ঢাকা, সোমবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

হানিফের বন্ধু সোহেল কোথায়?

র‌্যাব কার্যালয়ে স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:২৯


প্রিন্ট

রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাব ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর মারা যাওয়া আবু হানিফের বন্ধু সোহেল এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করতে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন নিখোঁজ সোহেলের স্বজনেরা। গতকাল দুপুরে সোহেলের মা মমতাজ বেগম ও স্ত্রী নীপা এ লিখিত অভিযোগ করেন। র‌্যাব বলছে, তাদের হেফাজতে সোহেল নামে কেউ নেই। নিখোঁজ সোহেলকে খুঁজে বের করতে তারা কাজ করছেন। গতকাল সন্ধ্যায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সোহেলের স্ত্রী নীপা বলেন, সোহেল কোথায় আছে, কেমন আছে কিছুই জানতে পারছি না। পরিবারের অভিযোগ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাঁচপুর সেতুর ওপর থেকে নিখোঁজ হয় সোহেল। এ সময় তার সাথে হানিফও ছিল।
গত শুক্রবার দুপুরে আশকোনায় র‌্যাবের ক্যাম্পে এক যুবক আত্মঘাতী হওয়ার পর সন্দেহভাজন হিসেবে হানিফ মৃধা নামে এক যুবককে আটক করে র‌্যাব। জানা গেছে, র‌্যাব ব্যারাকে আত্মঘাতী হামলার পর র‌্যাব ওই এলাকায় অভিযান চালায়। বিকেল ৪টার দিকে র‌্যাবের অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে পড়ে আহত হয় হানিফ। পরে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই মারা যায় হানিফ। খবর পেয়ে পুলিশ পরদিন শনিবার বিকেলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এর পরই হানিফের নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে তার পরিবার। এ দিকে সোহেলের পরিবারের দাবি, রথ্যাবের হাতে আটকের পর মারা যাওয়া ওই হানিফ মৃধার বন্ধু ছিল সোহেল হোসেন।
সোহেলের মা মমতাজ সাংবাদিকদের বলেন, হানিফ আর সোহেল বন্ধু। সোহেলের এক মামা ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চালান। সোহেল হানিফকে নিয়ে তার মামার লঞ্চে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সে সময় সোহেল তার মামাকে বলেছিল, হানিফের গাড়ি তাদের নিতে আসবে। তাদের যেন কাঁচপুরে নামিয়ে দেয়া হয়। এ সময় তারা কাঁচপুর সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে থাকা হানিফের গাড়িটি লঞ্চের ছাদ থেকে মামাকে দেখান। তারা নামার পর মামা লঞ্চের ছাদ থেকে দেখতে পান, তারা গাড়িতে উঠতে গেলে কয়েকজন ধরে অন্য গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার মামা সাথে সাথে সোহেলের মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পান। এরপর তিনি বিষয়টি মমতাজ বেগমকে ফোন করে জানান। ফোন পেয়েই বরগুনা থেকে তিনি ঢাকায় ধলপুরে ছেলের বাসায় ছুটে আসেন।
কাঁদতে কাঁদতে মমতাজ বলেন, বিয়ের এক বছরের মাথায় স্বামীর সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তিনি ছেলেকে নিয়ে বরগুনা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভিা করে ছেলেকে বড় করেন। সোহেলই একমাত্র সন্তান। এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখার পর বিদেশে যায়। সেখান থেকে এসে ২০০৬ সালে বিয়ে করে। সে ঘরে এখন এক নাতি আছে। মমতাজের অভিযোগ, হানিফের পরিবারের সাথে রথ্যাব যোগাযোগ করেছে। তাদের সাথে করেনি। তাই আমার ছেলে কোথায়, কেমন আছে কিছুই জানি না। হানিফের মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর সোহেলকে নিয়ে আশঙ্কা হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও রথ্যাবকে অনুরোধ করছি, আমার ছেলেকে খুঁজে আমার কোলে ফিরিয়ে দিন।
হানিফের পরিবারের দাবি, হানিফের সাথে সোহেলকেও রথ্যাব ধরে নিয়ে গেছে। হানিফ ও সোহেলের নিখোঁজের বিষয়ে ৪ মার্চ হানিফের ভাই মো: হালিম মৃধা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করেন। জিডিতে সোহেলের নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানান সোহেলের স্ত্রী নীপা।
নীপা জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হানিফ ও সোহেল নিখোঁজ হলেও হানিফের ভাই গত ৪ তারিখে জিডি করেন। তিনি বলেন, লঞ্চ যখন চাঁদপুরে, তখন শেষবার স্বামীর সাথে কথা হয়। তারা হানিফের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে হানিফের বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তারা ভেবে ছিলেন হয়তো সোহেলও রথ্যাব-১ এর হেফাজতে আছে।
নীপা বলেন, আজ (সোমবার) বেলা দেড়টার দিকে আমরা র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ নিয়ে যাই। তখন র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের হেফাজতে সোহেল হোসেন নামে কেউ নেই। তারা সোহেলের নাম, পরিচয় ও ছবি নিয়েছেন। তাকে খুঁজে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। আমরাও কিছু চাই না, শুধু চাইÑ যে বা যারা সোহেলকে যেখানে নিয়ে থাকুক, তাকে সুস্থ শরীরের আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিক।
এ বিষয়ে রথ্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তাকে (সোহেল) খুঁজে বের করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫