ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

রকমারি

আরোরা : প্রকৃতির অপরূপ আলোর প্রদর্শনী

আহমেদ শামিল

০১ এপ্রিল ২০১৭,শনিবার, ১৬:৫৪


প্রিন্ট

রঙ পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। ক্যানভাসে রঙের খেলা দেখে মুগ্ধ হয় সবাই। আর সে রঙের খেলা যদি দেখা যায় আকাশে। তাহলো তো কথাই নেই।
আরোরা তেমনি আকাশে আলোর প্রদর্শনী দেখে মনে হয় আকাশ কোনো শিল্পীর ক্যানভাস, আর সেই ক্যানভাসে সে রঙ নিয়ে খেলছে। অক্ষাংশের এলাকাগুলোতে আকাশে প্রাকৃতিক আলোর প্রদর্শনীকে আরোরা বলা হয়। মূলত কানাডা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে আরোরার দেখা মিলে। স্থানভেদে এ রঙ আরোরার রঙ ভিন্ন হয়। আরোরাগুলো মাঝে মাধ্যে আলোর পর্দার মতো দেখায়। তবে এরা গোলাকার অথবা সর্পিল বা বাঁকানোও হতে পারে। বেশিরভাগ আরোরাতে সবুজ রঙ এবং গোলাপি রঙ দেখা যায়। তবে অনেক সময় লাল রঙ বা বেগুনি রঙের হতে পারে।

আরোরা নিয়ে প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন পুরান প্রচলিত। প্রাচীন রোমের আধিবাসীরা মনে করতো তাদের সূর্যের দেবতা হিলোস আর চাঁদের দেবী সিলোনে ভোরবেলা তাদের বিভিন্ন রঙের ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে আকাশে দৌড় প্রতিযোগিতা করত,ফলে আকাশে গায়ে বিভিন্ন রঙ দেখা যেতো। প্রাচীন ইউরোপিয়ানরা এটিকে আসন্ন বিপদের সঙ্কেত মনে করত এবং কাকতালীয় ভাবে ফ্রেঞ্চ রেভিলিয়শনের কিছুদিন আগে আরোরার আবির্ভাবের কারণে তারা এটিকে যুদ্ধ বা সঙ্ঘাতের প্রতীক হিসেবে দেখত। প্রাচীন চাইনিজ পুরানে আরোরার কারণ হিসেবে ড্রাগনদের লড়াই মনে করা হতো এবং সুইডেনে এটিকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হতো

সূর্য আমাদের থেকে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থিত। কিন্তু এর প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। সৌরঝড়ে চার্জিত কণা (প্লাজমা) মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীতে এসব কণা পৌঁছলে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বায়ুমণ্ডলে এর সাথে প্রতিক্রিয়া করে। যখন সূর্যের চার্জিত কণাগুলো আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অণু-পরমাণুকে আঘাত করে তখন সেই চার্জিত কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের অণু-পরমাণুগুলোকে আন্দোলিত করে এবং উজ্জ্বল করে তোলে। পরমাণু আন্দোলিত হওয়ার অর্থ হলো এই যে, যেহেতু পরমাণু নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসকে আবর্তনকৃত ইলেকট্রন দ্বারা গঠিত তাই যখন সূর্য থেকে আগত চার্জিত কণা বায়ুমণ্ডলের পরমাণুকে আঘাত করে তখন ইলেকট্রনগুলো উচ্চ শক্তিস্তরে (নিউক্লিয়াস থেকে আপেক্ষিকভাবে অনেকদূরে) ঘুরতে শুরু করে। তারপর যখন আবার কোনো ইলেকট্রন নিম্ন শক্তিস্তরে চলে আসে তখন সেটি ফোটন বা আলোতে পরিণত হয়। আমাদের বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলোই হলো আরোরার বিভিন্ন রঙের কারণ। যেমন- আরোরার সবুজ রঙের কারণ হলো অক্সিজেন আবার আরোরার লাল এবং নীল রঙের জন্য দায়ী হলো নাইট্রোজেন গ্যাস।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫