ঢাকা, মঙ্গলবার,২৫ এপ্রিল ২০১৭

আলোচনা

হারিয়ে যাচ্ছে কবিগান

মোফাজ্জল হোসেন

৩০ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:০৫


প্রিন্ট

বাংলার লোকসঙ্গীতে বিভিন্ন ধারার গানের পরিচয় পাওয়া যায়। কিছু কিছু গান একক কণ্ঠে গীত। আবার কতক গীত হয় সমবেত কণ্ঠে। বাউল, ভাটিয়ালি, মারফতি, মুর্শিদি যেমন- রয়েছে এর অন্তর্ভুক্ত তেমনি রয়েছে কবিগান, লেটোগান, বারোমাসিক ইত্যাদি লোকসঙ্গীতের ভাণ্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ। লোকমানস থেকে উদ্ভূত সঙ্গীত যা সাধারণত শ্রুতি ও স্মৃতিকে নির্ভর করে বহমান আমরা তাকেই লোকসঙ্গীত বলে থাকি।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ বলে বাংলা লোকসঙ্গীতে রয়েছে ভাটিয়ালি সুরের প্রাধান্য। বাংলাদেশের প্রকৃতি সব অঞ্চলে এক নয়। তাই দেখা যায় উত্তরবঙ্গে ভাওয়াইয়া, পূর্বাঞ্চলে ভাটিয়ালি ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাউল মারফতি গানের সুর। বাংলার লোকসঙ্গীতে কবিগান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়ই কবিগানের আসর বসত।
শীতের কুয়াশার চাঁদর যখন সারা গ্রামকে ঘিরে রাখত, তখন গ্রামের লোক চাদর গায়ে দিয়ে কিংবা কম্বল জড়িয়ে কবিগানের আসরে বসত। লোকে লোকারণ্য হয়ে যেত গানের আসর। আর কবি গানের শিল্পীরা ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেই কবিয়াল আর কবিগান বিস্মৃতির অর্তল গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।
বাংলার নিজস্ব সম্পদ এ কবিগান। একাদশ শতাব্দী থেকে এই গান প্রচার ও প্রসার লাভ করে এবং ‘কবি’ শব্দে অভিহিত হয়ে আসছে। এই গীতের কণ্ঠশিল্পীদের কবিয়াল বলে। সাধারণত কবির আসরে দুটি দল থাকে। এক দল গান গেয়ে থামলে অপর দল তখনি তাঁর প্রত্যুত্তর ছন্দ বেঁধে গাইতে আরম্ভ করে। এই গীতের উত্তর ও প্রত্যুত্তর বুঝে সভাসদেরা কার জয় বা পরাজয় হলো তার মীমাংসা করে দেন।
অনেক কবিয়াল প্রথমে দিক বন্ধন করে আসরে গান আরম্ভ করতেন। কেহ ভক্তিমূলক গান গেয়ে আবার কেউবা শ্লেষাত্মক গানের আসর জমিয়ে তুলতেন। শ্রোতারা আনন্দ প্রকাশ করতেন করতালির মাধ্যমে। কবিয়ালরা আসরেই নতুন ভাবের গান রচনা করে প্রত্যুত্তর দিয়ে চমক লাগিয়ে দিতেন। কতইনা জনপ্রিয় ছিল সেই আমলে এ কবি গান। কিন্তু সমাজ পরিবর্তন সংস্কৃতির ধারা ও মানসিকতা পরিবর্তনের সাথে সাথে কবিগানের কদর হ্রাস পায়।
আমাদের শৈশবে মফস্বল শহর কিংবা গ্রামে জমজমাটভাবে কবিগানের আসর বসত। লোকেরা ছুটে যেত সেই গানের আসরে। কুয়াশাঘেরা শীতের রাতে কম্বল মুড়ি দিয়ে মানুষ গিয়ে বসতো কবি গানের আসরে। আজ সেসব যেন স্মৃতি হয়ে আছে। কবি গান হারিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির আঁধারে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫