দুস্থ মানুষের নানা ধরনের সহযোগিতা করে থাকেন এই নারী চিকিৎসক। তবে চেয়ে কখনো ফি নিতে দেখা যায়নি। সামর্থ্য অনুযায়ী যে যা দিয়েছে, তাতেই খুশি। এ ছাড়া ১০ বছর বিনা মূল্যের পাশাপাশি সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে মাত্র ৫০ টাকা করে ফি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

কথা হয় দিলরুবা ফেরদৗসের সাথে। তিনি বলেন, আমার স্বামী মরহুম ডা: এস এম আলীমুর রেজার কাছ থেকেই মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছি। তিনি বলতেন, একজন চিকিৎসকের উচিত গরিব দুঃখী মানুষের পাশে থাকা। বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া। তার সেই কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আজো গরিব দুঃখীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া, ওষুধ দেয়ার পাশাপাশি নানাভাবে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছি এবং সারা জীবন এসব কাজ করে যাবো। তাই দীর্ঘমেয়াদি আর ধারাবাহিকভাবে এই কাজগুলো করার জন্য আমার স্বামীর নামে একটি সংস্থা খুলতে চাই। সংস্থা হবে গরিবের আশ্রয়।
দিনাজপুর পার্বতীপুরের ইংরেজি শিক্ষক মৃত কফিল উদ্দিন আহম্মেদের মেয়ে ডা: দিলরুবা। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। শ্বশুরবাড়ি যশোর শহরে। স্বামীও ছিলেন চিকিৎসক। ২০১৪ সালে স্বামী ডা: এস এম আলীমুর রেজা ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা যান। এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সপ্তাহের দুই দিনই থাকেন মাদারীপুর শহরের শকুনী এলাকায় এবং পাঁচ দিন থাকেন ঢাকার গ্রিন রোড এলাকায়।

এমবিবিএস, এমসিপিএস, ডিজিও পাসসহ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএস কোর্সের (অবস্ অ্যান্ড গাইনি) থিসিস পার্ট-এ আছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা: দিলরুবা ফেরদৌস।
১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাদারীপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই একসাথে কাজ করেছেন। তাদের দু’জনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ওই সময় মাদারীপুর জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে রোগী আসত। ২০০৫ সালে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র ঢাকার আয়োজনে সারা বাংলাদেশের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায় শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে পুরস্কার পান মাদারীপুরের এই চিকিৎসক দিলরুবা ফেরদৌস।

এ ছাড়া ২০০৬ সালে ওজিএসবির গাইনি অব সোসাইটিতে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে সম্মাননা পান।
ডা: দিলরুবা ফেরদৌস বলেন, আমার বাড়ি মাদারীপুর না হলেও এই জেলার মানুষের প্রতি আমার অনেক মায়া, অনেক ভালোবাসা। সেই ৯৯ সাল থেকে ৭ বছর আমি ও আমার স্বামী মিলে একসাথে কাজ করার সুবাদে ভালোবাসা জন্ম হয়। সেই ভালোবাসার টানে ১৮ বছর ধরে মাদারীপুরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। বর্তমানে নিজের কাজ ও পড়াশোনাসহ ছেলেমেয়েদের জন্য ঢাকা থাকলেও প্রতি বৃহস্পতি ও শুক্রবার মাদারীপুরে আসি। এই দু’দিন রোগীদের সেবা দিয়ে থাকি। অনেক সময় ভাবি মাদারীপুরে আর যাবো না। কিন্তু অসহায় গরিব রোগীদের মুখগুলো আমাকে বারবার এখানে টেনে আনে।

ডাক্তার দিলরুবা ফেরদৌসের সহযোগী হেমন্ত সোমা বলেন, সপ্তাহে দুই দিন তিনি মাদারীপুরে থাকেন। এই দুই দিন টানা অনেকটা না ঘুমিয়ে, খাওয়ারও কোনো ঠিক নেই শুধু রোগী দেখা, অপারেশনসহ নানা ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। গরিবদের কাছ থেকে টাকা নেন না। গরিবরা ছাড়া অন্য রোগীরা যা ফি দেন, তাতেই তিনি হাসিমুখে নিয়ে থাকেন। অনেক সময় দেখা যায় গ্রাম থেকে অনেক রোগী কিংবা রোগীর কোনো আত্মীয়স্বজনের কষ্টের কথা শুনে তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫