ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৯ জুন ২০১৭

প্রথম পাতা

তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্বেগ

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:২৯


প্রিন্ট

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে হত্যা কিংবা গুমের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারাই হোক, বা যেকোনো ধরনের হত্যাকাণ্ডই হোক, অবশ্যই তা উদ্বেগের কারণ। সরকারেরও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত’, বলেছেন তিনি। নিখোঁজ এক যুবকের র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর মারা যাওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার মধ্যে সোমবার ঢাকায় এক আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। বিডিনিউজ।
সরকারি বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে গুম-হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আগে থেকে করে আসছে বিএনপি। তিন দিন আগে উগ্রবাদী হামলার পর হানিফ মৃধা নামে ওই যুবকের মৃত্যুর পর তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা উঠেছে।
রিয়াজুল হক বলেন, ‘সরকারকে তদন্ত করে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। যতদিন আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারব না, ততদিন এ বিষয়ে কথা চলতেই থাকবে এবং একটি দুষ্টচক্র সেই সুযোগটা নেবে।’ র‌্যাব হানিফ মৃধাকে গত শুক্রবার জঙ্গি হামলার পর গ্রেফতারের দাবি করলেও তার পরিবার বলছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেয়া হয়েছিল।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকারকে এগুলো তদন্ত করে বের করতে হবে। কোনটি সঠিক, তা প্রমাণ করতে হবে সরকারকেই।’ ‘তাদের (সরকার) লোক যদি ধরে না থাকে, সেটিও প্রমাণ করতে হবে। আর যদি ধরে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক ও কাপেং ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সরকারের প্রতিশ্রুতি ও আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন রিয়াজুল হক।
গাইবান্ধায় সাঁওতালদের উচ্ছেদে সরকারদলীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেই তিনি বলেন, ‘তাদের ওপরে জুলুমটা রাষ্ট্রীয় মদদে হয়নি। কিছু স্বার্থান্বেষী লোক আপনাদের কাছ থেকে চাঁদা নিত, তা বন্ধ করে দেয়ার পরই নির্যাতন শুরু হয়।’ আলোচনা সভায় আদিবাসীদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়টিও আসে। এ বিষয়ে রিয়াজুল হক বলেন, ‘এটাই একমাত্র কারণ নয়। তবে কারণ যে নয়, তা নয়।’
কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো না হওয়ার সমালোচনা করেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। তিনি বলেন, ‘এসব সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দরকার। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এসব দূর করা সম্ভব না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম নারীর ওপর নিপীড়নে রাজনৈতিক মতার যোগসূত্রের বিষয়টি তুলে ধরেন। ‘ধর্ষকদেরও রাজনৈতিক দল থাকে, এ থেকে বের হতে না পারলে এসব অপরাধ কমবে না,’ বলেন তিনি।
মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ বলেন, ‘আদিবাসী নারীদের পথ আটকে কারা তাদের ওপর নির্যাতন করে, তা আমরা জানি। আমরা তা বুঝি; কিন্তু বলি না। কারণ বললেই পদপে নিতে হবে। কিন্তু আমাদের এই স্বাধীন দেশটাকে আমরা ত-বিত দেখতে চাই না বলেই আমরা কথা বলি।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক ও কাপেং ফাউন্ডেশনের সদস্য ফাল্গুনী ত্রিপুরা বলেন, ২০১৬ সালে সারা দেশে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ৫৩টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫৮ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ডেইলি স্টার ভবনে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সুলেখা মুরংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেনÑ উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের ডেপুটি কমিশনার ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের প্রধান ফরিদা ইয়াসমীন, মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের প্রতিনিধি হালিমা বেগম।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫