ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৯ জুন ২০১৭

ফ্যাশন

ঐতিহ্যের বাংলা চলচ্চিত্র

জারীন তাসনিম

২৭ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ১৮:৩৪


প্রিন্ট

ফ্যাশন আধুনিক লাইফস্টাইলের অন্যতম অনুষঙ্গ। আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনাররা দেশীয় ফ্যাশনকে আজ নিয়ে গেছেন এক ভিন্ন অবস্থানে। তাদের মেধা ও সৃজনশীলতায় ফ্যাশন হয়ে উঠেছে আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে তুলে ধরার বিশেষ এক মাধ্যম। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পোশাকে মোটিফ হিসেবে উঠে এসেছে নকশিকাঁথা, পাখা, দেশীয় বাদ্যযন্ত্রসহ বাঙালির সমাজ ও কৃষ্টির বিভিন্ন উপাদান। ফ্যাশন ডিজাইনারদের প্রচেষ্টায় পোশাক শিল্প পেয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। পোশাক এখন কথা বলে। তুলে ধরে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্বপ্ন, আশা-আকাক্সক্ষা। বাঙালি ও বাংলা নববর্ষ বিকল্পহীন এক অভিযাত্রা।
বাংলাদেশের অন্যতম ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা। তিনি এ বছর তার নববর্ষ কালেকশনে মোটিফ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্র। প্রতিটি নববর্ষে আমরা নিজস্ব পরিচয়ে উদ্ভাসিত হয়ে নতুন নতুন সৃজনশীল ভাবনায় আপ্লুত হই। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙ নববর্ষের কালেকশনে বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি সময়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বাংলা চলচ্চিত্রের স্থিরচিত্রের বিভিন্ন অনুষঙ্গ নববর্ষের পোশাকে তুলে ধরেছেন।
১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট আবদুল জব্বার খান পরিচালিত ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সবাক বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। সেই থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের তৈরি হয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য। বিপ্লব সাহার শিল্পের সব মাধ্যমের প্রতিই রয়েছে রঙের মানুষ আর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা থেকেই চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করার এই আগ্রহ। শিল্পের অন্যতম মাধ্যম চলচ্চিত্রের ইতিহাসকে পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরার এই প্রয়াস। সেই কথাই তিনি তুলে ধরেছেন এভাবে : চলচ্চিত্রের প্রতি আমার পিছুটান সেই ছোটবেলা থেকেই। রুপালি পর্দার দুর্বার আকর্ষণে বারবার ছুটে গিয়েছি বিভিন্ন সিনেমা হলে। রুপালি পর্দার রঙিন মানুষগুলোকে এক নজর দেখার উচ্ছ্বাস তাড়িত করেছে আমায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাতে। শিল্পের বিশালতায় বিভিন্ন সময় কাজ করেছিÑ এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে।
‘রঙ’ ১৯৯৪ সাল থেকে এর ভিন্নধর্মী কাজের জন্য ফ্যাশন সচেতনদের কাছে জনপ্রিয়। সেই ‘রঙ’ থেকেই আজকের বিশ্বরঙ। শুরু থেকেই ফ্যাশন সচেতনদের জন্য নানা নিরীক্ষামূলক কাজ করেছি। এ দেশের ঐতিহ্যÑ শখের হাঁড়ি, নকশিপাখা, বাংলার পটচিত্র, রিকশা মোটিফ, কান্তজীউ মন্দির, টেরাকোটার মতো মূল্যবান মোটিফকে পোশাকের অলঙ্করণ হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় ফ্যাশনকে নিয়ে যেতে চেয়েছি সমৃদ্ধির শিখরে।
সেই ধারাবাহিতকায় ২০১৭ সালে এসে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি সময়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় বাংলা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন স্থিরচিত্রের অনুষঙ্গকে পোশাকের বর্ণিল অলঙ্করণ হিসেবে ব্যবহার করছি। এই প্রচেষ্টাটি নান্দনিকতায় রূপ নিয়েছে ঐতিহ্যে ‘বাংলা সিনেমা’ শিরোনামে।
বর্তমানে আকাশ সংস্কৃতির নামে যে আধুনিকতার অস্থিরতা বিরাজ করছে সামগ্রিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে, সেটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। এর মাধ্যমে আমরা আকাশ সংস্কৃতির নামে ভুল পথ দেখাচ্ছি পরবর্তী প্রজন্মকে, যা কখনো কাম্য নয়। চলচ্চিত্রের এই অস্থির সময়ে ‘ঐতিহ্যে বাংলা সিনেমা’ শীর্ষক এই উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিয়ে সংস্কৃতি ভাবনায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। শাড়ি, সালোয়ার, কামিজ লং কামিজ, পাঞ্জাবি, স্কার্ফসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাকে বাংলা চলচ্চিত্রের গল্প ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস প্রায় সব শ্রেণীর ক্রেতাদের পছন্দকে লক্ষ রেখে করা হয়েছে। পোশাকের রঙ ও ডিজাইন অভিনবত্ব ডিজাইনারের মুনশিয়ানাকেই তুলে ধরেছে। নতুন এই প্রচেষ্টা আমাদের ফ্যাশন জগতে নিংসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫