ঢাকা, বুধবার,২৪ মে ২০১৭

রান্নাবান্না

ইরানিয়ান-আমেরিকান শেফ আরিয়ানা বানডি

মো. আবদুস সালিম

০২ এপ্রিল ২০১৭,রবিবার, ১৭:১২


প্রিন্ট

বর্তমান বিশ্বের রন্ধন শিল্পে অতি পরিচিত নাম আরিয়ানা। পুরো নাম আরিয়ানা বানডি। তিনি ইরানিয়ান-আমেরিকান শেফ। এ শিল্পে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন বলে মাঝে মধ্যেই এ কাজে যেতে হয় বিভিন্ন দেশে। একসময় তাকে দেখা যেত ন্যাটজিওতে। এখন দেখা যাচ্ছে ফক্স লাইফে। রন্ধন শিল্পের ইতিহাসও বিশ্বখ্যাত এই নারীর ভালোই জানা। শুধু নানা আইটেম রান্না করাই তার পছন্দ নয়, পাশাপাশি রান্নার উপকরণের প্রতিও তার প্রবল ঝোঁক। খুঁজতে থাকেন নতুন আইটেমও। আবার প্রাচীন অথচ এখন দুর্লভ এমন উপকরণও খুঁজে বেড়ান দেশে দেশে। মাঝে মধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় তার সাক্ষাৎকার। ডেনা হেরাল্ড তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। সম্প্রতি তেহরান টাইমস প্রকাশ করেছে তার আরো একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার।
ইরানি খাবার যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিসমৃদ্ধ। এখানকার ক্রেতা বা ভোক্তারাও এ ব্যাপারে বেশ সচেতন। বেশির ভাগ খাবারই (মুখরোচক) সুগন্ধিযুক্ত। ইরানিরা খাবারে প্রচুর মসলা ব্যবহার করেন। তবে তা হলুদ, মরিচ, কৃত্রিম ক্ষতিকর ফুডকালার ইত্যাদি নয়। এসব হলো জায়ফল, জয়ত্রি, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, জাফরান, বাদাম (বিভিন্ন রকমের) ইত্যাদি। লতাগুল্ম, ফুলের পাপড়ি ইত্যাদিও ব্যবহার হয় খাবারে। এসবের প্রতি বিশেষ নজর দেন এ-কালের নামকরা শেফ আরিয়ানা বানডি। তিনি আরো নজর দেন সিজনাল খাবারের প্রতি। শুধু ইরানি নয় অন্যান্য দেশের ভোজনবিলাসীদের জন্য মনোমুগ্ধকর খাবারের ডিশও সাজান তিনি। খাবার সরবরাহ করেছেন অস্কার ও গোল্ডেন গ্লোবের মতো জমকালো আয়োজনেও। খাবারবিষয়ক পরামর্শ দেন বিভিন্ন চলচ্চিত্রে। এর মাধ্যমেও তার সুন্দর এ শিল্পকর্মের ব্যাপাক প্রচার ঘটে।
এসবের ব্যাপারে তার প্রবল ঝোঁক থাকায় রন্ধন শিল্প বা কুইজিনের ওপর বেশ কয়েকটি বই লেখেন। সুইট অলটার নেটিভ। এটি তার ফলাহার বা ডেজার্টবিষয়ক প্রথম বই। আর তার লেখা রান্নার বইয়ের নাম পমেগ্রেনেটস অ্যান্ড রোজেস : মাই পারসিয়ান ফ্যামিলি রেসিপিজ, যা প্রকাশ পায় ২০১২ সালে। এটি রান্নার বই হলেও তাতে কম বেশি খুঁজে পাওয়া যায় এ সংক্রান্ত স্মৃতিকা। এটি তালিকায় আসে রাইটার্স গিল্ড এডওয়ার্ডসের জন্য ২০১৩ সালে। বইটির যথেষ্ট প্রশংসা করেন রবন্ধনবিষয়ক লেখকেরাও।
আরিয়ানা কেবল রান্নার বইয়ের লেখকই নন, টিভি শেফও। এসব বিষয় নজরে পড়ে বিশ্বের নামকরা শাসক, চলচ্চিত্র শিল্পী ইত্যাদি শ্রেণীর মানুষেরও। তার হাতে রান্না করা খাবার খেয়ে অবাক হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন, ম্যাডোনা, টম হ্যাংকসসহ আরো অনেকেই। ছিলেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মন্ড্রিয়ান হোটেলের প্রধান পেস্ট্রি শেফ। নামকরা এই হোটেলে প্রচুর ভিড় হতো তার হাতে তৈরি করা বেকারি আইটেম খেতে। এতে হোটেল মালিকও আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভবান হন। আরিয়ানার বাবা-মা এমনকি দাদা-দাদিও নানা মুখরোচক খাবার বানাতে ও খেতে অনেক পছন্দ করতেন। হতে পারে তা দেখে অনুপ্রাণিত হন (রন্ধনশিল্পে) আরিয়ানা। তিনি লেখাপড়া করেছেন ব্যবসা ও বিপণন বিষয়ে। এ শিল্প তার ভালো লাগে বলেই এর সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। ছোটকাল থেকেই রান্নাবান্নার প্রতি ঝোঁক ছিল। যে কারণে তার অভিভাবক আরিয়ানাকে এই পেশা বা কাজে যথেষ্ট সহযোগিতা করেন।
আরিয়ানার মায়ের বুটিক ব্যবসা ছিল। বুটিক শপ ছিল। সেখানে কাজ করতেন আরিয়ানা। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেশি আগ্রহ কেন রন্ধন বিষয়েই। তার এই আগ্রহ সবার নজরে পড়ে। কারণ মাঝে মধ্যেই মজাদার এটা-সেটা বানিয়ে অনেককে খাওয়াতেন নানা কাজের মধ্যে। এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেন আরিয়ানার এক চাচা। তিনি তাকে বলেন, তুমি কুকারি বিষয়ে ডিগ্রি নিলে অনেক ভালো হবে। আরিয়ানা চাচার পরামর্শে ভর্তি হন প্যারিসের লে কর্ডন ব্লিউ এবং লে নোতর হসপিটালিটি ইনস্টিটিউশনে। পড়তে পড়তে হয়ে যান ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী। তারপরই যোগ দেন মন্ড্রিয়ানে।
একসময় ইরানে আরিয়ানার বাবার ফরাসি রেস্তোরাঁ ছিল। পরে ব্যবসায়িক ও পারিবারিক নানা চিন্তাভাবনা করে তা স্থানান্তর করেন বেবারসি হিলসে। ইরান বিপ্লবের সময় (১৯৭৯ সালে) তিনি দেশ ত্যাগ করে চলে যান সুইজারল্যান্ডে। সেখানে ভর্তি হন একটি বোর্ডিং স্কুলে। পরে পড়েছেন লন্ডনের ইউরোপিয়ান বিজনেস স্কুলেও। তার দাদা-দাদির নানা ধরনের ফল যেমন অ্যাপ্রিকট, চেরি, আপেল ইত্যাদির বাগান ছিল। পাশাপাশি ফলাতেন গম, বার্লি, যব ইত্যাদি। এসব জিনিস সংগ্রহ করে নানা ধরনের মুখরোচক খাবার বানাতেন।
আরিয়ানা বানডি ‘আরিয়ানাস পারসিয়ান কিচেন’ (ট্রাভেল সিরিজ) নামেও পরিচিত। দু’টি গ্রন্থ লিখে পুরস্কারও পেয়েছেন, যা গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। পারসিয়ান, মিডল ইস্টার্ন কুকিং স্টাইলের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। বানডিকে রান্নাবান্না নিয়ে অনুষ্ঠান করতে দেখা গেছে বিবিসির ‘গুড ফুড লিভ’, চ্যানেল ফোর-এর ‘সানডে ব্রাঞ্চ’ ‘স্কাইস টেস্ট’ ইউরোনিজ ইত্যাদিতেও।
আরিয়ানার বয়স এখন ৪০-৪১ বছর। তার জন্ম ইরানে। তিনি তার স্বামী পল এবং ছেলে দারাকে নিয়ে বসবাস করছেন সান ফ্রাইসসকো এবং দুবাইয়ের মধ্যবর্তী স্থানে।
আরিয়ানা বলেন, ‘ইরানি খাবারের স্বাদ যারা পেয়েছেন অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের খাবারের ভালোমন্দের তুলনা করতে পারেন তারা। আধুনিক সময়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের কৌশলও আমাদের কাজে লাগাতে হয়। যেমন পশ্চিমের মানুষের কাছে ঐতিহ্য মানে পছন্দনীয় নতুন মোড়কে খাবার। এ ক্ষেত্রে লিলেন কাপড়ে মুড়ে গামাজ (কাস্পিয়ান অঞ্চলের একধরনের পাত্র) ব্যবহার করি। ইরানি পুরুষেরা ভেড়ার গোশতের ম্যারিনেশন পছন্দ করেন, যা তৈরি করতে হয় গোশতের সাথে জাফরান, পেঁয়াজ, লেবুর রস ইত্যাদি মিশিয়ে। শিশুরা কী ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করে তা নিয়েও আমি কালচার করি বলে জানান আরিয়ানা বানডি। তিনি আরো বলেন, বিশ্বে ক্রমেই বাড়ছে ভালো শেফদের চাহিদা। এটি বড় ধরনের শিল্পও। খাদ্য সংস্কৃতি তো রয়েছেই। ক্রমেই বড় হচ্ছে এর বাজার।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫