আবদুল মালেক হাওলাদার

সিনিয়র সিটিজেনদের অগ্রাধিকার প্রদান করুন

প্রায় সব দেশেই সিনিয়র সিটিজেনদের বয়স বিবেচনা করে তাদের সেবা প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেমন ব্যাংক, হাসপাতাল, ডাক্তারের চেম্বার ইত্যাদিতে সবাইকে লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সেবা নিতে হচ্ছে। পেনশনহোল্ডার এবং বয়স্কভাতা ও বিধবাভাতা ভোগীদেরকেও বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক থেকে মাসিক পেনশন, বিধবা বা বয়স্কভাতা তুলতে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। একজন ৭০ বছর বা তারও বেশি বয়সী বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পক্ষে এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তোলা যে কত কষ্টকর, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ হয়তো অনুভব করতে পারবেন না।

একইভাবে, বিশেষায়িত ডাক্তারের কাছে গেলে সেখানেও কয়েক দিন আগে সিরিয়াল লেখাতে হবে। ডাক্তারের চেম্বারের সামনে লেখা থাকে, বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখা হয়। রোগীরা ঠিক ৫টা বা তার কিছু আগে চেম্বারে গিয়ে হাজির; কিন্তু দেখা গেল ডাক্তার সাহেব ৫টার পরিবর্তে ৬ বা ৭টায় এমনকি ৮টার সময় চেম্বারে উপস্থিত হন এবং রোগী দেখতে শুরু করেন। অনেক ক্ষেত্রে রাত ১২টা বা ১টা পর্যন্ত ডাক্তার রোগী দেখে থাকেন। রোগীদের যত সমস্যাই হোক একজন ৭০ বা ৭৫ বছর বয়সী লোক যদি তার সিরিয়াল পেতে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে থাকেন তাহলে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে? হাসপাতালের আউটডোরে দীর্ঘ লাইনের একই চিত্র।

এ অবস্থায় ৭০ বছর বা তারও বেশি বয়স্ক লোকদের আলাদা মর্যাদা দিয়ে তাদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা বা তাদের কাজটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করে দেয়ার ব্যবস্থা করলে এই প্রবীণদের কষ্টের কিছুটা লাঘব হবে। তাই সরকারপ্রধান এবং মাননীয় জনপ্রশাসন মন্ত্রী কাছে আকুল আবেদন, ৭০ বছর বা তারও বেশি ব্যক্তিদের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করে তাদের কাছে রক্ষিত ন্যাশনাল আইডি কার্ড, বয়সের প্রমাণস্বরূপ প্রদর্শনসাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলোকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত অবহিত করে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করলে বাধিত হবো।

অবসরপ্রাপ্ত এসপিও, সোনালী ব্যাংক ও সভাপতি, বাকেরগঞ্জ উপজেলা কল্যাণ সমিতি, বরিশাল

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.