ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৪ আগস্ট ২০১৭

গৃহস্থালি

বৈচিত্র্যপূর্ণ মেঝে

ঝরনা রহমান

২৭ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ১৮:৩১


প্রিন্ট

ঘরের সাজে মেঝে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক আগে থেকেই মেঝের সাজকে ইন্টেরিয়রে খুব গুরুত্ব দেয়া হতো। তাই তো নানা ধরনের মোজাইকের ডিজাইন, উড, পাথর বিভিন্ন উপকরণে মেঝে নির্মাণ করা হতো। রঙের ব্যবহারও তখন মেঝের সাজের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হতো।
যেকোনো বাড়ির প্রথম আকর্ষণ এর মেঝে। কারণ বাড়িতে ঢুকতে প্রথমেই নজর পড়ে মেঝের ওপর। মেঝে বলতে এখন শুধু একটা ঘরের মেঝে বোঝায় না, বরং পুরো বাড়ি, এর সিঁড়ি, বারান্দা এমনকি কখনো ছাদকেও বোঝায়।
আজকাল মেঝের সাজে রয়েছে নানা উপকরণ। নানাভাবে মানুষ সাজিয়ে নিচ্ছে তার বাড়ির মেঝে। এগুলোর মধ্যে বেশি দেখা যায় টাইলস ও মোজাইক। যাদের সামর্থ্য আছে তারা মার্বেল পাথরেও মেঝে সাজিয়ে নেন। কারণ মার্বেল পাথর কিছুটা ব্যয়বহুল। রক্ষণাবেক্ষণে ঝামেলার জন্য অনেকেই কাঠের মেঝে নিতে চান না। তবে শৌখিন অনেকেই কাঠের মেঝেও তৈরি করে নেন।
মোজাইকের মেঝে দেখতে সুন্দর। দীর্ঘ দিন ভালো থাকে ও আভিজাত্যের ভাব থাকায় অনেকেই মোজাইকের মেঝে করে থাকেন। অসংখ্য উপকরণ ও ডিজাইন রয়েছে মোজাইকের মেঝেতে। নানা ধরনের পাথর ও গ্লাস ব্যবহার হয় মেঝেতে। সেগুলো থেকে আপনি সহজেই আপনার পছন্দ অনুসারে মেঝে সাজাতে পারেন। আবার একই সাথে নানা ধরনের উপকরণ ব্যবহার করেও আপনি মেঝের ইন্টেরিয়র করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার সৃজনশীলতা আপনাকে সাহায্য করবে।
টাইলস মেঝের সাজে এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপকরণ। দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় টাইলসের মেঝে অনেকেরই পছন্দ। দেশী ও বিদেশী দুই ধরনের টাইলসই বাজারে পাওয়া যায়। টাইলসের রঙ ও ডিজাইনের বৈচিত্র্য এতটাই বেশি যে, অনেকেই বাড়ির ভিন্ন ভিন্ন অংশে ভিন্ন ডিজাইনের টাইলস ব্যবহার করে থাকেন। সাধারণ মানের সাথে সাথে অনেক উন্নত মানের টাইলসও বাজারে পাওয়া যায়।
টাইলস ব্যবহারের সময় জায়গার বিষয়টি মনে রাখা জরুরি। সারা বাড়িতে একই টাইলস ব্যবহার করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে টাইলসের রঙ হালকা হলেই ভালো হবে। শিশু ও বয়স্কদের ঘরে লাল ও কালো রঙের টাইলস ব্যবহার না করাই ভালো। বাথরুমে মসৃণ টাইলস ব্যবহার না করে একটু রাফফেসের টাইলস ব্যবহার করুন। অন্য দিকে বাথরুমের মতো বারান্দার দেয়ালেও টাইলস দিতে পারেন। পরিষ্কার করা সহজ হবে। দেখতেও আকর্ষণীয় হবে।
মার্বেল পাথরের টাইলসের ক্ষেত্রে একই রঙ অথবা সাদার সাথে অন্য রঙের কম্বিনেশন করেও মেঝের ডিজাইন করা যায়। ব্যয়বহুল হওয়ায় এর ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এগুলো ছাড়াও কাঠ, পাথর, ফাইবার গ্লাস- এসবও আজকাল ব্যবহার হচ্ছে মেঝেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে। তবে এই উপকরণগুলো কোনো একটা নির্দিষ্ট ঘরে ব্যবহার করলেই বেশি ভালো হয়। কারণ এতে মেঝের সাজে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সাশ্রয়ী হয় এবং মেনটেন করাও সহজ হয়।
এসব উপকরণ ছাড়াও মেঝেকে সাজিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয় কার্পেট রাগ, রেক্সিন, শতরঞ্জি ইত্যাদি। তবে সবার আগে মনে রাখতে হবে মেঝে আপনি যা দিয়েই সাজান না কেন, সেটি যেন রুচিসম্মত হয়। সেগুলো যেন বাড়িয়ে দেয় আপনার বাড়ির আকর্ষণ।

লেখক : ইন্টেরিয়র ডিজাইনার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫