ঢাকা, শনিবার,১৯ আগস্ট ২০১৭

ক্রিকেট

শেষ পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন হেরাথ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৯:৪৪ | আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৯:৪৯


প্রিন্ট

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত-পাকিস্তানকে ২০০ রানের নিচে টার্গেট দিয়েও জয়ী হয়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। টাইগারদের সাথেও তাই কলম্বো টেস্টের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন তাদের অধিনায়ক। কিন্তু বাংলাদেশে কাছে হেরে যাওয়ায় হতাশা ঝরেছে হেরাথের কণ্ঠে।

বাংলাদেশের দলীয় স্কোর যখন ২২, তখনই টাইগার ইনিংসে জোড়া আঘাত হানেন লঙ্কান অধিনায়ক। পরপর দুই বলে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে আউট করেন হেরাথ। তখন হয়তো জয়ের কথাই ভাবছিলেন হেরাথ। ‘ভারত-পাকিস্তান পারেনি, তো বাংলাদেশও পারবে না!’ এমন ভাবনাতেই হয়তো বিভোর ছিলেন হেরাথ! তবে হেরাথের এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তামিম-সাব্বির- মুশফিকদের ব্যাটিংয়ে ভর করে শততম টেস্টে টাইগাররা পেয়েছেন ৪ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান অধিনায়ক বলেন, ‘১৯১ রানের লক্ষ্য। আমি ভেবেছিলাম, আমরা জিতব। আমরা ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন লো স্কোর (২০০ রানের নিচে টার্গেট) নিয়ে জিতেছিলাম। আমাদের হাতে তিন স্পিনার; তাই আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম এবারও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারব। দ্রুত দুইটি উইকেটও পেয়েছিলাম। কিন্তু লাঞ্চের পর তারা (তামিম-সাব্বিররা) আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে; আমাদের হাত থেকে ম্যাচ ফসকে যায় তখনই।

তবে নিজেদের হারকে খুবই স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক। বাংলাদেশ এর আগে লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৬ টেস্ট খেলেও একটিতেও জয় পায়নি। কিন্তু কাল কলম্বোর পি সারা ওভালে ১৫ বছরের খেদোক্তি ঝেড়েছে। ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।

এ ব্যাপারে হেরাথ বলেন, ‘আমি এটাকে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের বাজে একটি দিন বলব না। খেলায় উত্থান-পতন থাকবেই। আমি দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি। কিন্তু ট্রফি জিততে পারিনি। এটা বলব না যে, আমাদের সামর্থ্যরে ঘাটতি ছিল। আমাদের মনোসংযোগ ঠিক ছিল না। খেলোয়াড় হিসেবে আমি শুধু বলতে চাই, আমরা জয়ের ধারায় ফিরতে চাই। আমাদের ফোকাস সেখানেই’।

এর আগে ২০০৯ সালে গল টেস্টে পাকিস্তানকে ১৬৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল কুমার সাঙ্গাকারার নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা। জবাবে হেরাথের ঘূর্ণিতে পড়েন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। সর্বোচ্চ ২৮ রান করেছিলেন সালমান বাট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন খুররাম মনজুর। এরপর মোহাম্মদ ইউসুফের ব্যাট থেকে আসে ১২ ও আবদুর রউফের ১৩ রান। বাকিরা দুই অঙ্কই ছুঁতে পারেননি। ১১৭ রানে অলআউট পাকিস্তান। আর তাতে ৫০ রানের জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। চার উইকেট নেন রঙ্গনা হেরাথ।

এছাড়া লঙ্কানরা ২০০ রানের নিচে টার্গেট দিয়ে পরাস্ত করে উপমহাদেশের আরেক ক্রিকেট পরাশক্তি ভারতকে, ২০১৫ সালে। গল টেস্টে ভারতের সামনে ১৭৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় স্বাগতিকরা। আজিঙ্কা রাহানে, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মাদের কাছে এ লক্ষ্য ‘মামুলিই’ মনে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হয়নি।

উল্টো হেরাথের স্পিনের সামনে মুখথুবড়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া; অলআউট হয়ে যায় ১১২ রানে। শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি জিতে নেয় ৬৩ রানে। ৪৮ রান খরচায় ৭ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার হেরাথ। ভারত-পাকিস্তানকে ২০০ রানের নিচে লক্ষ্য দিয়ে জয় তুলে নেয়ায় কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষেও জয় দেখছিলেন হেরাথ! অতীত যা বলছে তাতে না দেখে পারেন না।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫