ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

বিগার জলপ্রপাত

মো: আবদুস সালিম

০১ এপ্রিল ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তোমরা জানো, জলপ্রপাতের দেখা মেলে পার্বত্য বা পাহাড়ি অঞ্চলে। সবুজ বন বা গাছপালার ভেতর দিয়ে গড়িয়ে নিচে নেমে আসে পানির ধারা। এমনি একটি জলপ্রপাতের কথা শোনাব তোমাদের। এর নাম ‘বিগার’ জলপ্রপাত। এটি অ্যালিনা পর্বতে অবস্থিত, যা রোমানিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে মিনি নদীর কাছাকাছি রয়েছে। পর্যটকেরা বিগার জলপ্রপাতটি দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছেন। তারা বলেছেন, জীবনে অনেক জলপ্রপাত দেখেছি, কিন্তু বিগার অপেক্ষাকৃত ছোট জলপ্রপাত হলেও তা যেন পৃথিবীর ভিন্ন রকমের একটি জলপ্রপাত।
স্থানীয়রা এই জলপ্রপাতটিকে বলে থাকে মিনিস ক্যানিয়নের মিরাকল। যে পাহাড়ে এটি রয়েছে সেই পাহাড়টি দেখতে গোলাকৃতির। প্রচুর গাছ। তাই সবুজ কারপেটের মতো লাগে দূর থেকে। শুনলে অবাক হবে, কেবল প্রায় আট মিটার উচ্চতা থেকে গড়িয়ে পড়ছে পানি। পানি আসছে গোলাকৃতির পাথরের গা বেয়ে। জলধারা দেখতে পাওয়া যায় চার দিকে অসংখ্য ধারায়। দূর থেকে ছোট এ জলপ্রপাতটিকে দেখতে ঝাড়বাতির মতো লাগে। অনেকে তাই এটিকে ঝাড়বাতি জলপ্রপাত বলে থাকে। নদীর কাছাকাছি যেখানে এই পানি পড়ে তা দেখতে অনেকটা মুক্তার দানার মতো লাগে। একটা বিশাল এলাকাজুড়ে পানি না পড়ে, বরং ছোট ছোট অংশে এসে (প্রচুর) তা ছড়িয়ে পড়ে। আর এটিই যেন এর আলাদা বৈশিষ্ট্য। এই জলপ্রপাতটিকে অনেকে বলে থাকেন ইংরেজিতে বিগার ¯িপ্রং। সেখানকার স্থানীয় ভাষায় ‘ইজভোলুর বিগার’ বলা হয়। এটাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্য ওয়ার্ল্ড জিওগ্রাফিও এটিকে বিশ্বের অনন্য জলপ্রপাত বলে আখ্যা দিয়েছে। এর পতিত পানি মিশে যাচ্ছে পাশের জলরাশিতে। দু’টি শহর ওরাভিটা ও বজগোভিসির মধ্যে এটি লক্ষ করা যায়। এর পানি আসছে পাহাড়ের চূড়া থেকে। সেই স্থানও গাছগাছালিতে ভরপুর। এই পানি চলে যাচ্ছে মিনিস নদীতে। এটি পূর্ব ইউরোপের ১২টি বিশেষ সৌন্দর্য (প্রাকৃতিক) বা দর্শনীয় স্থানের মধ্যে একটি।
নামকরা ম্যাগাজিন হাফিংটন পোস্ট এটাকে ‘এ ফেইরি লস’ বলে মন্তব্য করেছে। বিগার জলপ্রপাত নেচারাল পার্ক নেরাÑ বেউসনিতার একটি অংশ বলে জানা যায়। প্রচণ্ড শীতের সময় এর বয়ে যাওয়া পানি ক্রমে জমে গিয়ে কাচের মতো দেখায়। এবং এগুলো পরস্পর খুব কাছাকাছি থাকে, যা ক্রিস্টালের কোনো কিছু বলে মনে হয়। পাহাড় থেকে বয়ে আসা এর পানি পড়ার মনোরম শব্দেও মোহিত হয় অনেকে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫